• বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

  • || ০৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

যশোরে ‘বাঁশ কাবাব-বাঁশপাতার চা’ আনলো আইডিয়া পিঠাপার্ক

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২২  

‘সুস্থ যদি থাকতে চান, নিয়মিত বাঁশ খান’—ব্যতিক্রমী এ স্লোগান ধারণ করে যশোরের ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান আইডিয়া পিঠাপার্ক সংযোজন করেছে ‘বাঁশ কাবাব ও বাঁশপাতার চা’। বাঁশ খাওয়াকে ইতিবাচকভাবে ছড়িয়ে দিতে এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও ভেষজগুণসমৃদ্ধ খাবার ছড়িয়ে দেওয়ার মানসে নতুন এ দুটি খাবার যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার সাবেক সভাপতি শাহরিয়া ইয়াসমিন মীম জানান, আইডিয়া পিঠাপার্ক ‘বাঁশ কাবাব ও বাঁশপাতার চা’ খাবার সংযোজন করেছে। সরু তল্লা বাঁশের মধ্যে বিভিন্ন মসলা দিয়ে মেরিনেট করা মাংস কয়লায় পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে বাঁশ কাবাব। বাঁশের কচিপাতা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে বাঁশপাতার চা।

শাহরিয়া ইয়াসমিনের ভাষ্য, ‘বাঁশের নানা ঔষধি গুণ রয়েছে। কাঁচা বাঁশের মধ্যে থাকা রসে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে রান্না করা মাংস খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি ঔষধি গুণসমৃদ্ধও। বাঁশ পুড়িয়ে রান্না করা মাংসে যোগ হওয়া কাঁচা বাঁশের ফ্লেভারও খাবারে যোগ করছে ইউনিক স্বাদ। পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে বাঁশজাতীয় খাবার পরিচিত হলেও যশোরাঞ্চলে বাঁশ পুড়িয়ে করা কাবাবের প্রচলন এই প্রথম। যশোর শহরের খড়কিতে আইডিয়া পিঠাপার্কে এলেই মিলবে অনন্য স্বাদের এই খাবার।’

আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা ও পিঠাপার্কের প্রতিষ্ঠাতা যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন বলেন, এটি অভিনব ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ। কারণ বাঁশ ও বাঁশপাতার অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। বাঁশ কাবাব যদিও আদিবাসীদের উদ্ভাবন বলা চলে, আইডিয়ার কর্মীরা এর আধুনিকায়ন করেছেন। আর বাঁশপাতার চায়ের বিষয়টি একেবারেই ইউনিক। স্বাস্থ্য উপযোগী এ খাবারকে লালন করে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন, পরিবেশন ও জনপ্রিয় করে তোলার জন্য এ প্রচেষ্টা।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘বাঁশের রয়েছে বিস্ময়কর উপকারিতা। বাঁশ নিয়ে গবেষণায় আমরা কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও চীন, যুক্তরাজ্য, কোরিয়া এমনকী ভারতেও বাঁশের ওপর গবেষণা করে এর তৈরি খাদ্যপণ্য আমদানি- রপ্তানি করছে। গবেষণা থেকে প্রমাণিত বাঁশ ও বাঁশপাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মানুষের হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর। আবার এর অ্যান্টি এইজিং উপাদান চুল ও ত্বক সুস্থ রাখে। ফলে বার্ধক্যের ছাপ প্রতিরোধে সহায়তা করে।’

‘সাধারণ চায়ের মধ্যে ক্যাফেইন থাকে, যার ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। বাঁশের কচি পাতা দিয়ে তৈরি এই চায়ে কোনো ক্যাফেইন কিংবা ক্ষতিকর প্রভাব নেই। বরং এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও সিজনাল ফ্লু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে’, যোগ করেন এ সহকারী অধ্যাপক।

সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘বাঁশে রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক ও সিলিকা। এগুলো হাড়ের ঘনত্ব ও কোষের রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার বাঁশ পাতায় প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে, যা ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবে ব্যাপক কাজ করে। তাই আইডিয়া পিঠাপার্কের এ নতুনত্ব সত্যিই অসাধারণ।’

শুক্রবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় ঘরোয়া আয়োজনে ‘বাঁশ কাবাব ও বাঁশপাতার চা’-এর গুণাগুণ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বাঁশ কাবাব ও বাঁশপাতার চায়ের স্বাদ গ্রহণ করেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মর্জিনা আক্তার।

তিনি বলেন, আইডিয়ার চিন্তাধারা সবসময়ই অনন্য। শিক্ষার্থীরা এখানে উদ্যোগ গ্রহণ ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছে। তাদের নতুন এ দুটি খাবারের মান ও স্বাদে মন কেড়েছে।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট