শনিবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৪ || ২৯ চৈত্র ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রঙিন ফুলকপি চাষে কৃষকের মুখে হাসি

রঙিন ফুলকপি চাষে কৃষকের মুখে হাসি
সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় নওদা ক্ষেমিরদিয়াড় ও ইসলামপুর এলাকায় রঙিন ফুলকপি চাষ করে চমক দেখিয়েছেন সাইদুল ইসলাম ও সারিজুল ইসলাম নামের দুই কৃষক। বেগুনি ও হলুদ রঙের এই ফুলকপি দেখতে খুবই সুন্দর। খেতেও সুস্বাদু, পুষ্টিগুণও রয়েছে অধিক। 

চলতি শীত মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথমবার এমন ব্যতিক্রম সবজির চাষ করে সাড়া ফেলেছেন এ দুই কৃষক।

ক্ষেত দুটিতে সবুজ পাতার ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে রঙিন ফুলকপি। একটি ক্ষেতের ফুলকপির রং বেগুনি, অপরটির হলুদ। বাহারি রঙের ফুলকপি দুটির নামও সুন্দর। বেগুনি রঙের ফুলকপির নাম ভ্যালেন্টিনা আর হলুদ রঙের ফুলকপির নাম ক্যারোটিনা।

ভেড়ামারায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে রঙিন ফুলকপির চাষাবাদ। দেখতে সুন্দর, খেতে সুস্বাদু এবং বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় এর দামও বেশ ভালো।

ভেড়ামারার কৃষকরা সাদা জাতের ফুলকপি চাষ করলেও এবার চাষ করেছেন রঙিন জাতের ফুলকপি। বাজারে এ জাতের ফুলকপির দাম ভালো পাওয়ার চাষিদের মুখে হাসি।

এই উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে এ রঙিন ফুলকপি চাষ ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনীসহ উপকরণ চারা, সার, জৈব,বালাইনাশক দিয়ে সহযোগিতা করছে ভেড়ামারা কৃষি অফিস।

প্রথমে কেউ আগ্রহ দেখাননি। পরে নওদা ক্ষেমিরদিয়াড় গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান ২০ শতাংশ জমিতে এই প্রথম রঙিন ফুলকপি পরীক্ষামূলকভাবে চাষের উদ্যোগ নেন। তিনি কৃষি অফিস থেকে ফুলকপির চারা, জৈব সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে রঙিন ফুলকপি চাষ শুরু করেন এবং সফল হয়েছেন।

তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়া ও চীনসহ অন্যান্য দেশে এ জাতের ফুলকপি সালাদ হিসেবে খাওয়া হয়। সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। দেখতেও সুন্দর।

তার মতে, সাধারণ ফুলকপি চাষের যে পদ্ধতি ওই একই পদ্ধতিতে রঙিন ফুলকপি চাষ হয়। খরচ ও পরিশ্রম একই। শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফুলকপি চাষ করা যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রবি মৌসুমে ৭৬৭ হেক্টর জমিতে ফুলকপির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১৯১ হেক্টর, ভেড়ামারা উপজেলায় ২৩০ হেক্টর, খোকসা উপজেলায় ২২ হেক্টর, কুমারখালী উপজেলায় ৫১ হেক্টর, মিরপুর উপজেলায় ৭৮ হেক্টর এবং দৌলতপুর উপজেলায় ১৯৫ হেক্টর জমিতে সাদা ফুলকপির চাষ হয়েছে।

স্থানীয় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল হক জানান, চারা রোপণের পর থেকে আড়াই মাসের মধ্যে জমি থেকে রঙিন ফুলকপি তোলা যাচ্ছে। এই ফুলকপি চাষে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে না। শুধু জৈব সার ছিটানো লাগে।

উপজেলার নওদা ক্ষেমিরদিয়াড় গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম জানান, এই রঙিন ফুলকপির চাষ কোনো দিন করিনি। পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজির আবাদ করি। কিছুদিন আগে ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন উচ্চমূল্যের সবজি চাষের ওপরে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। সেখানে জানতে পারি, সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপি বেশি লাভজনক। তাই কৃষি অফিসের পরামর্শে ও সহযোগিতায় আমি ২০ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। বিষমুক্তভাবে চাষ করছি। পোকা মারার জন্য হলুদ ফাঁদ এবং সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করছি। তিনি আরো বলেন, ভালো ফলন ও সাধারণ ফুলকপির চেয়ে বেশি দাম পাওয়ায় উৎসাহী হয়ে আগামী মৌসুমে পুরো জমিতেই এই রঙিন ফুলকপি চাষ করবো।

ইসলামপুর গ্রামের সারিজুল ইসলাম জানান, মরিচ, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুনের চাষ করি। এ বছর রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। বাজারে এ রঙিন ফুলের দাম বেশি। কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার, পরিচর্যার খরচও দিয়েছে। আগামীতে এই এলাকায় অনেকেই এ চাষ করবে।

রঙিন ফুলকপি চাষে উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের নওদা ক্ষেমিরদিয়াড় গ্রামের সাইদুর রহমান ও ইসলাম পুর গ্রামের সারিজুল ইসলামের সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

তাদের এই রঙিন ফুলকপির সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন কৃষকসহ উৎসুক মানুষ। তারা কেউ কেউ রঙিন ফুলকপি কিনছেন, কেউ চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।

এলাকার মানুষ আগ্রহী হয়ে ভালো দাম দিয়ে খেত থেকেই এই ফুলকপি কিনে নিচ্ছেন। বাজারে নেয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এসব রঙিন ফুলকপি। মাঝারি আকৃতির একেকটি ফুলকপি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বিশ্বনাথ পাল বলেন, রঙিন ফুলকপির মধ্যে রয়েছে বিটা কেরোটিন এবং এন্টি অক্সডিন্টে থাকার কারণে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। মানব শরীরের ক্যান্সার ও হৃদ রোগের ঝুঁকিগুলো অনেকাংশে কমায়। চোঁখ ও ত্বককে সুন্দর রাখে। পুষ্টির চাহিদাটাও মেটাতে অতি সক্ষম হয়।

ভেড়ামারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অফিসার মাহমুদা সুলতানা বলেন, পুষ্টিগুণ ও বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপি চাষ বেশি লাভজনক। অত্র উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে মোকারিমপুর ইউপির ২টি গ্রামে রঙিন ফুলকপি চাষ করা হয়েছে। রঙিন ফুল কপি চাষের জন্য অফিস থেকে সার ও বীজ সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। দেখতেও নজর কাড়ার মতো। ফলন ভালো হওয়ায় আগামিতে ব্যাপকভাবে রঙিন ফুল কপির চাষ হবে এই উপজেলায়। রঙিন ফুল কপি চাষ করা দেখে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামিতে কৃষকরা দক্ষতার সঙ্গে রঙিন ফুলকপির চাষাবাদ করবে বলে আশা ব্যাক্ত করেছেন।

অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, কৃষকের মধ্যে কৃষিবিষয়ক নতুন তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী বছর রঙিন ফুলকপির চাষির সংখ্যা আরো বাড়বে। বাজারে রঙিন ফুলকপির চাহিদাও বেশ। বাজারে নিয়ে বসে থাকতে হয় না আগ্রহ নিয়ে ক্রেতারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রঙিন ফুলকপি পুষ্টিকর এবং খেতেও সুস্বাদু বলে জানান তিনি।

এরইমধ্যে কৃষকরা এ রঙিন ফুলকপি বাজারজাত করে বেশ ভালো লাভবান হচ্ছে। পুষ্টিগুণ এবং বাজারে দাম ভালো হওয়ায় কৃষকরা বেশ আগ্রহী এ রঙিন ফুলকপি চাষে। কৃষকরা বলেন, চাষ পদ্ধতি সাদা ফুলকপির মতো হলেও সাদা ফুলের তুলনায় রঙিন ফুল কপি বেশি লাভজনক বলে জানান কৃষকরা। 

সূত্র: ডেইলি-বাংলাদেশ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ

শিরোনাম

আয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দনসুইজারল্যান্ডে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় কিঈদের দিন ৩ হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীরঈদের জামাতে নামাজরত অবস্থায় ভাইয়ের মৃত্যু, খবর শুনে মারা গেলেন বোনওসদরঘাটে শেষ বিল্লালের পুরো পরিবারবৈসাবি উৎসবের আমেজে ভাসছে ৩ পার্বত্য জেলাব্যাংক ডাকাতি থেকে বাঁচতে জয়পুরহাটে কড়া নিরাপত্তাএলাকায় মসজিদ ছিল না, জমি কিনে মসজিদ বানালেন সবজি বিক্রেতাবায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢলআজ ঈদ, মুসলমানদের ঘরে আনন্দের বন্যাভারতে পাচারের সময় কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধারজাহাজে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন জিম্মি নাবিকরা