বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১১:১০, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রূপপুরের জ্বালানি

বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান

বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান
সংগৃহীত

বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি কেন দেওয়া হয়নি তার কারণ ব্যাখ্যা করেছে পাকিস্তান। বিষয়টিকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত’ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই’র এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আলোচনার সৃষ্টি হলে পাকিস্তানের তরফে এ ব্যাখ্যা এল। খবর এএনআইয়ের।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব অনুমতির আবেদন তারা নির্ধারিত নিয়ম ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রোটোকল অনুযায়ী প্রক্রিয়া করে।

পাকিস্তান হাইকমিশন বলেছে, ‘প্রতিবেদনগুলোতে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তা ফ্লাইট রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থাপনার বিষয় বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়।’

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকমিশন আরও বলেছে, পাকিস্তান দুই দেশের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এর আগে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পাঠানো ইউরেনিয়াম জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পৌঁছায়নি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এএনআইকে বলেন, ‘আমরা শুনেছিলাম, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।’

তিনি জানান, রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও এএনআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে জ্বালানি গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা তাদের জানান, আকাশসীমা পরিষ্কার নয়। ফলে চালানটি পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং নতুন করে সময় নির্ধারণ করতে হতে পারে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটিতে রোসাটম কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বহনকারী রুশ কার্গো বিমান সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ বিকিরণ-নিরাপদ কনটেইনারে করে এসব জ্বালানি সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় ‘গ্রিন করিডোর’ দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হস্তান্তর শুরু হয়েছিল।

সূত্র : এএনআই

সূত্র: কালবেলা

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন

সর্বশেষ

শিরোনাম