শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪ || ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১০:২৭, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভুট্টার ফলন ও দামে বেজায় খুশি চাষিরা

ভুট্টার ফলন ও দামে বেজায় খুশি চাষিরা

চলতি মৌসুমে ভুট্টার ফলন ও দামে বেজায় খুশি জেলার চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী, ফলন ও খরচের বিপরীতে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় কৃষকদের পছন্দের ফসল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ভুট্টা। এ পণ্যটির বাজারদর ভালো পাওয়ায় অতীত সময়ের ভুট্টা চাষের কষ্টের স্মৃতি ভুলে গিয়ে খুশিতে রয়েছেন জেলার ভুট্টা চাষিরা।

তাছাড়া ভুট্টা চাষ বছরের অধিকাংশ সময়ে আবাদ করা সম্ভব। তাই বর্তমান সময়েও অনেক চাষি ভুট্টা চাষ করছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ভুট্টা চাষ করে তেমন কোনো ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি তাদের। যার ফলে খরচের বিপরীতে দ্বিগুণ লাভের মুখ দেখছেন তারা। তাছাড়া বাজারে ভুট্টার চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ভুট্টা চাষ তার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আর সেই সঙ্গে চলতি মৌসুমে ভুট্টার ফলন ও দামে বেজায় খুশি জেলার চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী, ফলন ও খরচের বিপরীতে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় কৃষকদের পছন্দের ফসল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ভুট্টা। এ পণ্যটির বাজারদর ভালো পাওয়ায় অতীত সময়ের ভুট্টা চাষের কষ্টের স্মৃতি ভুলে গিয়ে খুশিতে রয়েছেন জেলার ভুট্টা চাষিরা।আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনের পাশাপাশি বাজারদর ভালো হওয়াই লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তাছাড়া বর্তমানে দেশে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রবি ও খরিপ মৌসুমে এ বছর নওগাঁয় ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়েছিল। যেখানে ৯০ হাজার ৪২০ টন ভুট্টার ফলন পাওয়া গেছে। গত বছর ৭ হাজার ৩১০ হেক্টর জমি থেকে ৮৫ হাজার ৩৭৭ টন ভুট্টা পাওয়া যায়। এর আগের বছর ২০২১ সালে ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়েছিল। যেখানে ৭৮ হাজার ২৪০ টন ভুট্টা উৎপাদিত হয়। এই তিন বছরে সানশাইন, সুপার সাইন, মিরাক্কেল, ডন, ১১১ জাতের ভুট্টা আবাদ করেছেন জেলার চাষিরা। এই হিসাব অনুযায়ী গত ৩ বছরের ব্যবধানে জেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ কমলেও উৎপাদন বেড়েছে ১২ হাজার ১৮০ টন।

আত্রাই উপজেলার বৃহত্তর ভুট্টা কেনাবেচার হাট বান্দাইখাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই মাস আগে জেলাজুড়ে একযোগে ভুট্টা মাড়াই শুরু হওয়ায় বাজারে আকস্মিক আমদানি বেড়ে যায়। এতে প্রতি মণ ভুট্টা ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা দরে কিনেছিলেন ব্যবসায়ীরা। ওই মুহূর্তে কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে অনেক চাষি উৎপাদিত ভুট্টা মাড়াই না করেই মজুত করতে শুরু করেন। এতে বাজারে ভুট্টার আমদানি কমে যাওয়ায় হু হু করে বাড়তে থাকে দাম। বর্তমানে প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা মণ দরে কিনছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা এখন মজুতকৃত ভুট্টা মাড়াই করে আবারও বাজারমুখী হয়েছেন।

ভুট্টা চাষি মোজাম্মেল হক বলেন, ৪ বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদের পর থেকে কাটা মাড়াই পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ গুনতে হয়েছে। শুরুতে ৮৫০ টাকা মণ দাম থাকায় ভুট্টা বাড়িতেই মজুত করেছিলাম। এখন ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে ভুট্টা কিনছেন ব্যবসায়ীরা। এভাবে ভুট্টার দাম বেশি থাকলে চাষিদের মাঝে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বাড়তে থাকবে। রানীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, সরিষা ও পাটের ফলন কম পাওয়ায় পাঁচ বছর ধরে তিন বিঘায় ভুট্টার আবাদ শুরু করেছি। গত বছর সানশাইন জাতের ভুট্টা আবাদ করে ওই জমি থেকে ৮৫ মণ ভুট্টা পেয়েছিলাম। এ বছর পরিচর্যা কম করায় ৬৩ মণ ফলন পেয়েছি। বাড়িতে বসেই উৎপাদিত ভুট্টা প্রায় ৫৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে।

ভুট্টা ব্যবসায়ী আলম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সোহেল রানা বলেন, ভরা মৌসুমে বাজারে আমদানি বেশি থাকায় দৈনিক ৩০০ মণ করে ভুট্টা কিনতাম। এখন আমদানি কমে যাওয়ায় চাষিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভ্যানযোগে দৈনিক ১০০ মণ করে ভুট্টা কেনা হচ্ছে। বাড়িতে ভুট্টা না পেলে বাজারে গিয়েও কিনতে হয়। বর্তমানে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে ভুট্টা কেনার পর তা মিলে এনে শুকিয়ে গুদামে সংরক্ষণ করছি। এসব ভুট্টা দৈনিক বগুড়া ও পাবনার বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আলুর চেয়ে ভুট্টা বেশি লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এখন ভুট্টা চাষে মনোযোগী হচ্ছেন। চাষিদের ভুট্টা আবাদের শুরু থেকে কাটা মাড়াই পর্যন্ত কৃষি পরামর্শ দেয়ায় অল্প জমিতেই এখন ভুট্টার বাম্পার ফলন হচ্ছে। তাই আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও গত তিন বছরের ব্যবধানে জেলায় ভুট্টা উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।তিনি আরও বলেন, নওগাঁসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোয় বেশ কিছু ফিড মিল গড়ে উঠেছে। যেখানে প্রচুর পরিমাণে ভুট্টার চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। তাই তুলনামূলকভাবে বিগত বছরের তুলনায় বর্তমানে ভুট্টার বাজার ঊর্ধ্বমুখী। একদিকে ন্যায্যমূল্য, অন্যদিকে উন্নত জাতের ব্যবহারে অল্প জমিতেই বাম্পার ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। তাই আগামীতে ভুট্টার আবাদে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

জাগ্রত জয়পুরহাট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ