• বুধবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৯

  • || ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

অসময়ের তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী খুলনার চাষিরা!

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২  

খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার চাষিরা অসমের তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কারণ বছরে নির্দিষ্ট সময়ে কিছু এলাকায় ধান চাষ হলেও রূপসা নদী পানি লবণাক্ততার থাকায় বছরে বাকি সময় অনাবাদী থাকে। তাই সেই লবণাক্ততাকে দূর করে মৌসুম ছাড়া তরমুজ চাষে ঝুঁকেছেন এখানকার চাষিরা।

জানা যায়, কৃষি অফিসের অনুপ্রেরণায় ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্প হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে চাষিরা তরমুজসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করছেন। একদিকে ঘেরে মাছ চাষ অন্যদিকে আইলে নানা ধরনের সবজি উৎপাদনসহ চাষিরা ঝুঁকছেন মৌসুম ছাড়া তরমুজ চাষে।

রূপসা উপজেলার চাষি মো. হাফিজ শেখ বলেন, ১০ বিঘা জমির ঘেরের ভেড়িতে ঢ্যাঁড়শ, লালশাক, পুঁইশাক, সিম, বরবটি, লাউয়ের বীজ বপন করেছি। ফলনও মোটামুটি ভালো পেয়েছি। কিন্তু ভেড়ির জমি আরও বেশি পরিমাণে ব্যবহারের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী বাহারি তরমুজের চাষ করছি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তরমুজ ক্ষেতের মাচায় ঝুলছে বাহারি রঙের তরমুজ। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ কেজি তরমুজ বিক্রি করেছি। ক্ষেতে যে পরিমাণ তরমুজ রয়েছে তাতে প্রায় ৫০,০০০ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছি।

আরেক চাষি দিপঙ্কর দে বলেন, গত বছর এ তরমুজ চাষে ব্যাপক লাভ হওয়ায় সকল শ্রেণির চাষিদের মধ্যে তরমুজ চাষের আগ্রহ বেড়েছে। তরমুজ মৌসুমি ফল। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়। সেই তরমুজ এখন আর মৌসুমি ফল নয়। এখন সারাবছর তরমুজ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে মৌসুম ছাড়া বাজারে তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় কৃষক অধিক মূল্যে বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, এটি নিরাপদ ও সুস্বাদু তরমুজ। প্রথমবার অনেক চাষিরা আগ্রহ দেখাননি। প্রথম দিকে যারা উৎপাদন করেছিলেন তারা খুবই লাভবান হয়েছিলেন। লাভ হওয়ায় এবার চাষ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ বিঘা। অন্যান্য সবজি ও ফলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা মৌসুম ছাড়া তরমুজ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। চাষিদের স্বাবলম্বী করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে মৌসুমি বাহারি রঙের তরমুজ।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট