শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ || ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৪:১৭, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

আপডেট: ১৬:০৬, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

কার্বন নির্গমন ৭ গুণ বেশি কমানোর তাগিদ

কার্বন নির্গমন ৭ গুণ বেশি কমানোর তাগিদ
সংগৃহীত

জলবায়ুর চরম ঝুঁকি থেকে বাঁচতে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন ৭ গুণ বেশি কমানোর তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে এই পৃথিবীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য আবাসে পরিণত করতে চার দফা দাবি তুলে ধরেছে।

শনিবার দুবাই এক্সপো সেন্টারে জলবায়ু সম্মেলনের হাইলেভেল সেগমেন্টে বক্তৃতা করতে গিয়ে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘দুবাই জলবায়ু সম্মেলনকে সফল করতে হলে চার ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশের চার দাবির প্রথমটি হলো, আমাদের টিকে থাকার জন্য অবশ্যই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এমনকি সাময়িক সময়ের জন্যও বৈশি^ক উষ্ণতা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে গেলে আমাদের অতিরিক্ত স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তাই কার্বন নির্গমন গ্যাপ পূরণের জন্য প্রধান দূষণকারী দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, প্যারিস চুক্তির দেড় ডিগ্রির লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রেখে অতিরিক্ত কার্বন নির্গমন কমানো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসহ বৈশি^ক মূল্যায়ন (গ্লোবাল স্টকটেক) অনুমোদন করতে হবে। তৃতীয় দাবিটি হচ্ছে, স্বল্পোন্নত দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশগুলোর মতো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি অর্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উন্নত দেশগুলোকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবশ্যই অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণ করতে হবে।

এবং চতুর্থ দাবিটি হচ্ছে- উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ২০২৫ সাল থেকে অর্থায়নের নতুন লক্ষ্য ‘নিউ কালেকটিভ কোয়ান্টিফাইড গোল’ অবশ্যই বর্তমান প্রতিশ্রুতির চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি হতে হবে। এক্ষেত্রে অধিক বিপদাপন্ন দেশগুলোর চাহিদাকে বিবেচনায় নিতে হবে।

দুবাই জলবায়ু আলোচনার দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরুর দ্বিতীয় দিনে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে সম্মেলনটির ‘হাইলেভেল সেগমেন্ট’। হাইলেভেল সেগমেন্টে জলবায়ু সংস্থা ইউএনএফসিসিসির সদস্যভুক্ত দুইশ’ দেশের প্রতিনিধি দলের প্রধানরা তাদের দেশের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন এদিন দুপুরে নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া একটায় তিনি বক্তৃতা দিতে উঠেন। সাত মিনিটের এই বক্তৃতায় তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের কার্যক্রম এবং চলমান সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় মন্ত্রী সম্প্রতি প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক রিপোর্টগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছি। প্যারিস চুক্তির দেড় ডিগ্রি  সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা সাত গুণ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন তার বক্তব্যের শুরুতে সম্মেলনের প্রথম দিনেই লস অ্যান্ড ডেমেজ ফান্ডকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ২৮তম জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতি সুলতান আল জাবেরকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে সম্মেলনে ‘ফুড সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন’ ঘোষণা, স্বাস্থ্য ঘোষণা ও ম্যানগ্রোভ অ্যালায়েন্স ফর ক্লাইমেট বিষয়ক ঘোষণা অনুমোদন করার জন্যও ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশে^র সপ্তম বিপদাপন্ন দেশ। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে জলবায়ু সহনশীল দেশে পরিণত হওয়ার জন্য লড়াই করছে। ইতোমধ্যে আমরা সীমিত সম্পদের মধ্যেও নিজস্ব অর্থে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করেছি। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই তহবিলে নিজম্ব বাজেট থেকে ৮৫০টি প্রকল্পের বিপরীতে ৪৯ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ ছাড়াও সরকার তার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মসূচিতে ৩০০ কোটি ডলার খরচ করছে।
তিনি বলেন, গত বছর (২০২২) বাংলাদেশ জাতিসংঘে ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান জমা দিয়েছে। এই অ্যাডাপটেশন পরিকল্পনায় আমরা ২০২৩ সাল থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত কাজ করার জন্য ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ১১৩টি এলাকা চিহ্নিত করেছি। এ সব খাতকে জলবায়ু সহনশীল করে তোলার জন্য ২৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রয়োজন সাড়ে আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমাদের যে সীমিত সম্পদ তাতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতি বছর আমাদের সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ঘাটতির মুখে পড়তে হবে।

মন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়েও যতটা সম্ভব কম কার্বন নির্গমন করে উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি। এজন্য আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংরক্ষণের চেষ্টা করছি। এ লক্ষ্যে আমরা ২০১৫ সালের চেয়ে ২০২১ সালে তিন গুণ কার্বন নির্গমন কমিয়ে আমাদের এনডিসি (ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন) সংশোধন করেছি।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়