সোমবার   ২২ জুলাই ২০২৪ || ৬ শ্রাবণ ১৪৩১

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৭:১৭, ৯ জুলাই ২০২৪

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

দুর্নীতি দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগ সময়ের দাবি

দুর্নীতি দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগ সময়ের দাবি
সংগৃহীত

‘দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তবতায় আইনের কঠোর প্রয়োগ সময়ের দাবি’– বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি আরও বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের অন্যতম সৌন্দর্য হচ্ছে জবাবদিহিতা। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক পরিচালনা কাঠামো গড়ে তোলা হলে দুর্নীতি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।’ 

সোমবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘দুর্নীতি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ–গঠন সম্বন্ধে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সভায় আলোচ্য বিষয়ে ৩৫ পৃষ্ঠার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ড. হারুন–অর–রশিদ এ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত মতিউর, বেনজিরসহ নানা ইস্যু উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বিচারঙ্গনের দুর্নীতি নিয়েও দীর্ঘ বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, ‘স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, আদালতের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি প্রবণতার নানা তথ্য ক্রমে আমাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে, শঙ্কিত করে তুলছে । মামলা দায়ের হওয়ার পর বিচারকের সামনে তা উপস্থাপন করার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের উৎকোচ গ্রহণের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের আইন অঙ্গনকে দূষিত করে চলেছে ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেশীরভাগ বিচারকই সততার মাধ্যমে কাজ করে যেতে চান । কিন্তু গুটিকয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বিচারকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অধিকার আমাদের নেই । আমরা জানি সমস্যা অস্বীকার করা কিংবা এড়িয়ে যাওয়া কাপুরুষের লক্ষণ, বরং সঠিক আত্মসমালোচনার মাধ্যমেই একটি প্রতিষ্ঠান দক্ষ হয়ে ওঠে । আমরা সমালোচনা থেকে পালাতে চাইনা, আমরা সমালোচনা গ্রহণ করে নিজেদের শুদ্ধ করতে চাই, বিচারপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাই।’ তিনি জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনা বৃদ্ধির আহবান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ পিতাকে, দুর্নীতিবাজ স্বামী বা স্ত্রীকে, দুর্নীতিবাজ সহকর্মীকে একঘরে করা না গেলে, বয়কট করা না হলে কখনোই দুর্নীতির গভীর ক্ষত সেরে উঠবে না, এ রোগের উপশম হবেনা ।’

বঙ্গবন্ধু চেয়ার বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, বিএনপির আমলে দুদক গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু তখন দুদক ছিল নখদন্তহীন। এখন দুদকের নাম শুনলে মানুষ কাপে, কিন্তু দুদককে আরও  শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি একটি রোগ। এ রোগ ক্যান্সারের মতো। এর থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ হয়তে সম্ভব নয়। তবে ক্যান্সারের মতো দুর্নীতিকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।  দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিরো টলারেন্স শুধু মুখে বললে হবে না। কাজ করতে হবে। তিনি এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে সুশাসন অর্থাৎ হস্তক্ষেপমুক্ত আইনের প্রয়োগ বা আইনের শাসন,বিচার বিভাগের স্বাধীনতা;স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ; দুর্নীতিবাজদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবে আশ্রয় প্রশয় বা পৃষ্ঠপোষকতাদান না করা; দুদককে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদানসহ সৎ, যোগ্য, নির্লোভ ও নীতি-আদর্শের ক্ষেত্রে আপোষহীন ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত করে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনসহ কয়েক দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতির মূলোৎপাটন তখনই সম্ভব হবে যখন আমি মুক্তিযুদ্ধকে চিনব, মুক্তিযোদ্ধাদের চিনব এবং সেই বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাকে চিনব যাঁরা নির্যাতন সয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র এনে দিয়েছেন।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবদুস সালাম হাওলাদার।

সূত্র: সমকাল

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ