• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৮ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

সৌদি ফেরত মিরাজুলের ড্রাগন চাষে বাজিমাত!

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২২  

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার ইন্দুরকানি গ্রামের মিরাজুল ইসলাম ১০ বছর সৌদি আরবে থাকার পর আকামা জটিলতায় খালি হাতে দেশে ফিরে আসতে হয় তাকে। এক বছর বেকার থাকার পর পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তাকে দেখে এখন অনেকেই ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন।

জানা যায়, ইউটিউবে পতিত জমিতে ড্রাগন চাষের ভিডিও দেখে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হন। পরে বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে দেড় একর জমিতে গড়ে তুলেন ড্রাগনের বাগান। বর্তমানে বাগানে এখন সাড়ে ৩ হাজার ড্রাগন ফলের গাছ আছে। এ বছর খরচ বাদে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

মিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেড় একর পতিত জমি ড্রাগন চাষের শুরু করি। গাজীপুর থেকে ৬০ টাকা দরে ৬০০ চারা নিয়ে আসি। ড্রাগনের বাগান করতে মিরাজুলের খরচ হয়েছিল ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে ফল বিক্রি করে তাঁর খরচ উঠে গেছে। বছরে ৬ থেকে ৭ বার পাকা ড্রাগন সংগ্রহ করা যায়। তাছাড়া ড্রাগন চাষের পাশাপাশি বাগানে চুইঝাল, এলাচ, চায়না লেবুসহ মৌসুমি সবজি চাষ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাগানের বেশির ভাগ গাছে এ বছর ফল ধরেছে। গত মঙ্গলবার বাগান থেকে দেড় টন ফল সংগ্রহ করেছেন। ২৫০ টাকা কেজি দরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে ড্রাগন বিক্রি হয়। নভেম্বর পর্যন্ত আরও ৫–৬ বার বাগান থেকে ফল তোলা যাবে। আশা করছেন, খরচ বাদে এবার ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা লাভ থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণ বয়সের একটি ড্রাগনের চারা রোপণের পর ২৫ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। এর মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে কয়েক দিন পরপর সেচ দিতে হয়। বৃষ্টির পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। ড্রাগন ফল চাষে রাসায়নিক সার দিতে হয় না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা বলেন, মিরাজুল ইসলামকে ড্রাগন চাষে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। উপজেলায় তাঁর বাগানটি সবচেয়ে বড়। তিনি নিরলস পরিশ্রম করে ছোট থেকে বাগানটি বড় করেছেন।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট