• বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৪ ১৪২৯

  • || ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

বারোমাসি পেয়ারা চাষে সাবু মিয়ার বাজিমাত, ৫০ লক্ষ টাকা বিক্রির আশা

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০২২  

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের যুবক সাবু মিয়া পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বারোমাসি থাই পেয়ারার বাগান করে সফল হয়েছেন। দুই বছর আগে লাগানো গাছে ফল এসেছে, এখন বিক্রি করা শুরু করেছেন তিনি। প্রতিদিন ভোরে শুরু হয় গাছ থেকে পেয়ারা নামানো। স্থানীয় উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে জানায়, পতিত জমি গুলোতে বাগান তৈরি করতে সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা ও উৎসাহ করা হচ্ছে।

এই জেলার জমি লালমাটির হওয়ার কারণে এখানে ফসল চাষে লাভবান হন না কৃষকরা। তাই এখন এসব জমিতে দিন দিন বিভিন্ন জাতের ফলের বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। বাগানগুলোতে চাষ হচ্ছে বিদেশি জাতের পেয়ারা, আম, লিচুসহ নানা জাতের ফল।

পেয়ারার ১০০টি চারা লাগিয়ে যুবক সাবু মিয়া বাগান শুরু করেন। এখন সেই বাগানে পেয়ারা গাছের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার এবং বাগানের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ একর জমিতে।

এখন গাছ থেকে পেয়ারা নামানো শুরু করেছেন, বাগান থেকে প্রতিমণ পেয়ারা ১২০০-১৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাবু মিয়ার দেখাদেখি পাশের এলাকার অনেকেই বাগান করে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন।

সাবু মিয়া বলেন, ছোটবেলায় গ্রামগঞ্জ থেকে ফল কিনে শহরে নিয়ে বিক্রি করতেন তিনি। কয়েক বছর আগে ফল কিনতে গিয়ে এক বাগানের মালিকের সঙ্গে সাবু মিয়ার পরিচয় হয়। তার পরামর্শ অনুযায়ী গ্রামে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে পেয়ারাসহ নানা ফলের বাগান করা শুরু করেন। প্রথম বছরেই ফুল এবং ফল আসায় বাগান বড় করার ইচ্ছা হয় তার। পরবর্তীতে দুই হাজার চারা দিয়ে গড়ে তুলেছেন বারোমাসি থাই পেয়ারার বাগান।

তিনি আরো বলেন, বাগান করে আমি স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে স্থানীয় অনেক বেকার যুবকদের। তাদের জীবনেও পরিবর্তন আসছে। প্রতিদিন আমার বাগান থেকে ৫০ মণ পেয়ারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছরে ৫০ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রির আশা করছি।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার একলাসুর রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা রয়েছে- কোনো জমি যেন পতিত না থাকে। তাই পতিত জমিগুলোতে বাগান তৈরিতে উৎসাহ দিতে সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট