• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

সীমান্তে পতিত ও উঁচু জমিতে সবজী চাষে কৃষকের মুখে হাসি!

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২২  

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ী সীমান্তবর্তী এলাকার দরিদ্র পরিবারের লোকেরা পতিত ও উঁচু জমিতে সবজির চাষ করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হচ্ছেন। এই এলাকায় জমি থাকলেও উঁচুতে হওয়ায় সেখানে ধান, পাট চাষ করা যেত না। ফলে তারা অনেক কষ্টে দিন কাটাতো। এখন তারা সেই জমিতে সবজির চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

জানা যায়, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের পাহাড়ী সীমান্তবর্তী এলাকায় নরসিংদী ও আরো বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে বসবাস শুরু করে। তারা অত্যন্ত দক্ষ কৃষক। পাহাড়ি উঁচু জমিতে ধান, পাট চাষ করতে না পারলেও তারা সেখানে বিভিন্ন জাতের সবজি সীম, লাউ, বরবটি, করল্লা, চাল কুমুড়, মিষ্টি লাউ, পুটল, কাকরুল, বেগুন, লাল শাক, পালং শাক, ডাঙ্গা, আলু ও মূলা সহ আরো অনেক জাতের সবজি চাষে সফলতা পেয়েছেন। সবজি চাষে তাদের সফলতা দেখে স্থানীয় কৃষকরা সবজি চাষ শুরু করে।

বর্তমানে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের পাহাড়ী সীমান্ত এলাকা সন্ধাকুরা, গোমরা, গারকোনা, হলদীগ্রাম, ফাকরাবাদ, ভারুয়া, রংটিয়া সহ আরও অনেক গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ শুরু হয়েছে। ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠী এখন স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে। এখন এখানকার উৎপাদিত সবজি ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। নগদ টাকায় এই সমস্ত সবজি বিক্রি করে কৃষকরাও খুশি।

ভারুয়া গ্রামের হাফেজ আলী বলেন, আমি ১৫ শতাংশ জমিতে লাউয়ের চাষ করেছি। জমিতে লাউয়েরে ভালো ফলন হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। সন্ধাকুরা গ্রামের আব্দুল কাদির বলেন, আমি ২০ শতাংশ জমিতে কেরেলার আগাম জাতের শীম চাষ করেছি। জমিতে ব্যাপক ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় লক্ষাধিক টাকার শীম বিক্রি করেছি।

ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন দিলদার বলেন, আগে এইসব এলাকায় সবজির চাষাবাদ করা হতো না। এখন তাদের সবজি চাষে সফল হওয়ার খবর শুনে খুব খুশি হয়েছি। আমরা তাদের সবধরনের সহযোগীতা ও পরামর্শ দিতে প্রস্তুত। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আগে সবজির চাষাবাদ করা হতো না। বর্তমানে তারা সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। আমরা কৃষকদের সবজি উৎপাদনের জন্য আরও উৎসাহিত করছি।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট