• শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

পাঁচবিবিতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে প্রাচীনকাল থেকেই মাটির ঘরের ব্যাপক প্রচলন। তবে বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। অথচ বেশি দিন আগের কথা নয়, পাঁচবিবি উপজেলার আটটি ইউনিয়নের পাঁচটিতে সবচেয়ে বেশি মাটির ঘর দেখা যেত। ওই ইউনিয়নগুলো হলো- আটাপুর, মোহাম্মদপুর, আওলাই, কুসুম্বা ও বাগজানা। এর মধ্যে বাগজানার শেকটা এবং জীবনপুর গ্রামে আবার মাটির দোতলা ঘর চোখে পড়ত। যার অল্প কয়েকটি ঘর এখনো আছে।

এর মধ্যে একটি বাগজানার মরহুম জামিনুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়ি। যা এ যুগে স্মৃতি বহন করছে। এই মাটির ঘরে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের নকশা আঁকা থাকত। পুরনো ঐতিহ্যের অনেক ছবি দেওয়ালগুলোতে আঁকা হতো। এতে আবার রঙও করা হত। এই দেয়াল তৈরির কাজ যারা করত তাদের কারিগর বলা হত। মাটির ঘর তৈরির উপযুক্ত সময় ছিল শুষ্ক মৌসুম। মাটির ঘর তৈরি করে ছাদে বাঁশ ও তার ওপরে অন্তত এক ফুট মাটির প্রলেপ দেয়া হত। কেউবা ছনের ছাদও তৈরি করত। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলরা অবশ্য টিনের ছাদ দিত। কেউবা এই মাটির ঘর আরো মজবুত করতে সিমেন্টের প্রলেপ দিত।

ঘরের নিচের অংশে আলকাতরা লাগিয়ে দিতো, যেন বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে না যায়। দূর থেকে দেখে মনে হত এটি একটি পাকা দালান বাড়ি। মাটির ওই ঘরে সবসময় ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করত। এমনকি আগুন লাগলেও ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে যেত না। পাঁচবিবির আটাপুর ইউনিয়নের ভালুকগাড়ী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আজাদ আলী বলেন, ‘আমার একটি দোতলা মাটির ঘর রয়েছে। ঘরটি খুবই আরামদায়ক। চোর-ডাকাতের হাত থেকেও নিরাপদ। গ্রীষ্মের তাপদাপে যনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন মাটির ঘরে বিরাজ করে শীতলতা। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন মাটির ঘরে কেউ বসবাস করতে চায় না। তাইতো দিন দিন মাটির ঘর ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটের তৈরি পাকা দালান।’

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট