• বুধবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৯

  • || ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

ইউটিউব-ফেসবুক থেকে যেভাবে লাখ টাকা আয় করেন ববি শিক্ষার্থী

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০২২  

নানা বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণমূলক ভিডিও তৈরি করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হামীম। ইউটিউব ও ফেসবুকে তার বানানো ভিডিওগুলো বেশ সাড়া জাগায়। এসব ভিডিও বানিয়ে তিনি নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পাশাপাশি হাল ধরেছেন পরিবারেরও। মেহেদী হাসান হামীমের সফলতার গল্প শুনেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম।

ইউটিউব থেকে গত পাঁচ বছরে ১৮ লাখ টাকা আয় করেছেন হামীম। বর্তমানে ফেসবুক ও ইউটিউবের ভিডিও কনটেন্ট থেকে তার মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার বেশি। তার ইউটিউবে সাবসক্রাইবার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। ভিডিও কনটেন্ট রয়েছে এক হাজার ৬০০। প্রতিদিনই একটা, দুটো ভিডিও কনটেন্ট আপলোড করেন তিনি। এ বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকেও ভিডিও কনটেন্ট শেয়ার শুরু করেন। সেখান থেকে মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

শুরুটা যেভাবে

২০১৭ সালের ১ আগস্ট। শেরে বাংলা হলের ডাইনিংয়ে দুপুরে খেতে বসেছিলেন। সহপাঠীর থেকে জানতে পারেন তাদের আরেক সহপাঠী ইউটিউব থেকে কিছু টাকা পেয়েছেন। এর আগেও শুনেছেন ইউটিউব থেকে টাকা আয় করা যায়। কিন্তু, বাস্তবে কোনো ধারণা ছিল না। নিজের রুমে এসে জানলেন, পাশের রুমের অন্য এক সহপাঠী শিমুলও ইউটিউবিং করে। তখনই তার থেকে সফটওয়ার নিয়ে কিছু কাজ শিখে নিলেন। ঐ দিনই একটা ভিডিও বানিয়ে আপলোড করলেন। সেদিন থেকেই বিষয়টা নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু হয়ে গেল। টানা এক মাস ভিডিও বানালেন। প্রায় ৭০টি ভিডিও আপলোড করেও কোনো ভিউ নেই। বাড়ির সবাই বললেন, কি শুরু করেছিস, পড়ালেখা বাদ দিয়ে? মেহেদী তবুও কাজ চালিয়ে গেলেন। ২ সেপ্টেম্বর কোরবানির ঈদের দিন নামাজ পড়ে এসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে ভিডিও বানালেন। আপলোড করার পরে ভালো ভিউ আসতে থাকল। এক দিনে এক লাখের বেশি ভিউ আসল। পরে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ভিডিও দিলে ভালো ভিউ আসত। ১০ হাজার ভিউ এর শর্ত পূর্ণ হলো (বর্তমানে চার হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম এবং এক হাজার সাবস্ক্রাইবার)। ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে মনিটাইজেশনের জন্য ইউটিউবের কাছে আবেদন করলেন। সন্ধ্যায় এপ্রুভ হলো এবং আয় শুরু হয়ে গেল। ফ্রান্স থেকে বাড়িতে চিঠি আসল এড্রেস ভেরিফিকেশনের জন্য। জীবনের প্রথম আয় ১৩ হাজার টাকা হাতে পেলেন ঐ বছরের ডিসেম্বর মাসে।

ইউটিউব হলো ধৈর্যের পরীক্ষা

মেহেদী হাসান হামিম বলেন, অন্যরা যেখানে বিকেলে সময় পেলে একটু ঘুরতে যায়, তখন আমি হলের ব্যালকনিতে বসে রেকর্ডিং করেছি, ভিডিও বানিয়েছি। আটজনের এক রুম যখন একটু ফাঁকা হবে, তখন আমি রেকর্ডিং করব, এই আশায় বসে থাকতাম। এভাবেই পথচলা শুরু। আমার ইউটিউব চ্যানেলে এক লাখ সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ হওয়ায় ২০১৮ সালের ৯ আগস্ট ইউটিউব থেকে সিলভার প্লে বাটন ক্রেয়েটর অ্যাওয়ার্ডটি হাতে পাই।

তিনি বলেন, ইউটিউবিং এ কেউ আসতে চাইলে তাকে চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। অন্যথায় সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। আর একবার সফলতা পেয়ে গেলে পরে একটু কম সময় দিলেও চলে।

পরিবারের ত্রাণকর্তা হামীম

বর্তমানে একই কন্টেন্ট দিয়ে ফেসবুক এবং ইউটিউবে ইনকামের সুযোগ রয়েছে। মেহেদী হাসান বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে পড়ালেখার পাশাপাশি ইউটিউবিং করেছি। আমি আমার পরিবারের শতভাগ খরচ এবং নিজের খরচ বহন করেছি। বলা যায়, রাজকীয়ভাবেই চালিয়েছি এবং চলেছি। কারণ, প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরির চেয়েও ভালো আয় এসেছে। সম্প্রতি একাডেমিক পড়ালেখা শেষ হয়েছে। এখন সন্ধ্যার পরে টুকটাক কাজ করি, যা দিয়ে পরিবার এবং নিজের খরচ ভালোভাবেই চলে যায়। পাশাপাশি সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছি। পরিবার থেকে কোনো চাপ নেই।

নতুনদের জন্য পরামর্শ

মেহেদী হাসান বলেন, যারা ইউটিউবিং শুরু করতে চান তাদের বলব, আপনি যেটাতে দক্ষ, আপনার যেটা ভালো লাগে সারাদিন যেটা নিয়ে চিন্তা করতে পারবেন, বোরিং হবেন না সেটা নিয়েই কাজ করুন। কারণ নিজের উপযুক্ত জিনিস খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ফুটবল খেলে ভালো সফলতা পেয়েছে, তাই বলে আপনিও ফুটবল খেলতে নেমে যাবেন না। আপনি হয়তো ভালো ক্রিকেট খেলেন, ওটা দিয়েই শুরু করুন।

নিজেই কিছু করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থীদের অনেকেরই নিজের খরচ নিজেকে চালাতে হয়। এক্ষেত্রে টিউশন না পাওয়া বা পেলেও বারবার ছুটে যাওয়াসহ নানা ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার অবসর সময়ে নিজের দক্ষতা রয়েছে সে বিষয়ে কন্টেন্ট তৈরি করে ফেসবুক এবং ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। যারা নতুন অর্থাৎ প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষে রয়েছেন তারা এই সেক্টরে আসতে পারেন। আর যারা তৃতীয় বা চতুর্থ বর্ষে রয়েছেন তারা অনেকেই চাকরির পড়ালেখা করেছেন। তাই তাদের এখন নতুন করে শুরু করার পরামর্শ দিব না, চাকরির পরে আপনারা শুরু করতে পারেন। আমার পরিচিত অনেকেই আমাকে দেখে সরকারি চাকরির পাশাপাশি এটা করে ভালো টাকা আয় করছেন।

কিভাবে কাজ শুরু করবেন, কোন বিষয়ে কাজ করবেন, কাজ করতে কি কি প্রয়োজন হবে এসবকিছুই ইউটিউবে রয়েছে। এসবের জন্য অন্য কারো কাছে আপনাকে যেতে হবে না। তবে এ সেক্টরে আসতে হলে আপনাকে চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। কারণ শুরুর দিকটা একটু কঠিন। তবে একবার সফলতা পেয়ে গেলে আর পেছনে তাকাতে হবে না। এক্ষেত্রে কেউ কেউ সফলতা পায় মাত্র এক মাসে বা তারও কম সময়ে। আবার কেউ পায় ছয় মাসে বা বছরে। আমার সফলতা এসেছে এক মাসে। এটা নির্ভর করে কাজের ইউনিকনেস, কোয়ালিটি, ধারাবাহিকতার ওপর। তবে ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর শতভাগ কপি, পেস্ট, শর্টকাট চিন্তা থাকলে কখনোই সফলতা আসবে না। তাই নিজের দক্ষতা, সৃজনশীলতা রয়েছে সে বিষয়েই কাজ করুন। লেগে থাকলে সফলতা আসবেই।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট