• বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

  • || ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে স্বামী হত্যায় প্রেমিকসহ স্ত্রীর যাবজ্জীবন

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর ২০২১  

জয়পুরহাটে স্বামী হত্যায় প্রেমিকসহ স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সোমবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের জজ নূর ইসলাম এই রায় দেন। একই আদেশে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা, তা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

জানা যায়, নওগাঁর খাদাইল নগর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে পলাশ হোসেন জয়পুরহাটের পশ্চিম রামচন্দ্রপুর খামারবাড়িতে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি স্ত্রী সনি খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করতেন। সেখানে পলাশ ওই এলাকার রনিকে চাকরি দেন।

পরে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেন তিনি। চাকরির সুযোগে রনির সঙ্গে সনি খাতুনের পরিচয় হয়। এই সুযোগে তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী পলাশ ও স্ত্রী সনির মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো।

এরপর সনি ও পরকীয়া প্রেমিক রনি পরিকল্পনা করে ২০১৫ সালের ১১ মার্চ রাতে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। রাত ১১টার দিকে রনি বাড়ির প্রাচীর পার হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর পলাশ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রাত ১২টায় সনি তার স্বামীর পা চেপে ধরে এবং রনি পলাশের গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

তারপর মৃতদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয় তারা। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা আবু বক্কর হোসেন বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ নিহতের স্ত্রীকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

ওই মামলায় ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সময়ে ১১ জনের স্বাক্ষী শেষে আসামিরা আজ সোমবার আদালতে হাজির থাকা অবস্থায় বিচারক ওই রায় প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি ঢাকা পোস্টকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পলাশের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর পুলিশ তাদেরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পলাশের স্ত্রী সনি পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা করে বলে জবানবন্দি দেন। এরপর শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট