মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০২৪ || ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:২৭, ২৫ জুন ২০২৪

তিস্তা প্রজেক্ট করার জন্য ভারত সহযোগিতা করবে: প্রধানমন্ত্রী

তিস্তা প্রজেক্ট করার জন্য ভারত সহযোগিতা করবে: প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত

তিস্তা প্রজেক্ট করা জন্য ভারত সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন: তিস্তা প্রজেক্ট কিন্তু আজকের না। যুক্তফ্রন্টের যে ২১ দফা সেখানেও এটা দেওয়া ছিলো। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া ছিলো তিস্তা প্রজেক্ট করতে হবে। সেই তিস্তা প্রজেক্ট করার জন্য ভারত সহযোগিতা করবে। যৌথ কমিশন করা হবে। এখানে শুধু পানির ভাগাভাগির বিষয় নয়। গোট তিস্তাকে পুনরুজ্জীবিত করে উত্তরাঞ্চলের সেচের ব্যবস্থা করা হবে। এটাই সিদ্ধান্ত।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মমতা ব্যানার্জির চিঠির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন: মমতা ব্যনার্জি যেটা বলেছেন, সেটার বিষয়ে আমি একমত। ফারাক্কাসহ নদীগুলোতে পলি জমে যাচ্ছে। এগেুলো তাদের ড্রেজিং করা উচিত।

গঙ্গা চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন: ভারতের  সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তি আমরা করেছিলাম।  ২০২৪ সালে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।  এই চুক্তি যদি নবায়ন নাও হয় চুক্তি কিন্তু অব্যাহত থাকবে। মমতা ব্যানার্জির একটা ক্ষোভ আছে। তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। যেহেতু তিনি সেখানে ছিলেন না, থাকলে অবশ্যই আমি আলোচনা করতাম। কাউকে বাদ দিয়ে চুক্তি হবে না।

যোগ করেন: এখানে ভারত থেকে টেকনিক্যাল গ্রুপ আসবে। পর্যালোচনা করবে, আলোচনা হবে তারপর চুক্তি হবে। আর মমতা ব্যানার্জির যে চিঠি সেটা তিনি ভারতের আভ্যন্তরীন ব্যাপার। এখানে আমার তো কিছু বলার নেই। এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নাই, নাক গলানোরও দরকার নেই। আমার সঙ্গে ভারতের সকলের সম্পর্ক ভালো।

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের ট্রেন চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা নিয়ে যারা দেশ বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন তাদের প্রতি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিসের মাপে দেশ বিক্রি হচ্ছে, বিক্রিটা হয় কীভাবে?’

এ সময় মুক্তিযুদ্ধের ভারতের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা সমালোচনা করে, তাদের জানা উচিত, একটি মাত্র মিত্রশক্তি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। বিশ্বে যারাই অন্য দেশকে স্বাধীনতায় সহযোগিতা করেছে, তারা কিন্তু ফেরত যায়নি। একমাত্র ভারত ব্যতিক্রম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরপরও যারা কথা বলে, বিক্রিটা হয় কীভাবে। তারা নিজেরাই ভারতের কাছে বিক্রি হয়। জিয়া এরশাদ খালেদা, ভারতবিরোধী কথা বলেছে আর ভারতে গিয়ে পা ধরে বসে ছিল, সেটা আমরা জানি।’

শেখ হাসিনা বলেন, রেলপথ ব্যবহারের ফলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হচ্ছে। ওইসব এলাকার মানুষের জন্য যোগাযোগ সহজ হচ্ছে। ইউরোপে তো বর্ডারই নেই, তারা কি তাহলে বিক্রি করে দিচ্ছে? প্রত্যেকটা দেশই তো স্বাধীন দেশ, তারা তো বিক্রি হয়নি। তাহলে সাউথ এশিয়ায় কেন এটা বাধা হয়ে থাকবে?

সরকার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেই বন্ধুত্ব করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ‍উন্মুক্ত করে দিলে দেশের মানুষই উপকৃত হবে। কারণ নানা কাজে তাদের ভারতে যেতে হয়।

শেখ হাসিনা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অন্য দেশকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়। এতে দেশ বিক্রি হয়ে যায় না।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারত সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে পাঁচটি নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ও বিনিময় হয়। এছাড়া তিনটি নবায়িত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ও বিনিময় এবং দুটি রূপকল্প ঘোষণা স্বাক্ষরিত ও বিনিময় হয়। ভবিষ্যত কাজের ক্ষেত্র হিসেবে ১৩টি যৌথ কার্যক্রমের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ২১ জুন দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যান।

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার পর ভারতে কোনো সরকারপ্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। এছাড়া সফরটি ছিল ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের রাজধানীতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। গত ৯ জুন মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে সাতটি নতুন এবং তিনটি নবায়নসহ ১০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।

সূত্র: Channelionline

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ