• মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ১ ১৪২৮

  • || ০৫ জ্বিলকদ ১৪৪২

জাগ্রত জয়পুরহাট

১২৩ বছর আগে গ্রেফতার গাছ, শেকলে বন্দি আজো

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২১  

১২৩ বছর আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাকে। মুক্তি মেলেনি আজও। সারা গায়ে শিকল জড়িয়ে, বোর্ড লাগিয়ে সে দাঁড়িয়ে রয়েছে জনসমক্ষে। রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা বদলে গেছে, ভেঙ্গে গেছে পুরো দেশ। বদলে গেছে সব কিছু। শুধু বন্দি দশা থেকে মুক্তি পায়নি সে। কোনো অপরাধ না করেও এই ভাবে বন্দি অবস্থায় রয়েছে পাকিস্তানের পেশোয়ারের একটি বটগাছ। শুনলে মনে হয় অবিশ্বাস্য ঘটনা। কিন্তু পেশোয়ারে গেলে এই গাছ এখনো দেখতে পাবেন সবাই। চলুন জেনে নেয়া যাক কেন বন্দি করা হয়েছিল গাছটিকে?

জানা গেছে, ১৮৯৮ সালে পাকিস্তানের তোরখান সীমান্ত এলাকার লান্ডি কোটাল সেনা ক্যান্টনমেন্টে ব্রিটিশ সেনা অফিসার জেমস স্কুইড নাকি মদ খেয়ে নেশা করেছিলেন এক দিন। সেই নেশার ঘোরে হাঁটার সময় দেখতে পান, বটগাছটি তার দিকে তেড়ে আসছে। ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে সে অফিসারের হুকুম, অ্যারেস্ট করা হোক গাছটিকে। হুকুম মতোই কাজ হলো। পাইক-পেয়াদারা ছুটে এসে আষ্টেপৃষ্ঠে শিকল পরিয়ে দিল অত বড় গাছটিকে।

তখন থেকেই নাকি শিকলে বাঁধা রয়েছে বেচারা বটগাছ। তারপরে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায় পাকিস্তান। নতুন সরকারের শাসন শুরু হয়। তারপরে কালের নিয়ম মেনেই কত সরকার বদলে গেল। কিন্তু গাছটির ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এত বছর পরে, এখনো ওই বটগাছে একটি বোর্ড ঝুলছে। তাতে লেখা ‘আই অ্যাম আন্ডার অ্যারেস্ট’।

ওই এলাকার ৬০ বছর বয়সী আদিবাসী ইসলাম খান সিনওয়ারি বলেন, আমার দাদা ফাতেহ খান সিনওয়ারি আমাকে জানিয়েছেন, ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা জেমস একজন নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তিনি ১৮৯৮ সালে গাছটিকে শেকলে বন্দি করেন। 

তিনি আরো জানান, এ গাছ তাদের পারিবারিক সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে এটি দখল করে রেখেছিল। বর্তমানে এটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দখলে আছে। পর্যটকরা প্রায়ই গাছটি দেখতে আসেন।  

কেউ কেউ অবশ্য দাবি করেন, পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের লান্ডি কোটালের উপজাতি সম্প্রদায়কে ভয় দেখাতেই বটগাছকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয় ব্রিটিশরাজ। যাতে ওই এলাকার উপজাতিরা বুঝতে পারেন, কোনও রকম বিরুদ্ধাচারণ করলে, দরকারে এমন শাস্তি তাদেরও দেয়া হবে।

এ বিষয়ে পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মুখতিয়ার দুরানি জানিয়েছেন, ঘটনাটি মর্মান্তিক হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ব্রিটিশ শাসনের সময় উপজাতি বহুল এই এলাকায় আইন কানুন কতটা ভয়াবহ ছিল, তার উদাহরণ হয়েই রয়েছে এই বন্দী বটগাছ।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট