মঙ্গলবার   ২৮ মে ২০২৪ || ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৪:১৪, ১১ এপ্রিল ২০২৪

বদলে যাচ্ছে সাগরের তীর ঘেঁষা মেরিন ড্রাইভ সড়ক

বদলে যাচ্ছে সাগরের তীর ঘেঁষা মেরিন ড্রাইভ সড়ক
সংগৃহীত

কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। পাহাড় ও সাগরপাড়কে আরো পর্যটকবান্ধব দৃষ্টি আকর্ষণ বাড়াতে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। ফলে বদলে যাচ্ছে পর্যটকদের আকর্ষণীয় মেরিন ড্রাইভ সড়ক।

পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে এবং পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে সাগরের তীর ঘেঁষে দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভকে দৃষ্টিনন্দন ও নান্দনিক করতে সেনাবাহিনীর এই উদ্দ্যেগকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটন শিল্প উদ্যোক্তারা। সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি সমুদ্রের আগ্রাসন থেকে মেরিন ড্রাইভকে রক্ষায় নির্মিত হচ্ছে সি-ওয়াল। আর যানজট এড়াতে সরু রেজুখালের ব্রিজ ভেঙে চার লেনের দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো মেরিন ড্রাইভের নিরাপত্তায় বসছে ৬০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার-টেকনাফ দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ। এই মেরিন ড্রাইভের রেজুখালে রয়েছে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। এই সেতুর দুই প্রান্তে সব সময় লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। আর শুক্রবার-শনিবার হলে এই যানজট বেড়ে যায় বহুগুণ। যার কারণে দুর্ভোগের শেষ থাকে না ভ্রমণপিপাসু, যাত্রী ও চালকদের।

এবার সেই দুর্ভোগ লাঘবে মেরিন ড্রাইভের রেজুখালে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন চার লেনের সেতু। সেতুর দুই প্রান্তে থাকছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। থাকছে রেস্তোরাঁ, পর্যটকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা ও হাঁটার জন্য আলাদা লেন। এর মধ্যে নদীশাসন ও পিলার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

বর্ষা মৌসুম আসলেই মেরিন ড্রাইভের নানা অংশে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। তাই এবার ভাঙন রোধে নির্মিত হচ্ছে সি-ওয়াল। একইসঙ্গে চলছে সিসি ব্লক স্থাপন ও ট্রেটাপড নির্মাণ। এরই মধ্যে মেরিন ড্রাইভের কলাতলী অংশে শুরু হয়েছে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। সড়কটি ১৮ ফুট থেকে করা হচ্ছে ৩৩ ফুটে। একইসঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি চলছে মাটি ভরাট। দ্রুত চলছে সব প্রকার কাজ।

যাত্রী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যানজট দূর হবে শতভাগ। পাশাপাশি পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দে মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণ করতে পারবে।

রেজুখাল সংলগ্ন সোনাপাড়ার বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, রেজুখাল সেতুটি সরু আর ঝুঁকিপূর্ণ। যার কারণে এই সেতুটির দুই প্রান্তে ৩-৪ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা করতে হয় অপেক্ষা।

মেরিন ড্রাইভে চলাচলকারী অটোচালক ফরিদুল আলম বলেন, পর্যটক থাকলে যানজট বেশি হয়। এই রেজুখালের সেতুটি নতুন করে হচ্ছে আমরা খুবই খুশি। আর যানজটে পড়তে হবে না। দ্রুত রেজুখাল পেরিয়ে পর্যটকদের নিয়ে ইনানী, পাতুয়ারটেক শামলাপুর, টেকনাফ পর্যটন স্পট ও সবশেষ পর্যাক্রমে শাহপরীর দ্বীপের জিরো পয়েন্টে যেতে পারবো।

প্রথম পর্যায়ে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরিন ড্রাইভের কলাতলীর পর থেকে পাতুয়ারটেক পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার প্রশস্ত হচ্ছে। যার মধ্যে ৪০০ কোটি ব্যয় হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণে আর বাকি ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে সেতু, ভাঙন রোধসহ নানা কাজে।

কক্সবাজারস্থ সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফীন বলেন, ১২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণে এবং বাকি ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে রেজুখাল ব্রিজ এবং ছোট-বড় ব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সমুদ্রের আগ্রাসন থেকে সড়ক সুরক্ষায় বাঁধ নির্মাণে।

তিনি আরো বলেন, মেরিন ড্রাইভ এখন ১৮ ফিট থেকে ৩৩ ফিটে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে- ১১৩ দশমিক ২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ, সাত লাখ ২৪ হাজার ঘনমিটার মাটি ভরাট, ২৯ দশমিক ৪২ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও শূন্য দশমিক ৩২ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট বাঁক সরলীকরণ কাজ। শুধু তাই নয়, ৬ হাজার ৪৮০ মিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, ৬৩ হাজার ৭২০ বর্গমিটার জিও টেক্সটাইলসহ সিসি ব্লক স্থাপন, ৫৪ হাজার ৩৬০টি টেট্রাপড নির্মাণ, ৯ হাজার ১২০ বর্গমিটার রোড মার্কিং, ইউটিলিটি স্থানান্তর, রেজুখালের উপর দুই লেনের একটি সেতু নির্মাণ (৩০৫ মিটার) এবং মেরিন ড্রাইভের নিরাপত্তায় ৬০৮টি সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়। একইসঙ্গে ৯ হাজার ১৮০ মিটার এল ড্রেন ও ১৩ হাজার ৯৪ মিটার ইউ ড্রেনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও নির্মাণ করা হচ্ছে।

সড়ক বিভাগের এই প্রকৌশলী আরো জানান, মেরিন ড্রাইভে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে রেজুখাল সেতু। যেটি নির্মিত হচ্ছে ৪ লেনে। সেতুর দুই প্রান্তে থাকছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। থাকছে রেস্তোরাঁ, পর্যটকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা ও হাঁটার জন্য আলাদা লেন। এর মধ্যে নদীশাসন ও পিলার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পুরো এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়