• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৮ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

পদ্মায় ধরা ২১ কেজির বিপন্ন বাগাড়, ২৩ হাজারে বিক্রি

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২২  

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২১ কেজি ওজনের একটি বিপন্ন প্রজাতির বাগাড় মাছ। আজ বুধবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার অদূরে পদ্মা নদীতে স্থানীয় জেলে আক্কাস হালদারের জালে বাগাড়টি ধরা পড়ে। পরে মাছটি ২৩ হাজার ১০০ টাকায় মো. আলমগীর মোল্লা নামের স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী কিনে নিয়েছেন।

মো. আলমগীর মোল্লা বলেন, জেলে আক্কাস হালদার বাহিরচর ছাত্তার মেম্বারপাড়া এলাকার নদীতে জাল ফেলেছিলেন। বাগাড় মাছটি জালে ওঠার পর এটি বিক্রির জন্য তিনি সকাল সাতটার দিকে দৌলতদিয়া বাজারে রওশন মোল্লার মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন। এরপর নিলাম শুরু হয়। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মো. আলমগীর মোল্লা মাছটি ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে ২৩ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে কেনেন। কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা লাভে মাছটি বিক্রি করবেন তিনি। মাছটি ফেরিঘাটসংলগ্ন আড়তে রেখেছেন।

বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২২-এর তফসিল অনুযায়ী, বাগাড় বিপন্ন প্রজাতির মাছ। এ ছাড়া প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএনের লাল তালিকায় রয়েছে বাগাড় মাছ। এ কথা জানালে আলমগীর মোল্লা বলেন, ‘বাগাড় বিপন্ন প্রজাতির মাছ, এটি শুনেছি। কিন্তু আমাদের অঞ্চলে এ ধরনের মাছ ধরতে কেউ কখনো নিষেধ করেনি বা অভিযান পরিচালনা করেনি। আমরা ব্যবসায়ী, মাছ বাজারে উঠলে কিনে অন্যত্র বিক্রি করে কিছু টাকা লাভ করে সংসার চালাই। মাছগুলো প্রায়ই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারা কিনে নেন। এ জন্য জেলেরা বাগাড় মাছ ধরে আনার পর নিলামে তোলা হলে ব্যবসায়ীরা উৎসাহ দিয়ে কেনেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোয়ালন্দ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শাহারিয়ার জামান সাবু বলেন, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ছোট বাগাড় মাছ ধরা যাবে না। তবে বড় বাগাড় মাছ ধরা বা খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। বাগাড়কে বিপন্ন মাছ হিসেবে চিহ্নিত করে তা ধরতে কোনো নিষেধাজ্ঞা এ পর্যন্ত তাঁদের কাছে আসেনি। নির্দেশনা এলে শিগগির এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট