• মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

যশোরে বিষমুক্ত বাঁধাকপির বাম্পার ফলন

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২২  

জেলায় শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি চাষে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে তারা বিষমুক্ত বাঁধাকপি বাজারজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন । বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, যশোরে উৎপাদিত বাঁধাকপির যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাঁধাকপি চলে যাচ্ছে দেশ-বিদেশের বাজারে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া বাঁধাকপি বিদেশে রফতানির কাজে কৃষকদের সাহায্য করছে। সদর উপজেলার চুড়মনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর ও  হৈবতপুর ইউনিয়নের শাহাবাজপুর গ্রামে সবজি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, আব্দুলপুর নুরপুর, বাগডাঙ্গা, দোগাছিয়া, সাজিয়ালী, শ্যামনগর ও কমলাপুরস হৈবতপুর, তীরেরহাট, মানিকদিহি, মথুরাপুর, শাহাবাজপুর, মুরাদগড়, কাশিমপুর, বিজয়নগর, দৌলতদিহি, বালিয়াঘাট, ললিতাদাহ, বালিয়াডাঙ্গা, বেনেয়ালী, ডহেরপাড়া, লাউখালী, নাটুয়াপাড়াসহ বিভিন্ন মাঠ আগাম শীতকালীন সবজিতে ভরা। যেদিকে নজর পড়ছে সেদিকেই দেখা মিলছে বাঁধাকপিসহ নানা প্রকারের সবজি ক্ষেত।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, দেশের সবজির একটি বড় অংশ উৎপাদিত হয় যশোরে।  গ্রীষ্মকালীন, আগাম শীতকালীন ও শীতকালীন এ তিন ভাগে বারো মাস সবজির চাষ হয়ে থাকে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয় যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপ্রু ইউনিয়নে। নতুন করে বাঘারপাড়া ও মণিরামপুরের কিছু এলাকা যোগ হয়েছে।

এবার যশোর সদর উপজেলায় আগাম শীতকালীন আগাম সবজির চাষ হয়েছে ২৮শ’ হেক্টর। শুধু মাত্র বাঁধাকপি চাষ হয়েছে ৬ শ’১৩ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে সবজি খ্যাত হৈবতপুর ইউনিয়নে ১৮০ হেক্টর, চুড়ামনকাটি  ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন বাঁধা কপির চাষ হয়েছে। ভরা মৌসুমে চাষের পরিমাণ আরও কয়েকগুন বাড়বে।

আব্দুলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম  জানান, তিনি বারো মাস বিভিন্ন সবজির চাষ করেন। তবে বেশির ভাগ জমিতে আবাদ করে থাকেন বাঁধা কপির। এবারও ১ বিঘা জমিতে আগাম শীতকালীন বাঁধা কপির চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনকূলে  থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বছর তার ক্ষেতের সবজি বিদেশে রপ্তানি হয়। এবারও বিদেশের বাজারের পাঠাবেন বলে আশাবাদী। রফিকুল ইসলাম আরও জানান, বিদেশে কপি রপ্তানি করে তারা বেশি লাভবান হন।

আরেক কৃষক রাজু আহমেদ জানান, বাঁধাকপি রপ্তানিতে কৃষকের মুখে থাকে হাসির ঝিলিক। শীতের শেষ দিকে স্থানীয় সবজির দাম একে বারে কম পাওয়া যায়। প্রতি পিস বাঁধাকপির দাম ৫ থেকে ৬ টাকায় এসে দাঁড়ায়। তাও অনেকে নিতে চাইনা। সেখানে রফতানিকারকরা প্রতি পিস বাঁধাকপি ১০ টাকা দরে কেনেন। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

শাহবাজপুর গ্রামের কৃষক শামসুল ইসলাম জানান, ২ বিঘা জমিতে আগাম শীত কালীন বাঁধা কপি চাষ করেছেন। ভরা মৌসুমে চাষের পরিমান বেড়ে হবে ৮ বিঘা। আগাম শীত কালীন হিসেবে এখন স্থানীয় বাজারে দাম বেশি।  তবুও বিদেশ রফতানি করলে আরও বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব।

চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপ্না রানী জানান, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর ও চুড়ামনকাটির মাঠে সবচেয়ে বেশি বাঁধাকপির চাষ হয়। এখানকার অধিকাংশ চাষি বিদেশে কপি রপ্তানি করে লাভবান হচ্ছেন। যে কারণে কপি চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মঞ্জরুল হক জানান, যশোর সবজির জেলা হিসেবে দেশে পরিচিত। এখানকার সবজির সুনাম অনেক। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশ বিদেশের বাজারে। ২০১৮ সাল থেকে যশোরের বাঁধাকপি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের বাজারে রপ্তানি শুরু হয়। ২০২১ সালে ৫৯০.৭২৪ টন বাঁধাকপি রপ্তানি করা হয়। যার বাজারমূল্য পাওয়া যায় ৯৫ লাখ ৮ হাজার ৩০৯ টাকা।

উল্লেখ্য, যশোর জেলায় এবার ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলন পেয়েছে। দামও পাচ্ছে অনেক। পুরো শীতকালে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট