সোমবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ || ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ০৬:১৭, ২৫ মে ২০২৩

গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সামসুলের ৯২ হাজার টাকা লাভের আশা!

গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সামসুলের ৯২ হাজার টাকা লাভের আশা!

নীলফামারীতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে কৃষক সামসুল হক সফল হয়েছেন। এই জেলার মাটি ও আবহাওয়া এই ফল চাষের উপযোগী হওয়ায় তিনি চারা রোপনের মাত্র ৭৫ দিনের মাথাতেই ফলন পেয়েছেন। এখন তার জমির মাচায় ছোট-বড় নানা রঙের তরমুজ ঝুঁলছে। বিভিন্ন ধরনের এই তরমুজরে চাষ করে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন। তার এমন সফলতায় এলাকার অনেকেই এর চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

জানা যায়, কৃষক সামসুল হক নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের উত্তর কানিয়াখাতা গ্রামের বাসিন্দা। তার নিজের মাত্র ২৬ শতাংশ জমি রয়েছে। তিনি এবছর ১৫ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন তৃপ্তি ও ব্ল্যাক-বেবি জাতের তরমুজের চাষ করেছেন। চারা রোপনের মাত্র ৭৫ দিনেই ফলন পেয়েছেন। তার জমির মাচায় হলুদ, সবুজ রঙের ছোট-বড় তরমুজ ঝুঁলছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন প্রায় ৩ কেজি করে। তার জমিতে নতুন এই তরমুজের চাষ দেখে এলাকার অনেকেই এর চাষের জন্য আগ্রহী হয়ে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে আসেন।

কৃষক সামসুল হক বলেন, আমি ১৫ শতাংশ জমিতে তৃপ্তি ও ব্ল্যাক-বেবি জাতের ১৫০টি তরমুজের চারা রোপন করেছি। চারা রোপনের ৭৫ পরই ফলন পেতে শুরু করি। বর্তমানে আমার জমির লাগানো প্রতিটি গাছেই ছোট-বড় তরমুজ ধরেছে। প্রতিটি গাছে ৫-৬ টি ফল ধরেছে। যার প্রতিটির ওজন কমপক্ষে ৩ কেজির মতো হয়।

তিনি আরো বলেন, তরমুজ চাষে আমার ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এইভাবে ফলন আসতে থাকলে আশা করি জমি থেকে ১৮০০ কেজি তরমুজ পাওয়া যাবে। যার বর্তমান বাজার দরে ১ লাখ ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবো। এতে আমার সকল খরচ বাদ দিয়ে ৯২ হাজার টাকা লাভ হবে।

একই গ্রামের কৃষক এসহাক বলেন, এই অঞ্চলে বেশি শীত পড়ায় এখানে তরমুজের আবাদ করা যায় না। তবে সামসুল হক গ্রীষ্মকালীন এই তরমুজের চাষ করে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছেন। আমরা মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, পটল চাষ করে যে লাভ পাই সামসুল তরমুজ চাষ করে তার দ্বিগুণ লাভ করছে। আমিও আগামীতে এর চাষ করবো।

সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম রাকিব আবেদীন বলেন, তৃপ্তি ও ব্ল্যাক বেবি এই দুটি হলো গ্রীষ্মকালীন তরমুজের জাত। ফলের উপরের হলুদ ও সবুজ হলেও ভেতরে লাল। খেতে খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। রসালো এই ফলটি মিষ্টতার কারণে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমান বাজারে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা কেজি দরে এই ফল বিক্রি করা হয়। এতে বিঘায় প্রায় ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করা যায়। আমরা কৃষকদের এই জাতের তরমুজ চাষের জন্য উৎসাহিত করছি।

জাগ্রত জয়পুরহাট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়