• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

ফটোকপি প্রশ্নে হবে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২২  

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২২ সালের বার্ষিক পরীক্ষা আগামী ৮ ডিসেম্বর শুরু হবে। চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিকের ক্লাস্টার (অঞ্চল) ভিত্তিক। প্রতিটি ক্লাস্টারে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে তা কম্পিউটার কম্পোজ করে এরপর ফটোকপি করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

গতকাল রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন) মণীষ চাকমা স্বাক্ষরিত এ আদেশে সারাদেশে উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিসারদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র ছাপাখানায় মুদ্রণ করা যাবে না। পরীক্ষার্থীদের ৬০ নম্বরের পরীক্ষা নিতে হবে। ৬০ নম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার সঙ্গে ক্লাস টেস্টের ৪০ নম্বর যোগ করে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে শিক্ষকদের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র কম্পিউটার কম্পোজ করে ফটোকপি করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফটোকপি, উত্তরপত্রসহ (খাতা) আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক খাত বা স্লিপ ফান্ড থেকে করতে হবে। প্রয়োজনে আগামী বাজেট থেকে সমন্বয় করা যাবে। পরীক্ষার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া যাবে না।

কোনো বিশেষ পরিস্থিতির জন্য মূল্যায়নের তারিখ ও সময়সূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে থানা বা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সিদ্ধান্তে তারিখ ও সময় পুনর্নির্ধারণ করা যাবে বলেও এই আদেশে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত রুটিন অনুসারে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দুই শিফটে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রথম দিন ৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১১ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির গণিত এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৩ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সমাজ ও বিজ্ঞান এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা; বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এসব শ্রেণির চারু ও কারুকলা, সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চারু ও কারুকলা, সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই আদেশ সম্পর্কে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বঙ্গবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মোহসীন কবির খান বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি না নেওয়ার উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। তবে আগের বছরের স্লিপ ফান্ড দেওয়ার সময় এ বিষয়টি অবহিত করলে ভালো হতো। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা হাজারেরও বেশি, সেসব বিদ্যালয়ে শুধু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফটোকপি ও পরীক্ষার কাগজ কিনতেই স্লিপ ফান্ডের অর্থের বেশি টাকা খরচ করতে হবে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিঞ্জিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিগার সুলতানা বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি, শ্রেণিকক্ষ তুলনামূলক কম; সেসব বিদ্যালয়ে একই সময়ে দুটি বা তিনটি শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়া খুবই কঠিন।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট