শনিবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৪ || ২৯ চৈত্র ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৭:২৫, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

‘স্কোয়াশ’ চাষে প্রথম বারেই বাজিমাত

‘স্কোয়াশ’ চাষে প্রথম বারেই বাজিমাত
সংগৃহীত

লাউ জাতীয় বিদেশি সবজি স্কোয়াশ। উপরে বিবর্ণ সবুজ রঙ। অনেকটা দেশীয় মিষ্টি কুমড়ার মতো দেখতে উপরের অংশ। আর ভেতরের অংশ পুরোটাই দেশীয় লাউয়ের মতো। আর এই সবজি খাওয়ার প্রক্রিয়াউ লাউয়ের মতো। বিদেশি এই সবজিটি ইউটিউব দেশে পরীক্ষামূলক চাষে প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মো. জহির আলী। 

মো. জহির আলী জানান, দুই বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন তিনি। এই সবজি চাষে তার মোট খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। ফলনও তার ভালো হয়েছে। স্কোয়াশ চাষ করে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা আয় করেছেন এই কৃষক। জমিতে এখন পর্যন্ত যে স্কোয়াশ সবজি আছে সেগুলো বিক্রি করে আরো এক লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশাবাদী। 

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বাসিন্দা মো. জহির আলী। তিনি এর আগে বেশ কয়েকবছর প্রবাসে ছিলেন। গত আট মাস আগে দেশে ফিরে সবজি চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হোন তিনি। শুরুতে ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ শুরু করেন। পরবর্তীতে ইউটিউব এবং ইন্টারনেটে বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের ভিডিও দেখে স্কোয়াশ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে দুই বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। পরীক্ষামূলক এই চাষে শুরুতেই তিনি বাজিমাত করেছেন। 

তিনি জানান, সিলেটের অন্যান্য জেলাতে স্কোয়াশ চাষ হলেও জেলাতে এই প্রথম তিনিই চাষ করেন। এটি বারি স্কোয়াশ-১ নামে একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। এটি চাষে বেলে-দোঁয়াশ মাটি বেশি উপযুক্ত। শীতকালীন চাষাবাদের জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বীজ বপন করা হয়ে থাকে। তবে আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য অনেকে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন করা হয়ে থাকে। বীজ বপনের ৪৫ দিনের মধ্যে ফলন চলে আসে। ৫০ থেকে ৫২ দিনের মধ্যে এই ফলন বিক্রি করা যায়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের রায়খাইল এলাকায় মো. জহির আলী তার অনাবাদী জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। এরমধ্যে একদফা স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন তিনি। গাছগুলোতে আরো কিছু স্কোয়াশ রয়েছে। সেগুলো দুইজন শ্রমিক পরিচর্যা করছেন। এই জমির প্রতিটি স্কোয়াশের ওজন আধা কেজি থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত। 

মো. জহির আলী বলেন, প্রবাস থেকে অনেক কষ্ট করেছি। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে এই পরিমাণ কষ্ট করে আমি যে টাকা উপার্জন করেছি এর চেয়ে বেশি টাকা আমি দেশে সবজি চাষ করে উপার্জন করেছি। আমার কিছু অনাবাদি জমি ছিল সেগুলোতে প্রথমে আলু, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজি চাষ করেছি। পতিত জমিতে সবজি চাষ শুরু করি। 

পতিত অনাবাদি জমিতে চাষাবাদের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, পতিত জমিতে চাষাবাদের প্রধান সমস্যা হল পর্যাপ্ত পানি। আমাদের এখানে এখানে পানির সমস্যা আছে। এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না থাকায় চাষাবাদ করতে সমস্যা হচ্ছে। এখানে একটি ডিপটিউবয়েল বসানো গেলে আরো অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা যেত। 

সিলেট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, স্কোয়াশ একেবারে নতুন একটি সবজি। এর আগে বিভিন্ন এলাকাতে স্কোয়াশ চাষ হয়েছে। কিন্তু সিলেট জেলায় এই সবজি চাষ হতো না। দক্ষিণ সুরমায় আমাদের একজন প্রবাসী কৃষক নতুনভাবে শুরু করেছেন। তবে নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্কোয়াশের যে আবাদ হচ্ছে তাতে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। এটি লাউ জাতীয় সবজি। সিলেটে লাউ ব্যাপক পরিমাণে চাষ হয়। তাই স্কোয়াশ চাষেরও ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। এই প্রবাসী কৃষকের উদ্যোগ দেখে অন্যান্য কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছে। আশা করছি, আগামীতে স্কোয়াশের আবাদ আরো ব্যাপক হবে।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ

শিরোনাম

আয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দনসুইজারল্যান্ডে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় কিঈদের দিন ৩ হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীরঈদের জামাতে নামাজরত অবস্থায় ভাইয়ের মৃত্যু, খবর শুনে মারা গেলেন বোনওসদরঘাটে শেষ বিল্লালের পুরো পরিবারবৈসাবি উৎসবের আমেজে ভাসছে ৩ পার্বত্য জেলাব্যাংক ডাকাতি থেকে বাঁচতে জয়পুরহাটে কড়া নিরাপত্তাএলাকায় মসজিদ ছিল না, জমি কিনে মসজিদ বানালেন সবজি বিক্রেতাবায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢলআজ ঈদ, মুসলমানদের ঘরে আনন্দের বন্যাভারতে পাচারের সময় কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধারজাহাজে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন জিম্মি নাবিকরা