শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ || ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৬:১৫, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

আজ একটি পেস্ট্রি খেতেই পারেন

আজ একটি পেস্ট্রি খেতেই পারেন
সংগৃহীত

ডেজ অব দ্য ইয়ার বলছে, প্রাচীন কালের রোমান গ্রিকরা ময়দা, তেল ও মধু দিয়ে পেস্ট্রি তৈরি করত। এটি প্রধান খাবারের পাশাপাশি ট্রিট হিসেবে ব্যবহার করত তারা। ওই পেস্ট্রির নাম ছিল ‘ফিলো স্টাইল পেস্ট্রি’।

মধ্যযুগেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল পেস্ট্রি। রাজা–বাদশা থেকে সাধারণ প্রজা—সবার কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল খাবারটি। ফলে পেস্ট্রি শেফদের রমরমা ছিল তুঙ্গে।

ধীরে ধীরে পেস্ট্রির জনপ্রিয়তা রোমের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের খাদ্য সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যায়। এখন পৃথিবীতে হরেক রকমের পেস্ট্রি পাওয়া যায়। এরকম একটি সুপরিচিত পেস্ট্রির নাম তুরস্কের ‘বাকলাভা ফিলো–টাইপ পেস্ট্র্রি’। বাদাম ও মধুর ফোঁটা থেকে তৈরি এই পেস্ট্রি বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়।

পেস্ট্রির সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুদ্ধেরও ইতিহাস। ১৮২৮ সালে মেক্সিকোতে গণঅভ্যুত্থানের সময় রেমোঁতেলের পেস্ট্রির দোকানে বেশ লুটপাট হয়েছিল। পরে রেমোঁতেল মেক্সিকো সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু মেক্সিকো সরকার রাজি না হলে ফরাসি সরকারের কাছে অভিযোগ করেন রেমোঁতেল। তাতেও ক্ষতিপূরণ পাননি তিনি।

এই ঘটনার প্রায় এক দশক পর অভিযোগটি নজরে আসে ফরাসি রাজা লুই ফিলিপের। তিনি ভাবলেন, মেক্সিকোর কাছে যেহেতু ফরাসি সরকারের অনেক পাওনা রয়েছে, সুতরাং এই সুযোগে চাপ দেওয়া যেতে পারে।

ফরাসি সরকার পাওনা চেয়ে বসে মেক্সিকো সরকারের কাছে। মেক্সিকো পাওনা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়। এরপরই বিশাল নৌবহর পাঠিয়ে দেন রাজা ফিলিপ। শুরু হয়ে যায় মেক্সিকো–ফরাসি যুদ্ধ। ১৮৩৮ সালের এই যুদ্ধ ইতিহাসে ‘পেস্ট্রি যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।

পেস্ট্রি যুদ্ধ তিন মাসের মতো স্থায়ী ছিল। শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো পিছু হটলে এই যুদ্ধে জিতে যায় ফ্রান্স।

যাইহোক, এই সব যুদ্ধ ও রক্তপাতের ইতিহাস ভুলে আজ আপনি একটি পেস্ট্রি খেতেই পারে। কারণ আজ পেস্ট্রি দিবস। আমেরিকার প্রতি বছরের ৯ ডিসেম্বর উদযাপন করা হয় পেস্ট্রি দিবস।

তবে পেস্ট্রি দিবস কখন থেকে আমেরিকায় উদযাপিত হতে শুরু করে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না। কে বা কারা দিবসটির প্রচলন করেছিলেন, সে ব্যাপারেও নেই কোনো তথ্য। কিন্তু তাকে কী? পেস্ট্রি দিবস যেহেতু আছে, পেস্ট্রি খাওয়া যেতেই পারে।

সূত্র: Independent Tv

সর্বশেষ

জনপ্রিয়