• মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

সামাজিক আচার মেনে হলো চারপেয়েদের বিয়ে

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২২  

অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে এবং ঊনবিংশ শতকের গোড়ায় বাঙালি বাবু সংস্কৃতিতে চারপেয়ে পোষ্যদের বিয়ে দেওয়ার ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন বাংলা সাহিত্যে পোষ্য বিড়ালের বিয়ের অনুষ্ঠানের বিবরণ রয়েছে। শুধু পোষ্যদেরই নয়, গাছেদেরও বিয়ে দেওয়া হতো ওই সময়ে।

বাবু সংস্কৃতি লোপ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শখে বিড়ালের বিয়ে দেওয়ার চলও গায়েব হয়ে যায়। কিন্তু ভারতের নানা প্রান্তে এখনও পোষ্যদের বিয়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে।

বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজছে। চারদিকে সাজ সাজ রব। নিজের ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন গুরুগ্রামের দুই দম্পতি। কিন্তু এ বিয়ে সাধারণ হয়েও যেন অসাধারণ। বিয়েতে বর-কনের পিঁড়িতে বসে রয়েছে দুই চারপেয়ে। এক হয়ে যাচ্ছে তাঁদের চার পা।

সমস্ত সামাজিক রীতি-নীতি মেনেই আয়োজন করা হয়েছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। রোববার গুরুগ্রামের পালাম বিহার এলাকার জৈল সিংহ কলোনিতে এই ঘটনা ঘটেছে। কনের নাম সুইটি। সবিতা ওরফে রানি দত্তক নিয়েছিলেন সুইটিকে। তার স্বামী রাজা একজন চা বিক্রেতা। এক সাক্ষাৎকারে রাজা জানিয়েছেন, তিনি এবং তার স্ত্রী রানি তিন বছর আগে সুইটিকে দত্তক নিয়েছিলেন।

রাজা নিয়মিত মন্দিরে গিয়ে রাস্তার পশু-পাখিদের খাবার খাওয়াতেন। এক দিন, সুইটি তাকে অনুসরণ করে বাড়ি চলে আসে। তার পরেই তাকে বাড়িতে রেখে দেন রাজা এবং রানি।

রাজা জানান, তার প্রতিবেশী রামসেবক নামের এক ব্যক্তির একটি পোষা কুকুর রয়েছে। নাম— শেরু। সম্প্রতি তিনি ঠাট্টা করে বলেন, তাদের কুকুর দু’টির বিয়ে দিলে কেমন হয়?

সুইটির কথা জিজ্ঞাসা করলে রানি জানান, তার কোনো সন্তান নেই। সুইটিকেই নিজের মেয়ের মতো ভালবাসেন তিনি। ‘‘আমাদের বাড়িতে আরও অনেক পোষ্য রয়েছে। আমি এবং আমার স্বামী দু’জন মিলে তাদের যত্ন নিই। সুইটির বিয়ে নিয়ে পাড়ার অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমরাও সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করে চার দিনের মাথায় পাত্র খুঁজে বিয়ে দিই। বিয়ের অনুষ্ঠানের সমস্ত আচার পালন করেই বিয়ে দেওয়া হয়েছে’’, বললেন রানি। বরের নাম শেরু। শেরুর দেখাশোনা করেন মনিতা নামে এক ব্যক্তি। শেরু প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গত আট বছর ধরে শেরু তাদের কাছে রয়েছে। শেরুর বিয়ে নিয়ে মনিতা এবং তার স্বামী দু’জনেই উৎসাহী।

মনিতা আরও বলেন, ‘‘গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, নাচ-গান কিছুই বাদ যায়নি তাদের বিয়েতে।’’ তিনি জানান, বিয়ে উপলক্ষে ১০০ জনকে নিমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল। ২৫ জনকে বিয়ের কার্ড পাঠালেও বাকিদের অনলাইন মাধ্যমে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শেরু এবং সুইটির বাবা-মা।

নিমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে মনিতা বলেন, ‘‘কেউ কেউ খুব পছন্দ করেছেন, কেউ আবার পছন্দ করেননি। কিন্তু বাবা-মা হিসেবে আমরা খুশি। কে কী ভাবলেন তা নিয়ে কিছু যায় আসে না।’’

তবে, সারমেয়দের বিয়ের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও ভারতে বহুবার কুকুরদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে উত্তর প্রদেশের কৌসাম্বি জেলায় বিয়ে দেওয়া হয় ‘শগুন-শগুনিয়া’র।

মালাবদল থেকে বিদায়— হিন্দু মতে বিয়ের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। পাঁচ হাজার অতিথিকে নিমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল এই অনুষ্ঠানে।

২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলার এক গ্রামে বিয়ে দেওয়া হয় ভুরি এবং কাল্লুর। বিয়ে উপলক্ষে বর কাল্লুকে ১১ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে বর এবং কনেপক্ষের তরফে ৫০০ জন অতিথিকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

অতিমারি চলাকালীন কেরলের এক দম্পতি তাদের পোষ্য কুকুর ‘অ্যাসিড’-এর বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অ্যাসিডকে যিনি প্রশিক্ষণ দেন, তার মাধ্যমে অ্যাসিডের জন্য পাত্রীও খুঁজে ফেলেছিলেন এ দম্পতি।

কনের নাম জাহ্নবী। বিয়ের মেনুর তালিকায় ছিল শুধু চিকেন বিরিয়ানি। কারণ, চিকেন বিরিয়ানি খেতেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে অ্যাসিড।

এক সাক্ষাৎকারে এ দম্পতি জানান, তাদের পরিবারে অ্যাসিডকে বাড়ির ছেলের মতো দেখা হয়। বিয়ের পর জাহ্নবীকেও দত্তক নেন বলে জানান এ দম্পতি।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট