বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ || ১১ বৈশাখ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১২:১৫, ১ মার্চ ২০২৪

লেটুস পাতা চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা

লেটুস পাতা চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা
সংগৃহীত

টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে ‘নিরাপদ উচ্চমূল্যের সবজি’ চাষের আওতায় বিদেশি লেটুস পাতা আবাদে ঝুঁকছেন যশোরের শার্শা উপজেলার চাষিরা। দেশে ও বিদেশে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই লেটুস পাতার চাহিদা রয়েছে। ফলে লেটুস পাতা চাষে আগ্রহী হয়েছে উঠছেন কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলার সদর ও উলাশী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় এ বছর ১৩২ শতক জমিতে লেটুস পাতার চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা বলেন, গতানুগতিক অলাভজনক ফসলের চাষ থেকে বেরিয়ে শার্শার কৃষকরা নিরাপদ উচ্চমূল্যের বিদেশি নতুন নতুন জাতের ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

তিনি বলেন, প্রাচীন মিসরীয়রা আগাছা থেকে সর্বপ্রথম লেটুসের আবিষ্কার করেন। তারপর গ্রিক এবং রোমানদের কাছে তেলসমৃদ্ধ বীজের কারণে এই উদ্ভিজ্জ লেটুস পাতা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আস্তে আস্তে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা লেটুসের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে লেটুসের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতি লাভ করে।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পানবুড়ি গ্রামের যদুনাথপুর (হাড়িখালি) ব্লকের কৃষি জমিগুলোতে বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি শাক-সবজির পাশাপাশি ২০ শতক জমিতে চাষ হচ্ছে লেটুস পাতার।

লেটুস পাতা চাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে চাষি লিপি খাতুন জানান, লেটুস পাতা চাষের জন্য জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিতে হয়। লেটুস দুইভাবে চাষ করা যায়। সরাসরি বীজ বুনে আবার বীজতলায় বপন করে উপযুক্ত বয়সের চারা (এক মাস বয়সের) মূল জমিতে রোপণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ১২ ইঞ্চি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব রাখতে হবে ৮ ইঞ্চি।

সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের ইমদাদুল হক বলেন, “আমাদের এখানে যে লেটুস পাতার চাষ হয় এটা গ্রিন র‌্যাপিড জাতের।”

বিদেশি এই লেটুস পাতা চাষের জন্য উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় এই চাষি।

ইমদাদুল বলেন, অবশ্য এই বীজ ঢাকার সিদ্দিক বাজারে পাওয়া যায়। বীজগুলো চড়া দামে কিনে আনতে হয়। লেটুস পাতা লাগানোর এক দেড় মাসের মধ্যেই খাবারের উপযুক্ত হয়ে যায়।

ওই এলাকার আরেক চাষি রোকুনুজ্জামান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে লেটুস পাতার ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা কম থাকায় বেচা-বিক্রি কিছুটা কম। তবে ঢাকার যাত্রাবাড়ী শ্যামবাজার ও কাওরান বাজারে পিস হিসেবে এটি বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, প্রতি পিস লেটুস পাতা ১০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করা যায়। এই পাতা চাষে তেমন খরচ করতে হয় না। শ্রমিকের মজুরি, জমি চাষ, সার, কীটনাশক ও নানা আনুষঙ্গিক খরচ আয়ত্তের মধ্যেই থাকে। কম খরচে ভালো দাম পাওয়া এখানে অন্যান্য শাক-সবজির পাশাপাশি লেটুস পাতার চাষ বেড়েছে।

উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতানা পারভীন বলেন, “শীত প্রধান দেশে সারা বছর লেটুসের চাষ হয়। কিন্তু আমাদের দেশে কেবল রবি মৌসুমে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় লেটুস পাতার বীজ বোনা হয়। শার্শায় লেটুস পাতার চাষ শুরু হয়েছে।”

প্রচারের মাধ্যমে লেটুস পাতার স্থানীয় বাজার তৈরি করতে পারলে চাষিরা ব্যাপক লাভবান হবেন বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে 'নিরাপদ উচ্চমূল্যের সবজি' উৎপাদন প্রদর্শনী বা প্রদর্শনী প্লট হিসেবে উপজেলায় মোট আটজন চাষি ১৩২ শতক জমিতে লেটুস পাতা চাষ করেছেন।

তিনি জানান, “সরকারি সহযোগিতায় এ লেটুস পাতা চাষ করা হয়। লেটুসপাতা চাষে কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কেউ যদি কোনো পরামর্শ ও সহযোগিতা চান আমরা দিতে আগ্রহী।”

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “লেটুস পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ রয়েছে। তাই এটি বেশ উপকারী সুষম খাদ্য।”

শার্শা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পুষ্টিবিদ রেবেকা সুলতানা শিল্পী বলেন, সাধারণত সালাদ, বার্গারের ভেতরে বা স্যান্ডউইচে লেটুস পাতা খাওয়া হয়। এ ছাড়া লেটুস কাঁচা ও রান্না উভয়ভাবেই খাওয়া যায়। এতে নানা রকম ভিটামিন রয়েছে। এ পাতায় ক্যালরি পরিমাণ অনেক কম।

তিনি বলেন, বিশ্ব বাজারে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বহু সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে এবং খাবারের পাশে ডেকোরেশনের জন্য লেটুস পাতার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে লেটুস পাতার চাহিদা অত্যন্ত বেশি। কুয়েত, সৌদি আরব, দুবাই ও কাতারে এ পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে।

এই লেটুস পাতা দৈনন্দিন জীবনে ভোজনরসিকরা প্রায় প্রতিবারের খাবার তালিকায় আগ্রহ নিয়ে খেয়ে থাকেন বলে জানান এই পুষ্টিবিদ।

সূত্র: বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর

সর্বশেষ

জনপ্রিয়