• বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

  • || ০৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

কালাইয়ে আমন ধানের বীজতলা তৈরীতে ব্যস্ত কৃষক

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২২  

প্রতেক বছরে ব্যুরো ধান কাটার শেষ পর্যায়ে আগাম বৃষ্টি আমাদের জানান দেয় বর্ষাকালের। বর্ষাকাল এলেই শুরু হয় আমন ধান লাগানোর পরিকল্পনা। বর্ষাকালের বৃষ্টির পানিতে আবার কেউবা সেচের মাধ্যমে চলতি আমন মৌসুমে বীজতলা তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জয়পুরহাট কালাইয়ের চাষীরা। ইতিমধ্যে তারা অনেকেই বীজতলায় বীজ বুনেছেন আবার কেউ প্রস্তুতের জন্য মাঠে কাজ করছেন। 

বর্ষাকালের পানিতে যাতে বীজতলা ডুবে না যায় সে জন্য তা নির্ধারিত উচু স্থানে বীজের চারা উৎপাদনের জন্য বীজ বুনেছেন। এদিকে কৃষকরা ইতিমধ্যেই তাদের বোরো ধান  ঘরে তুলতে না তুলতেই বীজতলা তৈরী, বীজ বোপন ও বীজতলার পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে তারা আমন বীজতলা তৈরির জন্য মাঠে কাজ করছেন এবং বীজতলা পরিচর্যা ও আগাছা দমন করছেন। অপরদিকে কিছু কৃষক তাদের জমিতে বলান করার জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। কেউ জমির আইল কাটছেন আবার কেউ জমি চাষ করে নিচ্ছেন। 

উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের কৃষক আঃ হাকিম, আমিরুল, আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা আমন ধানের চারার জন্য বীজতলা তৈরি করছি। এবার সেচ এবং বৃষ্টির পানিতেই নির্ধারিত জমি চাষ করে বীজতলা তৈরীর কাজ করছি। ধানের ফলন বেশি পাওয়ার জন্য উচ্চ ফলনশীল উন্নত জাতের ধানের বীজ উৎপাদনে বীজতলার যত্ন নিচ্ছি। 

উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের মোঃ দেলোয়ার হোসেন, জাহিদুল ইসলাম আমিরুল ইসলাম জানান, এ বছর তারা ৩০-৩৫ বিঘা জমির জন্য বীজতলার কাজ করছেন। অধীক ফলনের জন্য বাজার থেকে ভাল জাতের বীজ কিনছেন তারা। 

উপজেলার নুনুজ বাজারের বীজ ডিলার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং উচ্চ ফলন পান এই জন্য উন্নত যাতের বীজ ধান বিক্রি করছি। 

মোসলেমগঞ্জ বাজারের আরেক বীজ ডিলার মোঃ ইউসুফ আলী জানান, খাটো মামুন ও ৪৯ ধানের বীজের জন্য এ এলাকার কৃষকরা আগ্রহী বেশী। এখন পর্যন্ত আমি ৮-৯ হাজার কেজি বীজ ধান বিক্রি করেছি। 

উপজেলা কৃষি সূত্রে জানা যায়, গত বছর এ উপজেলায় কৃষকরা তাদের জমিতে আমন ধান লাগানোর জন্য ১৩ হেক্টর জমিতে চারা উৎপাদন করেছিল। এবারও আমরা আশা করছি সেই পরিমাণ চারা তারা উৎপাদন করবেন। গত বছর আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ১শ ৮০ হেক্টর।  চলতি বছরেও এরকম  হবে বলে ধারণা। 

এ ব্যাপারে কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান জানান, আমরা কৃষি অফিস থেকে এ উপজেলায় কৃষকদের সঠিকভাবে বীজ উৎপাদনের জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও আমাদের উপসহকারী কৃষি অফিসার রা মাঠে গিয়ে কৃষকদের নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। 

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট