• মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ১ ১৪২৮

  • || ০৫ জ্বিলকদ ১৪৪২

জাগ্রত জয়পুরহাট

অবসর নিয়ে মুখ্যসচিব এখন মমতার উপদেষ্টা

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১ জুন ২০২১  

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধের জেরে বিপাকে পড়েছিলেন রাজ্যটির মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকাল দশটায় রাজধানী দিল্লিতে গিয়ে তাকে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল। তবে মমতা তাকে ছাড়েননি। আলাপনও দিল্লি যাননি। পরে অবসর নেয়ার কথা জানানোর পর আলাপনকে নিজের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মমতা।

এর আগে অবশ্য আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে মঙ্গলবার দিল্লিতে গিয়ে দায়িত্ব নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মোদি সরকার। তবে আলাপন ততক্ষণে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব হয়েছেন হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। এমনিতে আলাপনের সোমবারই অবসর নেয়ার কথা ছিল। তবে করোনা ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য মমতা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিন মাস চাকরি বৃদ্ধির আবেদন করেন। নরেন্দ্র মোদির সরকার তাতে রাজিও হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ না দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার তাকে বদলি করে দেয়।

এরপরেও অবশ্য আলাপনকে শো কজ করা হয়েছে। ডাকা সত্ত্বেও কেন তিনি ইয়াসের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দেননি, তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সাবেক শীর্ষ আমলাদের বড় অংশের মত হলো, আলাপনকে শাস্তি দিতে পারবে না কেন্দ্রীয় সরকার। সাবেক কেন্দ্রীয় সচিব জহর সরকারের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার আর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। যেহেতু যথাসময়ে রাজ্য সরকার আলাপনকে ছাড়েনি, তাই তার পক্ষে সরকারি কর্মজীবনের শেষদিনে দিল্লিতে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মোদি সরকার নিতে পারবে না।

তিনি আরো জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনসঙ্গতভাবেই তাকে মুখ্য উপদেষ্টার পদে নিয়োগ করেছেন।

সাবেক মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, আলাপন ঠিক কাজ করেছে। আলাপন আইন ভাঙেননি। তাই তার বিরুদ্ধে কেন্দ্র কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।

মমতার দাবি, এমন নির্দয় ও নির্মম প্রধানমন্ত্রী দেখিনি। আমাকে পছন্দ করেন না বলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এটা করলেন।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট