বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ || ১১ বৈশাখ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শহিদ মিনার: উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বার্তাবাহক

শহিদ মিনার: উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বার্তাবাহক
সংগৃহীত

চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। বাঙালির কর্ণকুহরে বেজে উঠছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামী ইতিহাস। রফিক, জব্বার, শফিক, সালাম ও বরকতের মায়ের ভাষার প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসার চেতনার প্রতীক শহিদ মিনার। বাঙালির ভাষার প্রেরণার এই মিনার গেয়ে যাচ্ছে মাতৃভাষার জয়গান। আর এদিকে বাংলা ভাষার জয়ের প্রতিধ্বনি যেন গেয়ে যাচ্ছে সবুজ টিলাবেষ্টিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার।  

৩২০ একরের সবুজ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের গল্প, আড্ডা ও প্রকৃতির আঁচলে অশান্ত মনকে প্রফুল্ল করার অন্যতম প্রিয় স্থান যেন এই শহিদ মিনার। বাংলাদেশের মধ্যে বৃক্ষরাজির ছায়ায় সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত একমাত্র মিনার শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। শিক্ষার্থীদের সারাদিনের ল্যাব, সেমিনার, ক্লাস ও নানা সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মব্যস্ততার শেষে স্বস্তির নিশ্বাস ছায়াময় এই মিনারটি। মিনারে প্রকৃতির স্নিগ্ধ পরিবেশ ও প্রফুল্ল মননে প্রেমিকের কণ্ঠে উঠে গান, প্রণয়ী হারায় গানের কথিত চরিত্রে, দর্শনার্থী হারায় তার মিনারের সৌন্দর্যে আর অবুঝ শিশুরা মেতে উঠে নানা অজানা প্রশ্নে।

এই তো ২১ ফেব্রুয়ারির সকালের প্রভাত ফেরিতে তানহা তার বাবা অধ্যাপক রাসেলকে জিজ্ঞাসা করে- আব্বু এটা কি? অধ্যাপক রাসেল শিশু কন্যাকে জানায়, এটা শহিদ মিনার। তোমার আম্মু তোমাকে আদর্শ লিপির বইয়ে অ আ ক খ গ ঘ ঙ নামে যে বর্ণমালাগুলো পড়ায়, তার মান রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলার কতিপয় দামাল ছেলেরা জীবন দেয়। তাদের স্মরণে এই মিনার তৈরি করা হয়।  

তানহা ফের জানতে চায়- ‘এখানে সবাই ফুল দিচ্ছে কেন?’

অধ্যাপক রাসেল জবাব দেয়, ‘বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছিল, তাদের সম্মানে এই ফুল দিচ্ছে এরা।’ 

তানহা ফের বলে, ‘কিন্তু আব্বু মিনার দেখতে এমন কেন? আমাদের মক্তবের মিনার তো অন্য রকম।’

অধ্যাপক রাসেল মেয়েকে বলে- ‘হ্যাঁ, তিনটি স্তম্ভে আমাদের শহিদ মিনার গঠিত। তুমি দেখ, মাঝখানে বড় স্তম্ভটির উপরের দিকটি একটু সামনের দিকে হেলে আছে। বুকের মধ্যে লাল সূর্যের ন্যায় একটি বৃত্তকে ধারণ করে আছে। এখানে মাঝখানের স্তম্ভটি যেন মা, আর দুইপাশে দুটি ছোট স্তম্ভ তার সন্তান। যেটি আমাদের এই বার্তা দিচ্ছে যে, একজন মা যেমন সন্তানকে তার আঁচলের শীতল ছায়ায় রেখে লালনপালন করে, বড় করে সন্তানের ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলে, তেমনি আমাদেরও দেশকে এভাবে ভালোবেসে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যেতে হবে।’

তানহা বলে- ‘জি আব্বু, আম্মু আর তোমার আদরে বড় হয়ে একদিন আমিও এই দেশকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

 

মিনারটির প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কাউকেই মুগ্ধ করতে বাধ্য।

মিনারটির প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কাউকেই মুগ্ধ করতে বাধ্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন ও ইউনিভার্সিটি সেন্টারের পশ্চিম পাশের মাঝামাঝি স্থানে চারদিকে বৃক্ষরাজি বেষ্টিত দীর্ঘ ৫৮ ফুট উঁচু টিলার ওপর ৬ হাজার ৮৮৬ বর্গফুট জায়গা নিয়ে নান্দনিক সৌন্দর্যে নির্মিত এই শহিদ মিনার। ভাষা শহিদদের স্মৃতিচারণে স্থাপিত মিনারটির অন্যতম আকর্ষণ হলো ১০১টি ধাপের সুদীর্ঘ সিঁড়ি। যা মোট তিনটি ফ্লাইটে বিভক্ত। এই শততম সিঁড়ি পেরিয়ে উপরে উঠলেই চোখে পড়ে মাটিয়া রঙের আঁকাবাঁকা বৃত্তাকার দেয়াল এবং দুই পাশের দেয়ালের মাঝখানে ৩৬০ ডিগ্রির এঙ্গেলের আড়াই ফুট উচ্চতার দুটি সার্কেল। এরপরেই মূল বেদিতে উঠার জন্য আরো সাত ধাপের ছোট সিঁড়ি পার হতে হয়।

জানা যায়, ২০০১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী মিনারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে সেই বছর সেপ্টেম্বরে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শহিদ মিনারটির নকশা প্রণয়ন করেন মহিউদ্দিন খান।

শহিদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাগর হাসান জাহিদ বলেন, ‘আমাদের শহিদ মিনারটির প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কাউকেই মুগ্ধ করতে বাধ্য। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার শেষে এখানে আসলে মুহূর্তের মধ্যেই হারিয়ে যায় আমার সব ক্লান্তি। মানসিক প্রফুল্লের সঙ্গে সঙ্গে মিনারটি মনে করিয়ে দেয় বীর শহিদদের আত্মত্যাগের কথা, আমাদের বুকে জাগ্রত করে দেশপ্রেম।

সূত্র: ডেইলি-বাংলাদেশ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়