বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ || ১১ বৈশাখ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ২ মার্চ ২০২৪

ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তরুণদের সাফল্য

ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তরুণদের সাফল্য
সংগৃহীত

তথ্যপ্রযুক্তির আবাহনে ইউটিউব এবং ফেসবুক দিন দিন জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থ আয়ের একটি প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে।  নানা বয়সী মানুষ তাদের মেধা আর পরিশ্রম কাজে লাগিয়ে নানা প্রকার কনটেন্ট তৈরি করে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন বুনছেন। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এ পেশায় অনেকেই বেশ সাফল্য অর্জন করছেন।

এরমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় একঝাঁক তরুণ ও যুবক এ পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে নিজেরা সফলতার সাক্ষর রাখছেন। তারা ইউটিউব ও ফেসবুক পেইজ খুলে হাট বাজার, কৃষি, মৎস্য,দর্শনীয় স্থান, প্রাচীন মসজিদ, ইসলামী সঙ্গীত, বিনোদন, সাফল্য-সম্ভাবনা, দুর্ভোগসহ ব্যতিক্রম নানা বিষয়ে নিত্য নতুন কনটেন্ট তৈরি করে মানুষের প্রশংসা কুড়িয়ে যাচ্ছেন। এসবের কারণে তারা দ্রুত জনপ্রিয় পেয়ে টাকা আয় করছেন। ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরিতে দিন দিন তরুণ ও যুবকরা  এ পেশায় বেশি ঝুঁকছেন। তাদের সুন্দর সাবলিল আর হৃদয় রাঙানো ভাষায় উপস্থাপনা আর নানা বিষয়ের অজানা তথ্য নিয়ে ব্যতিক্রম কনটেন্ট তৈরি করায় সর্ব মহলের প্রশংসা পাচ্ছেন।

একাধিক তরুণ জানান, ইউটিউব থেকে টাকা আয়ের মূল উৎস হচ্ছে ভিউ। যে ভিডিও যত বেশি ভিউ হবে সেটি তত বেশি অর্থ উপার্জন করবে। মোটামুটিভাবে প্রতি হাজার ভিউতে আয় আসে। তবে ভিডিও তৈরির সেটি অবশ্যই মজাদার বা শিক্ষণীয় ও ভালো মানের হতে হয়। নতুন নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে তারা নিজ এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গাতে যাচ্ছেন। এ যেন এক নীরব প্রতিযোগিতা চলছে।

উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া লিটন বলেন, স্থানীয় একটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করার পর নিজ এলাকায় ব্যবসা শুরু করি। মাঝে মধ্যে ফেসবুক দেখা হতো। ফেসবুকে সমসাময়িক নানা বিষয়ে দেখে আমার খুবই ভালো লাগতো। নিজের অজান্তেই এক প্রকার শখ তৈরি হয়। 

সেই শখ থেকে ফেসবুকে মাছ চাষ, সবজি আবাদ, ধান চাষ,  হাঁস-মুরগি পালনসহ মানুষের সাফল্য নিয়ে ছোট আকৃতির ভিডিও করে ফেসবুবে পোস্ট দেওয়া হতো। তখন আমার কাছে দামি কোনো ভালো মোবাইল, অন্যান্য যন্ত্রপাতি আর ইন্টারনেট সুবিধা তেমন ভালো ছিল না। নিজস্ব চিন্তা ধারায় যতটুকু সম্ভব নানা বিষয়াদিগুলো ভিডিওর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা করি। এ সময় নিজের বন্ধু বান্ধব, আর স্বজনরা অনেকেই সাহস যোগিয়েছে। তবে  আবার অনেকে এটাকে ভালো চোখেও দেখেনি। কিন্তু আমি আমার লক্ষ্য থেকে তিল পরিমাণ ও সরেনি। এ যেন মনে হয় এক প্রকার ঢাল-তলোয়ার ছাড়া যুদ্ধে নামার মতো অবস্থা। সাফল্য-সম্ভাবনাসহ ব্যতিক্রম নিত্য নতুন ভিডিওগুলো ফেসবুক ব্যবহারকারীরা লাইক কমেন্ট আর ভিউ দিয়ে আমার কাজের গতি বাড়িয়ে দিতে থাকে।  

এক পর্যায়ে ২০১৯ সালে কৃষকের কথা নামে একটি  ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেইজ খুলে নিয়মিত হাট বাজার, কৃষি, মৎস্য,দর্শনীয় স্থান, প্রাচীন মসজিদ, বিনোদন, সাফল্য-সম্ভাবনাসহ ব্যতিক্রম নানা বিষয়ে নিত্য নতুন কনটেন্ট তৈরি করা ভিডিও আপলোড করছি। একটানা প্রায় ৩ বছর পর মনিটাইজেশন পেয়ে ইনকাম পাচ্ছি।

লিটন আরো বলেন, আসলে ফেসবুক আর ইউটিউব হচ্ছে নীরব টাকা আয় করার একটি বড় ফ্লাটফর্ম। আমার ইউটিউব চ্যানেলটি কৃষকের কথা নাম দেওয়ার কারণ হলো আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষিতে কীভাবে সাফল্য আনা যায় সেই লক্ষে গঠনমূলক বিষয় ভিত্তিক নানা প্রকারের তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় তিন শতাধিক সাফল্য-সম্ভাবনাসহ ব্যতিক্রম নানা বিষয়ে নিত্য নতুন কনটেন্ট তৈর করা ভিডিও ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে আপলোড করা হয়। একটি ভিডিও সর্বোচ্চ ৪ লাখ ভিউ হয়েছে বলে তিনি জানান।

ওই ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মো. পারভেজ বলেন, এসএসসি পরীক্ষা পাশের পর পরিবারের কথা চিন্তা করে চাকরি নেয়া হয়।  ২০২০ সালে  ফেইসবুকে একটি পেইজ খোলা হয়। তখন নিয়মিত ফেসবুক এবং ইউটিউবে সাফল্য-সম্ভাবনা আর দর্শনীয় স্থানসহ নানা বৈচিত্রময় ভিডিও দেখা হতো। দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই এক প্রকার শখ তৈরি হয়। ২০২৩ সালে বন্ধু বান্ধবদের উৎসাহে সাহস করে কৃষি, মৎস্য, খামার,দর্শনীয় স্থানসহ নানা প্রকারের বৈচিত্রময়  ভিডিও তৈরি করে ফেসবুক পেইজে দেওয়া শুরু করি। প্রথম দিকে তেমন সারা পাওয়া যায়নি। এরপর ও আমি  হাল ছাড়েনি। 

তিনি আরো বলেন, বেশ কিছু দিন আগে আমার খালাতো ভাইয়ের মোটর সাইকেলের সঙ্গে একটি অটো রিকশায় সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেলটি বেশ ক্ষতি হয়। এটি নিজের ভাষায় কথা বলে ভিডিও করে পেইজে দেওয়া হয়। মুহূর্তে মধ্যে এটি বেশ সারা পড়ে। দুই দিনে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজারের ওপর ভিউ হয়। এটার মধ্যে দিয়ে আমি মনিটাইজেশন পেয়ে ইনকাম পাচ্ছি। এতে উৎসাহ বেড়ে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে  কৃষি, মৎস্য, খামার,দর্শনীয় স্থানসহ নানা প্রকারের বৈচিত্রময় বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করে ভিডিও আপ-লোড করা হয়। এসব কাজ করতে ভালো মোবাইল, ক্যামেরা, মোবাইল স্ট্যান্ডসহ নানা প্রকারের জিনিস ক্রয় করা হয়।

ইউটিউবার মো. কাইয়ুম বলেন, আসলে ইউটিউব এবং ফেসবুক এসব সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা ছিল না। মোবাইল দেখে আমার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর ব্যবসার পাশাপাশি শুরু ব্লগিং করা শুরু করি। প্রথমে নিজের লোকজন ভালো চোখে দেখেনি। নিজ যোগ্যতা আর মেধা দিয়ে সমসাময়িক নানা জাতের ভিডিও ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে আপলোড করছি। আমার ফেসবুক পেইজে ফলোয়ার ৭ হাজারের উপর। ব্লক দেখে সবাই যখন লাইক কমেন্ট আর ভিউ দেয় তখন খুব ভালো লাগে। প্রতি মাসে ভালো টাকা আয় হয়।

আখাউড়া উপজেলা সচেতন নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি মুসলেহ উদ্দিন ভূইঁয়া বলেন, বর্তমান এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে সব কিছুই এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে তরুণ যুবকরা ইউটিউব ও ফেসবুকে নানা প্রকারের প্রতিবেদন তৈরি করে  অজানা তথ্য তুলে ধরছেন।  আসলে এই প্রযুক্তিকে সঠিক ব্যবহার করে অনেকেই ভালো টাকা উপার্জন করছে। 

সূত্র: ডেইলি-বাংলাদেশ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়