বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ || ১১ বৈশাখ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১৭:৫৮, ৩ মার্চ ২০২৪

ইঁদুর পালনে নাসিরের সাফল্য

ইঁদুর পালনে নাসিরের সাফল্য
সংগৃহীত

মানুষ শখের বসে কবুতর, ময়না, বিড়াল, খরগোশ, কুকুরসহ নানা জাতের পশু পাখি  লালন পালন করছেন। কিন্তু ইঁদুর পালন করছেন এমন মানুষ পাওয়া খুবই দুষ্কর। কারণ ইঁদুর হলো মানুষের প্রধানশত্রু। প্রতিনিয়ত সময় সুযোগ পেলে উৎপাদিত জমির ফসল, নতুন কিংবা পুরনো মূল্যবান জিনিস ক্ষতি করেছে।

আর ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে ইঁদুর নিধনে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচিও। পাশাপাশি অধিক ইঁদুর নিধনকারীর জন্য রয়েছে পুরস্কারও। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ইঁদুর পালন নিয়ে জন্ম দিয়েছে রীতিমতো অবাক করার মতো ঘটনা। 

এ উপজেলা দক্ষিণ ইউপির আব্দুল্লাহপুর গ্রামে অ্যালবিনো প্রজাতির সাদা ইঁদুর পালন করে চমক সৃষ্টি করেছেন মো. নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। এরইমধ্যে ইঁদুর পালনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। 

নাসির উদ্দিন আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে। নাসিরের ১ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছে। মূলত তিনি ইউটিউব দেখে এ খামার গড়ে তুলেন। তবে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য ইঁদুর চাষ করে এখন লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। 

এরইমধ্যে ইঁদুর ক্রয় করতে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় লোকজন আসছেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইঁদুরের ভালো চাহিদা রয়েছে।

সরেজমিন বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ঘরের ভেতরে বেশ কয়েকটি খাঁচা আর হার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি বাক্স রয়েছে। খামারের ভেতরে প্রবেশ করতেই খাঁচা আর বাক্সের সামনে থাকা ইঁদুরগুলো এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। কোনো কোনো হার্ডবোর্ড বক্সে রয়েছে সদ্য জন্ম দেওয়া ইঁদুর। 

তাছাড়া বিড়াল থেকে তাদের রক্ষা করতে ঘরের দরজা ও জানালা খুবই ভালো করে দেওয়া হয়েছে।

মো.নাসির উদ্দিন বলেন, জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘ বছর চাকরি করি। ২০১৬ সালে চাকরি ছেড়ে গ্রামে চলে আসি। এরপর কোনো উপায় না পেয়ে সংসারের হাল ধরতে কৃষি কাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগীসহ দেশি-বিদেশি কবুতর পালন শুরু করি। পাশাপাশি ব্যবসাও করা হচ্ছে। তবে হাঁস-মুরগীসহ দেশি-বিদেশি কবুতরে আয় কম হওয়ায় বিকল্প পেশায় যেতে চেষ্টা শুরু করি। 

প্রযুক্তির সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউটিউব দেখে ইঁদুর পালনে আমার বেশ আগ্রহ তৈরি হয়। গত ৫ মাস আগে ঢাকার কাঁটাবন এলাকা থেকে পরীক্ষামূলক সুইজারল্যান্ডের অ্যালবিনো প্রজাতির ১০টি ধবধবে সাদা ইঁদুর কিনে বাড়িতে আনা হয়। ইঁদুর কেনাসহ আনুসাঙ্গিক ৫ হাজার টাকা খরচ হয়।  কিছুদিন যেতে না যেতেই একটি ইঁদুর ৮টি বাচ্চা দেয়। কয়েকদিনের মধ্যে আরো ৩টি ইঁদুর বাচ্চা দেয়। পর্যায়ক্রমে পালনকরা ইঁদুরগুলো বাচ্চা দিতে থাকায় বর্তমানে আমার এই খামারে বড় আকারের ১০০টি ইঁদুর রয়েছে। সেই সঙ্গে ছোট আরো বাচ্চা রয়েছে ৩০টি। খামারে থাকা ইঁদুরগুলোর মধ্যে আরো বেশ কয়েকটি ইঁদুর বাচ্চা দেবে।

ইঁদুরগুলোকে দৈনিক স্বাভাবিক খামারের মধ্যে গম, ভুট্রা, ধান,দেওয়া হয়। দৈনিক ৬০ টাকার খাবার লাগছে। সকাল ও রাতে দুই বেলা খাবার দিতে হয়। সেই সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খামার পরিষ্কার করে পানি ও খাবার দেওয়া হয়।

নাসির উদ্দিন আরো বলেন, এই অ্যালবিনো প্রজাতির ইঁদুর ৪০ দিন পরপর ৬-৮টি বাচ্চা দেয়। বছরে বাচ্চা দেয় ৬-৭ বার। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক স্বল্প সময়ে ১০টি ইঁদুর দিয়ে ছোট বড় মিলিয়ে ১৩০টি ইঁদুর উৎপাদন করলেও আমি আশাবাদী প্রতিমাসে ভালো ইঁদুর উৎপাদন সম্ভব এই খামারে। বর্তমানে খামারে থাকা এক একটি বড় আকারের ইঁদুর ৬শ টাকায় বিক্রি করছি।  

তিনি বলেন, দেশের মধ্যে এই ইঁদুরের ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই ইঁদুর কাজে লাগায় এর ভালো চাহিদা আছে। আমার এই খামারে যে পরিমাণ ইঁদুর রয়েছে তার চাইতে কয়েকগুণ বেশি ক্রয় করে নিতে চায় অনেকে। না থাকার কারণে ক্রেতাদেরকে দিতে পারছি না। খামারে বিক্রির উপযুক্ত যে পরিমাণ ইঁদুর রয়েছে আশা করছি ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হবে। এখন পর্যন্ত কোনো রোগ বালাই হয়নি। ইঁদুর নিয়ে খামারে সময় কাটাতে আমার ভালোই লাগে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাছির মিয়া বলেন, নাসির উদ্দিন একজন কর্মঠ মানুষ। প্রতিটা সময় কিছু না কিছু করে কাজে লাগাতে চায়। ইঁদুর চাষ করে এটা জানা ছিল না। এই ধবধবে সাদা ইঁদুর আর দেখিনি। এখানে দেখে খুবই ভালো লাগছে।

আখাউড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুয়েল মজুমদার বলেন, আসলে ইঁদুর পালন লাভজনক একটি ব্যবসা। খরচ কম আয় বেশি। ইঁদুর মূলত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বেশি চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া সৌখিন লোকজনরা শখের বসে ইঁদুর পালন করছেন। শুনেছি আখাউড়ায় ইঁদুর চাষ হচ্ছে। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

সূত্র: ডেইলি-বাংলাদেশ 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়