বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ || ১১ বৈশাখ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১২:০৭, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সংসদ সদস্যদের জনকল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সংসদ সদস্যদের জনকল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার উন্নয়ন ও কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘মানুষের সেবা করা সবচেয়ে বড় গুণ এবং এর চেয়ে বড় কিছু নেই। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত জনগণের সেবায় নিয়োজিত করা।’

সংসদে নাটোর-৪ থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুস ও নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেবেকা মমিনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবে রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সংসদে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেবেকা মমিন ও মো. আবদুল কুদ্দুস সবসময় দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। আমি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা অনুসরণ করে জনগণের দোরগোড়ায় দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সুফল পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

শোক প্রস্তাব দিয়ে সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়া খুবই মর্মান্তিক- উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এবার ব্যতিক্রম হতে পারে। কিন্তু তা হয়নি। এই সংসদের ২৮ জন সদস্য মারা গেছেন যাদের মধ্যে ২৬ জনই আওয়ামী লীগের।

আবদুল কুদ্দুস সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। খুবই সাহসী ছিলেন। নাটোর ছিল সন্ত্রাসের জায়গা। সেখানে তিনি কয়েকবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন।’

রেবেকা মমিনকে ছাত্রজীবন থেকেই চিনতেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনগণের কল্যাণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমাদের উন্নয়নের ধারা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংসদ সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করায় এটি সম্ভব হয়েছে।’

বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য তাঁর সরকারের প্রচেষ্টার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশকে আরও উন্নত করতে হবে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ধর্মমন্ত্রী ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, সাবেক এমপি অধ্যাপক পান্না কায়সার, সাবেক এমপি মোহাম্মদ উল্লার মৃত্যুতে সংসদ শোক প্রকাশ করে।

সংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) সুলতান মাহমুদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সিরাজুল আলম খান, একুশে পদক বিজয়ী কবি মোহাম্মদ রফিক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরুর স্ত্রী কামরুন্নেসা আশরাফ দিনা, কাজী নাবিল আহমেদ এমপির বাবা প্রকাশক ও অধুনালুপ্ত দৈনিক আজকের কাগজের সম্পাদক কাজী শাহেদ আহমেদ, কানিজ ফাতেমা আহমেদ এমপির বাবা কামাল উদ্দিন আহমেদ খান এবং স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষিবিদ ও কাজী পেয়ারার উদ্ভাবক ড. কাজী এম বদরুদ্দোজার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওয়াশিকা আয়েশা খান, আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাজ্জাদুর রহমান, শফিকুল ইসলাম শিমুল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, আবদুল আজিজ, মশিউর রহমান রাঙ্গা প্রমুখ শোক প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। পরে বর্তমান সংসদের সংসদ সদস্যদের মৃত্যুর কারণে প্রথা অনুযায়ী সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।

জাগ্রত জয়পুরহাট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়