• রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ২ ১৪২৮

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে আমন ধানের সবুজ-সোনালী শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১  

খাদ্যে উদ্বৃত্ত জয়পুরহাট জেলা। জেলায় উৎপাদিত প্রধান ফসলগুলোর মধ্যে ধান অন্যতম। সেই আমন ধানের সবুজ-সোনালী শীষেই এখন কৃষকের স্বপ্ন দুলছে । সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা সদরসহ কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও পাঁচবিবি উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন আমন ধান গাছের পাতা ও শীষের প্রাচুর্যে সবুজের সমারোহ। ঘন সবুজের মাঝে মাঝে দু’একটা সোনালী ক্ষেত দেখা যাচ্ছে।

 

সেগুলো আগাম জাতের আমন ধান। আগাম জাতের এ ধানগুলোর নাম: বীনা ধান-৭ এবং বীনা ধান-১৭। এ জাতের ধানগুলোর কাটা মাড়াইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাকী জাতের ধানের সবুজ গাছপাতা আর শীষগুলো আর কিছুদিন পরেই হলুদ বর্ণ ধারণ করবে। তখন সোনালী ধানের শীষে ঝলমল করবে সারা মাঠ। যাহোক, মাঠে মাঠে শরতের হালকা বাতাস দোল দিচ্ছে কাঁচা-পাকা ধানের শীষে, আর সে দোলায় আনন্দে দুলছে কৃষকের মন। সেই ধানকে ঘিরই এখন আগামীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জাল বুনছেন কৃষক। ধান বিক্রি করে- কেউ সেই জমিতেই আলু চাষ করবেন। কেউ পুরাতন ধার-কর্জ আর ঋণ শোধ করবেন, কেউ কিনবেন নতুন জামা-কাপড়। কেউ মেয়ে-জামাইকে ডাকবেন। কেউ বন্ধু-বান্ধব বা প্রিয়জনকে ডাকবেন। তাঁদেরকে নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা -পিঠা-পুলি, পায়েস-খীরসহ রকমারি উপাদেয় খাদ্য খাওয়াবেন। কেউ শীত কালে পূজা-পার্বণ উপলক্ষে বসা গ্রামীণ মেলা থেকে – খাট-পালঙ্ক, আলমারি, শোকেস, ড্রেসিং টেবিল, সোফা, ডাইনিং টেবিল, আলনাসহ কাঠের বিভিন্ন আসবাবপত্র কিনবেন। জেলার সদর উপজেলার কোমর গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম (৩২) জানান, তিনি এবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বিনাধান-১৭ আবাদ করেছেন। এগুলো আগাম জাতের ধান। আর বাকি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে মামুন জাতের ধান চাষ করেছেন। আগাম জাতের বিনা ধান-১৭ ইতোমধ্যে কাটা-মাড়াই কাজ শেষ পর্যায়ে। আর অল্প দিনের মধ্যেই ওই জমিতে আগাম জাতের মিউজিক আলু চাষ করবেন তিনি। আগাম জাতের এ ধান তিনি প্রতিবিঘা ২ হাজার টাকা দরে, চুক্তিতে শ্রমিকদের মাধ্যমে কেটে নিচ্ছেন। জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ বানিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, আর অল্প ২৫-৩০ দিনের মধ্যেই তাঁর ধান কাটা শুরু হবে। ধান বিক্রি করে তিনি মেয়ে জামাই ডাকবেন। আর নতুন ধানের নতুন চাল দিয়ে তৈরি করা পিঠা, পায়েস, পুলিশসহ বিভিন্ন ধরনের উপাদেয় খাদ্য তিনি তাঁদের খাওয়াবেন। জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম পারুলিয়া গ্রামের আরমান জানান, নতুন ধান কাটা মাড়াই শেষে তিনি এলাকার পূজা-পার্বণ এবং শীতকালে বসার মেলা থেকে কাঠের তৈরি করা বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্রয় করবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে ৬৯ হাজার ৬৬০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে- ৬৯ হাজার ৬৬২ হাজার হেক্টর জমিতে। চলতি রোপা আমনধান মৌসুমে বিভিন্ন জাতের মধ্যে উপশী জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল- ৬৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে- ৬১ হাজার ৮১২ হেক্টর জমিতে। হাইব্রিড জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল- ৫ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে কিন্তু অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে- ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। আর স্থানীয় জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল- ৭০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে- ৬০০ হেক্টর জমিতে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত রৌদ্রোজ্জ্বল। ধান ক্ষেতের রোগ বালাই ছিল নগণ্য। যে অল্পস্বল্প জমিতে কিছুটা রোগবালাইয়ের ছিল, তা অত্যন্ত কম। কৃষি বিভাগের দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ নিয়ে কৃষকরা এবার জমি চাষাবাদ করেছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে; আশা করা যাচ্ছে, চলতি মৌসুমে ধানের ভালো ফল অর্থাৎ ধানের বাম্পার ফলন হবে। ছবির ক্যাপশন: (১) জমি থেকে ধান নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন শ্রমিকরা। ছবিটি সদর উপজেলার ভূতগাড়ি মাঠ থেকে মঙ্গলবার তোলা। (২) শ্রমিকরা জমি থেকে ধানের আটি সংগ্রহ করে ভার সাজাচ্ছেন। ছবিটি সদর উপজেলার ভূতগাড়ি মাঠ থেকে মঙ্গলবার তোলা।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট