• শুক্রবার   ২১ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৮ ১৪২৮

  • || ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

ব্রাজিলে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২২  

ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সীমিত পরিসরে ১০ জানুয়ারী যথাযোগ্য মর্যাদায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন ও উদযাপন করে। ব্রাজিলে বিগত কয়েক দিনে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজ সাদিয়া ফয়জুননেসা দূতাবাসের কর্মকর্তা – কর্মচারীদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদ এবং ১৫ আগষ্টে নির্মম হত্যাকান্ডে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশের শুরুতে পবিত্র কোরান থেকে পাঠ এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, মহান ভাষা আন্দোলনসহ গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ এবং বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগষ্টে নির্মম হত্যাকান্ডে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদ-এর আত্মার মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের ক্রমঅগ্রসরমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অব্যাহত অগ্রযাত্রা কামনা করে এবং বিদ্যমান করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবীর মানুষকে রক্ষার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক এ দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করে হয়। মুক্ত আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামের ঘটনাক্রমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ত্বের অবদান সবিস্তারে বর্ণনা করেন এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম শেষে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দেবার জন্য তাঁকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আপামর বাঙালি জনগণ জীবন বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনলেও তখনও বিজয় আমাদের পরিপূর্ন হয়নি। বাঙালির প্রানপ্রিয় নেতা ৮ই জানুয়ারী পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন আর দিল্লী হয়ে ১৯৭২-এর ১০ই জানুয়ারি তাঁর প্রিয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে পা রাখার পরই আমাদের প্রকৃত বিজয় অর্জিত হয়।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারী পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে পদার্পন করেই কমনওয়েলথ-এর সদস্যপদ প্রাপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করার ঘটনা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ কূটনীতিক হিসেবে অভিহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাধীন দেশে ফিরে আসার সাথে সাথেই বঙ্গবন্ধু দেশ গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ সার্বিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন। তিনি আরো বলেন ১৯৭১-এর স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথ রোধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন ধবংস করতে পারে নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের সোপান বেয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বর্ণনা করে তিনি বলেন যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা হতে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই নিম্ন-মধ্যম আয়ের সীমা অতিক্রম করার পাশাপাশি জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে বাংলাদেশ দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করা বাংলাদেশে একটি শোষণ-বঞ্চনাহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৪তম অর্থনীতি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবার লক্ষ্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূত উদ্দাত্ত আহবান জানান।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট