সোমবার   ২২ জুলাই ২০২৪ || ৬ শ্রাবণ ১৪৩১

প্রকাশিত : ১২:৩৫, ৩০ জানুয়ারি ২০২৪

যেসব কারণে কর্মস্থলে ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম ওঠে

যেসব কারণে কর্মস্থলে ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম ওঠে
সংগৃহীত

চাকরি যেমন হয়, তেমনি যায়ও। কখনো নিজের দোষের কারণে বা কর্মনৈপুণ্যের অভাবের কারণে চাকরি যেতে পারে। আবার কখনো কখনো কোম্পানির অবস্থা খারাপ হলে বা বৈশ্বিক কিংবা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিম্নমুখী হলে অবধারিতভাবেই ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরি হয়। তখন কর্মনৈপুণ্য ভালো থাকলেও ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম ওঠে অনেকের।

চলতি বছরের শুরুটাই হয়েছে এমন ছাঁটাইয়ের খবর দিয়ে। এই তো, কিছুদিন আগেও গুগল শয়ে শয়ে কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিল। মাইক্রোসফটও এমন ঘোষণা দিয়েছে সম্প্রতি। শোনা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী শুধু প্রযুক্তি খাতেই ১০ হাজার চাকরি যেতে পারে। নিত্য নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। এর বাইরে অন্যান্য খাতের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিও ছাঁটাইয়ের তালিকা করবে বলে গুজব আছে। এসবের মূল কারণ আসলে বিশ্বব্যাপী টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। পৃথিবীতে বর্তমানে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিমাণ গেছে বেড়ে। আরও আছে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক দর্শনের বিরোধ। সব মিলিয়ে এগুলোর কুপ্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। যদিও চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা হলেও পুণরুদ্ধারের পথে হাঁটছে, তারপরও মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের হারের ঊর্ধ্বগতিতে খুব একটা রাশ টানা যাচ্ছে না।

ফলে চলতি বছরে ছাঁটাইয়ের তোড় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্মস্থলে ছাঁটাইয়ের বা সাধারণভাবে বললে চাকরি যাওয়ার নানাবিধ কারণ থাকে। এসব কারণের তীব্রতা আবার কমিয়েও আনা যায় চাইলে। সেজন্য কিছু পদক্ষেপও নিতে হয়। চলুন, কর্মস্থলে চাকরি যাওয়ার বা ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম ওঠার কারণগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক সবিস্তারে। সেই সাথে জেনে নেব এসব ঝুঁকি হ্রাসের উপায়ও, যাতে আগে থেকে সতর্ক হওয়া সম্ভব হয়।

কারণ ও প্রতিকার

১. উল্টো-পাল্টা কিছু করেন কি?
যখন কোনো প্রতিষ্ঠান তার কোনো কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করে থাকে। এসবের মধ্যে অন্যতম হলো, কোনো কর্মী প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন কিনা। ভালো-মন্দ মিলিয়েই মানুষ। কোনো কোনো কর্মী থাকেন, যারা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য পরিচিত হয়ে যান। কারও আবার প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ নষ্ট করার বা কর্মচক্রে বাধা সৃষ্টির বদভ্যাস থাকে। এ ধরনের কর্মী চলে গেলেই বরং অফিস কর্তৃপক্ষ খুশি হয়। কারণ, কে না জানে—‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’!

এ ধরনের কর্মীদের মূল সমস্যা হলো—এরা নিজের কাজ বাদ দিয়ে সব সময় অন্যের কাজে নাক গলিয়ে বেড়ায়। যেসব বৈশিষ্ট্য দেখলে এদের চিনতে পারবেন, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—সহকর্মীদের সঙ্গে বাজে বা আপত্তিকর ব্যবহার, সব সময় অভিযোগ করার মানসিকতা, যেকোনো অজুহাতে কাজ এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা, প্রায় সময়ই নির্ধারিত সময়ের পরে অফিসে আসা, কর্মস্থলে গসিপ করে সহকর্মীদের সময় নষ্ট করা, কারও সামনে কথা না বলে তার পেছনে কথা বলা বা নেতিবাচক মন্তব্য করা, গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে উপস্থিত না থাকা ইত্যাদি ইত্যাদি। এমন ধরনের কর্মীরা কোনো নতুন প্রকল্প বা কাজ এলেই ব্যর্থতার উদাহরণ দিতে ভালোবাসেন। এরা পরিবর্তন মেনে নিতেও যারপরনাই অনিচ্ছুক থাকেন।

তাই ছাঁটাইয়ের তালিকা বানাতে বসলে অফিসের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই প্রকারের কর্মীদের ছেঁটে ফেলতে চায়। কারণ, সব সময়ই প্রতিষ্ঠানগুলো সেরা দল বানাতে চায়। সেই দলকে একতাবদ্ধ দেখতে চায়। এসবের বদলে উল্টো সমস্যা সৃষ্টি করে যেসব কর্মী, তাদের তাই ছেঁটে ফেলাই সঠিক মনে করে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রিপিকতাহলে এই কারণের প্রতিকার কী? একদম সোজা। স্রেফ ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টাটা করে যেতে হবে। সেই সঙ্গে উপরে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলো যেন আপনার চরিত্রে দেখা দিতে না পারে, তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। তবেই দেখবেন, অন্তত এ ধরনের বাজে কর্মীর ট্যাগ পেয়ে আপনাকে চাকরি হারাতে হবে না।

২. দক্ষতার উন্নয়নে কী করছেন?
যেকোনো প্রতিষ্ঠানই দক্ষ কর্মীকে চাকরিতে নিতে চায়। এখন ধরা যাক, একজন ব্যক্তি শুধু শার্টের বোতাম বানানোর দক্ষতা নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিল। সময়ের পরিক্রমায় ওই ব্যক্তি যদি শুধু ওই দক্ষতাতেই আটকে থাকেন, বাড়তি হিসেবে শার্টের কলার বানানোর দক্ষতা শেখার চেষ্টা না করেন, তবে কিন্তু ওই কর্মীর উপযোগিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। তাই প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান কর্মী হতে চাইলে দক্ষতার সীমা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এক্ষেত্রে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও কর্মীর দক্ষতা বাড়াতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। তবে সেসব দিয়ে সাধারণত ব্যবস্থাপনাগত, নেতৃত্বসংশ্লিষ্ট দক্ষতা বা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের মতো সফট স্কিল বাড়ানো সম্ভব হয়। কিন্তু হার্ড স্কিল বাড়ানোর জন্য আসলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকেই উদ্যোগী হতে হয় বেশি। এর জন্য বিভিন্ন কোর্স করা থেকে শুরু করে নতুন নতুন ডিগ্রিও নিতে হতে পারে।

এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের কথা বলা যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী জেনারেটিভ এআই এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (যেমন: চ্যাটজিপিটি) জয়জয়কার শুরুর পর এখন এ-সংক্রান্ত দক্ষ ব্যক্তির চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে এর আগের প্রযুক্তিতে যারা দক্ষ ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন চাকরি হারাতে শুরু করেছেন। যারা পরিবর্তনকে সহজে গ্রহণ করে তাতে দক্ষ হতে শিখছেন দ্রুত, তাঁরাই চাকরির বাজারে টিকে থাকছেন।

এই একই অবস্থা কিন্তু সব ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এবং এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো, নিজের দক্ষতাকে হালনাগাদ রাখা।

৩. আপনি কাজ করেন নাকি শুধুই দেখেন?
যদি কখনো প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন প্রথমেই এই শ্রেণির উচ্চপদমর্যাদার কর্মীর দিকে নজর দেয়। যেসব কর্মী সরাসরি কাজে যুক্ত থাকে, তাদের ছাঁটাইয়ের বদলে অধীনস্তদের কাজ পর্যবেক্ষণ বা দেখভালকারী উচ্চপদস্থ কর্মীকে আসলে ছাঁটাই করা সহজ। কারণ তাতে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের পরিমাণে কোনো হেরফের হয় না। আবার খরচও কমে যায় বেশ। ফলে এ ধরনের কর্মীরা একটু বেশিই ঝুঁকিতে থাকেন।

তবে যেসব উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপক অধীনস্তদের কাজ দেখভালের পাশাপাশি নিজেও উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হয় ঠিক উল্টোটা। ছাঁটাইয়ের ঝুঁকির বদলে তাঁরা প্রতিষ্ঠানের অমূল্য সম্পদে পরিণত হন। এমনকি প্রায় সময়ই তাঁদের বিকল্প খুঁজে পাওয়াও হয়ে যায় অত্যন্ত কঠিন। কারণ, এই ধরনের ব্যক্তিরা একদিকে যেমন সাধারণ কর্মীকে কাজ শেখান, কৌশলগত নেতৃত্বের হাল ধরে রাখেন, তেমনি টিমের মূল কাজেও সরাসরি হাত লাগান। ফলে এ ধরনের ব্যবস্থাপককে কখনো ‘অলস’ তকমা দেওয়া যায় না। এরা পরিবর্তনকে সহজে গ্রহণ করতে পারেন এবং যেকোনো সঙিন পরিস্থিতিও উৎরে যাওয়ার সক্ষমতা রাখেন। নিজের টিম সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা থাকায় উদ্ভূত সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও এর সমাধানেও এদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এদের অধীনে পুরো দলই একতাবদ্ধ থাকে দারুণভাবে।

আশা করি, ওপরের আলোচনাতেই এই সমস্যার কারণ ও প্রতিকার জানা হয়ে গেছে।

পিক্সেল৪. আপনি কি খুবই নীরব কর্মী?
একটি প্রতিষ্ঠানে সরব ও নীরব—দুই ধরনের কর্মীই কাজ করে থাকে। কেউ কেউ আছেন, নীরবে কাজ করে যান। তবে কাজের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ থাকা ভালো। কারণ কোনো কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা কিন্তু সেই ঊর্ধ্বতনের কাছ থেকেই জানা প্রয়োজন। এতে নিজের ত্রুটি সারানোও সহজ হয়। কিন্তু আপনি যদি স্রেফ নিজের মতো করে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন এবং এর মান নিয়ে সচেতন না হন, তবে কিন্তু একটা সময় আপনাকে ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ে যেতে হবে। তাছাড়া এ ধরনের কার্যকর যোগাযোগের মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষও আপনার কাজের মান, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে অবগত থাকতে পারে। ফলে ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরির সময় কর্তৃপক্ষকে আর আপনি আসলে কী করেন অফিসে, সেটি নিয়ে অন্ধকারে থাকতে হয় না। এতে চাকরি যাওয়ার ঝুঁকিও ঢের কমে যায়।

৫. অফশোরিং ও অটোমেশনের ঝুঁকি সম্পর্কে জানেন তো?
কখনো কখনো কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের পুরো কর্মপদ্ধতিই বদলে ফেলে। এবং এর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হলো অফশোরিং ও অটোমেশন। প্রযুক্তির ক্রমোন্নতির এই যুগে রোবট চাকরি খেয়ে ফেলবে মানুষের—এমন কথা তো বিশ্বব্যাপী বেশ প্রচলিত। অনেক সময় কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের প্রোডাকশন লাইনও এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করে কম ব্যয়ের হিসাবে। তখন অবধারিতভাবেই সৃষ্টি হয় ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি।

এ ধরনের ছাঁটাই হলে আসলে অনেক সময় দক্ষ কর্মীরও কিছু করার থাকে না। তবে ইন্ডাস্ট্রি ট্রেন্ড সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নিজের কাছে থাকলে আপনি আগে থেকেই এর আঁচ পাবেন। ফলে বিকল্প খোঁজার জন্য কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া চাইলে আপনি নিজের দক্ষতাকেও আগে থেকে বহুমুখী করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তখন। ফলে ছাঁটাইয়ের আগেই শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে গড়ে নেওয়া সহজ হবে। দেখা গেল, এর ফলে আপনি হয়তো আর ছাঁটাইয়ের খড়গে চাপা তো পড়লেনই না, বরং উল্টো আরও ভালো সুযোগ পেয়ে গেলেন!

৬. কর্মনৈপুণ্যের অভাবই সবচেয়ে বড় অভাব!
সবার শেষে এলেও, এটিই আসলে প্রধান। কর্মনৈপুণ্য উপযুক্ত মাত্রায় না থাকলে, হাজার গুণ থাকলেও কোনো প্রতিষ্ঠানই আপনাকে ধরে রাখতে উৎসাহী হবে না। তাই কঠোর পরিশ্রমের আসলে কোনো বিকল্প নেই, হয়ও না।

বছরান্তে সব প্রতিষ্ঠানই কম-বেশি কর্মীদের মূল্যায়ন করে। বেতন কখনো বাড়ে, কখনো না। কিন্তু মূল্যায়ন একটা হয়ই। তাই সেই মূল্যায়নে ভালো কর্মীর তকমা গায়ে জড়াতে পারাটা জরুরি। কারণ মূল্যায়নে যদি দেখা যায় কোনো কর্মী গড় নম্বরও পাচ্ছেন না, তখন সেই কর্মীকে কেন কোনো প্রতিষ্ঠান রেখে দেওয়ার চেষ্টা করবে? আপনি নিজেও যদি প্রতিষ্ঠান গড়েন, কাজ না পারা কর্মীকে কি মাসের পর মাস বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেবেন?

পিক্সেলএক্ষেত্রে আপনার কাজ ঠিকঠাক আছে কিনা, সে বিষয়ে জানতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখতে হবে। কেউ বলতেই পারেন যে, ‘আপনার কাজ হচ্ছে না!’ সেক্ষেত্রে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করতে হবে। ওই অনুযায়ী ত্রুটি সারানোর চেষ্টাও করতে হবে। এবং এটি শুধু বছরান্তে মূল্যায়নের সময় করলেই হবে না। বরং জারি রাখতে হবে কম-বেশি বছরজুড়েই।

তাই কর্মস্থলে কাজের ক্ষেত্রে সৎ থাকা বাঞ্ছনীয়। সব প্রতিষ্ঠানই কিছু ন্যূনতম পরিমাণ ও মানের কাজ সব কর্মীর কাছ থেকেই আশা করে। সেটি ব্যবস্থাপকেরা জানিয়েও দেন। স্পষ্টভাবে না জানালে, সরাসরি প্রশ্ন করে জেনে নেওয়া যেতে পারে। সেই অনুযায়ী কর্মপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কাজ সামান্য বেশি করলেও ক্ষতি নেই। ওতে বরং কর্মীরই আখেরে লাভ।

এবার আসুন উপসংহারে আসা যাক। ওপরে চাকরি যাওয়ার বা ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম ওঠার অনেক কারণ ও সেগুলোর প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা হলো। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের অবিসংবাদিত সত্যটি শুরুতেই বলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, চাকরি যেমন হয়, তেমনি যায়ও। তাই চাকরি গেলেই হতাশ হয়ে পড়ার কিছু নেই। চাকরি গেলেই যে দুনিয়ার সব শেষ, তা কিন্তু নয়। আর এই পরিস্থিতির ওপর সব সময় একজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণও থাকে না পুরোপুরি। কখনো কখনো তো স্রেফ পরিস্থিতি ও বাজে সময়ের শিকারও হতে হয়। সুতরাং, ধৈর্য্য, অধ্যবসায় ও মনোবল ধরে রাখার বিকল্প আদতে নেই একেবারেই।

সূত্র: Independent Tv

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ