শুক্রবার   ১৪ জুন ২০২৪ || ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১০:৪২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আউশের ফলন ও দামে খুশি কৃষক

আউশের ফলন ও দামে খুশি কৃষক

আউশের ফলন ও দামে বেশ খুশি জেলার ৫ উপজেলার কৃষক। প্রতি হেক্টরে আউশ ধান সাড়ে ৪ টন ফলেছে। প্রতিমণ ধান ৯৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাম্পার ফলনের পর ধানের ভালো দাম পেয়ে জেলার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. অরবিন্দু কুমার বায় বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় এ বছর ৩ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষাবাদ হয়েছে। এ জেলায় ব্রিধান-৮২. ব্রিধান-৯৮,ব্রিধান-৮৫, ব্রিধান-৪৮, ব্রিধান-৪৩, ব্রিধান-১১, ব্রিহাইব্রড ধান-৭সহ স্থানীয় জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়। কৃষক আউশের  উচ্চ ফলনশীল জাতে হেক্টর প্রতি কৃষক সাড়ে ৪ টন, হাইব্রিড জাতে সাড়ে ৬ টন ও স্থানীয় জাতে ২.২৭ মেট্রিক টন ফলন পেয়েছেন। গড়ে গোপালগঞ্জ জেলায় হেক্টর প্রতি সড়ে ৪ টন আউশ ধান ফলন দিয়েছে। সেই হিসেবে এ জেলায় ১৪ হাজার ৭৩৭.৫০ মেট্রিক টন আউশ ধান উৎপাদিত হয়েছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিটুল রায় বলেন, আমরা কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ব্লকের আউশ ধানের নমুনা ফসল কর্তন করেছি। পরে এসব ধান পরিমাপ করা হয়। এতে হেক্টর প্রতি কৃষক সাড়ে ৪ টন ফলন পেয়েছেন। ওই কর্মকর্তা আরা বলেন, গোপালগঞ্জের কৃষকরা সাধারণত বোরো মৌসুমে ধান চাষাবাদ করেন। কিন্তু আউশ মৌসুমে জমি পতিত ফেলে রাখেন। এ বছর ধানে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা কৃষকদের আউশ ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করি। আমরা তাদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীট নাশকের ব্যবস্থা করে দেই। সেই সাথে তাদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরণের সহযোগিতা করি। তারা এ বছর আউশ ধান করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন।

কোটালীপাড়া উপজেলার দীঘলিয়া গ্রামের কৃষক সঞ্জয় বিশ্বাস (৬০) বলেন,আমরা আউশ আবাদ ছেড়ে দিয়েছিলাম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ বছর আউশ আবাদ করেছি। আউশে সেচ দিতে হয়না। সার ও কীট নাশক কম লাগে । তারপর আউশের বাম্পার  ফলন পেয়েছি। ধান কাটার পর  প্রতি মণ ৯৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। বাম্পার ফলনের পর ভা লো দাম পেয়ে আমি খুশি।

একই গ্রামের কৃষক আদিত্য মন্ডল (৫৫) বলেন, আমাদের এলাকার জমি নিচু। বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে যায়। জমিতে ছিটিয়ে দিয়ে  স্থানীয় জাতের আউশের ফলন ভালো পেয়েছি। আগামীতে লাভজনক আউশ চাষ আরো বৃদ্ধি করবো। কোটালীপাড়া ধান ব্যবসায়ী ফখর উদ্দিন (৪০) বলেন, কয়েক দিন আগে প্রতিমণ ধান ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এখান ধানের দাম কমেছে। তারপরও কৃষক প্রতিমণ ধানের দাম ৯৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পাচ্ছে। বজারে ধানের চাহিদা কমেছে। তাই এই অবস্থা হয়েছে। চাহিদা বাড়লে কৃষক ধানের আরো বেশি দাম পাবেন।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও জ্যৈষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা  ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইাসলাম বলেন, ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। সেই সাথে  আমরা কৃষকের আয় বাড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছি। তাই আমরা বোরো, আউশ ও আমন মৌসুমে সমানভাবে কৃষককে দিয়ে ধানের চাষাবাদ করাতে চাই। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। কৃষকরাও আমাদের সহযোগিতা করছেন। এ কারণে  গোপালগঞ্জে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে।

জাগ্রত জয়পুরহাট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ