• মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠছে

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২২  

উত্তরাঞ্চলের ছোট জেলা শহর জয়পুরহাটে ঈদের কেনাকাটা বেশ জমে উঠেছে। বিভিন্ন মার্কেট, বিপনী বিতান, বিগবাজার, শপিংমল ও হকার্সপট্টি এখন ক্রেতা সমাগমে মুখোরিত। এবার দেশীয় কাপড়ের চাহিদা বেশি বলে জানালেন কাপড় বিক্রেতারা।  

বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, করোনা প্রাদূর্ভাব কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে অনেকটা স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়।  ঈদ যত কাছাকাছি আসছে ততই বাড়ছে কেনাকাটা। দিন-রাতে সুবিধামত সময়ে লোকজন যাচ্ছেন মার্কেটে, বিপনী বিতান ও শপিংমলে। ঈদ মার্কেটের কারনে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে উঠেছে পূর্ব বাজারের বড় কাপড় ও ফ্যাশন শো, শপিংমলসহ অন্যান্য কসমেটিকস, জুতা ও সাধারণ কাপড়ের দোকান-পাঠ গুলো। নারী, পুরুষ, শিশু কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কিনছেন তাদের পছন্দসই সামগ্রী। ক্রেতারা এখন পোশাক সামগ্রী কিনলেও  প্রসাধনী ও জুতোর দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড়ে শহরে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। কেনা-বেচা চলে  রাত ১২ পর্যন্ত।  

যানজট নিয়ন্ত্রন করতে ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলা শহরের নিউমার্কেট, সদর রাস্তা, পূর্ব বাজার কাপড় পট্টি, এনামুল হক মার্কেট, মীনা বাজার ও হকার্স পট্টির, বিগবাজার, মৌসুমী , শাহাজান আলী মার্কেট সহ বিভিন্ন দোকান-পাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা বাড়তি কথা বলার সময় পাচ্ছেন না। 

রোজা শুরুর পর  বেচা-বিক্রিতে একটু ভাটা পড়লেও শেষ পর্যায়ের বেচা কেনা চলছে পুরো দমে বলে জানালেন পূর্ব বাজার লেডিস মার্কেটের সাজ লেডিস কালেকশনের মালিক নাসরিন আক্তার। তিনি জানান, ক্রেতাদের কাছে এবার জনপ্রিয় আইটেম হচ্ছে ইন্ডিয়ান সারারা, কাঁচাবাদাম, ঘারারা, ডায়মন্ড, বিবেক, লংস্কাট, পাখি লেহেঙ্গা, ঐশ্বরিয়া বাবর্টী, মূল্যাইট, পার্টিক্রম, স্কাট, জর্জেট নি¤েœ  ২০০০ টাকা থেকে উপরে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পছন্দসই কাপড় কিনছেন ক্রেতারা। দেশীয় শাড়ির মধ্যে সিল্ক, কাতান ও টাঙ্গাইলের শাড়ির চাহিদার পাশাপাশি  গ্রাউন, থ্রিপিচ  ও বেবি সেট মেয়েদের পোশাকের চাহিদা এবার বেশি বলে জানালেন- শফি বিশ্বাস। ছোট শিশুদের জন্যও রয়েছে বেবি সেট ও গেঞ্জি সেট। বিভিন্ন মাপের গামের্ন্টস পোশাক শিশুদের জন্য  বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে জানান পূর্ব বাজার বাবু গার্মেন্টসের মালিক মাসুদ পারভেজ বাবু। থ্রি পীচ ১৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। সাজ লেডিস কালেকশনের মালিক নাসরিন আকতার বলেন, ক্রেতারা তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করে কেনাকাটা করছেন। 
এবার পাইকারী বাজারেও কাপড়ের দাম বেশি পড়েছে। পূর্ব বাজার কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি শফি বিশ্বাস বলেন, এবার করোনার প্রাদূর্ভাব কম থাকায় ক্রেতা সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউমার্কেট, বিপনীবিতান ও শপিংমল ছাড়াও রেলওয়ে হকার্স মার্কেটে ও রাস্তার পাশের ছোট দোকান গুলো থেকে কেনাকাটা করছেন নি¤œ আয়ের ক্রেতারা তাদের সামর্থ অনুযায়ী। বিশ্বাসপাড়ার  শিশু ফাইয়াজ ইসলাম জানান, থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট ও স্যান্ডেল কিনেছেন এবারের ঈদে। বাগিচাপাড়া মহল্লার  রবিউল ৪০০০ টাকার মধ্যে দুটি পাঞ্জাবী, একটি টাউজার কিনলেও দাম বেশি হয়নি বলে তিনি জানান। 

নিউ মার্কেটের ফেমাস টেইলার্সের মালিক আলহাজ মকবুল হোসেন বলেন, গামের্ন্টস কাপড় বেশি বিক্রি হলেও টেইলার্সে অনেক কাপড় আসছে। সময় মত ডেলিভারি দেয়ার জন্য কাপড় বুকিং নেয়া বন্ধ করা হয়েছে। এবার সেলাইয়ের জন্য সার্ট প্রতি ৩৫০-৪০০ টাকা, প্যান্ট ও পাঞ্জাবী সেলাই প্রতিটি ৪০০-৫০০ টাকা মজুরী নেয়া হচ্ছে। জেলা শহরের প্রায় শতাধিক টেইলার্সের শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানান তিনি। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, জেলার সার্বিক আইনশৃংখলা ভালো। তারপরেও ঈদের কেনাকাটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে মার্কেটগুলোতে। বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট