• বুধবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৯

  • || ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে বেকারের স্বপ্ন গরুর খামারে

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২  

চলতি বছর কোরবানিতে জয়পুরহাট জেলায় কোরবানীন জন্য এক লাখ ৩০ হাজার ২৫০টি পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে পশু মজুদ ছিলো ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬০টি গবাদি পশু। করোনার বড় ধরনের ধাক্কার পরেও সফল জেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর। করোনার জেলায় পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পে কিছুটা ধ্বস নামলেও মাংস উৎপাদনের ক্ষেত্রে তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। এ জেলায় প্রায় দুই লাখ মানুষ খামারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে। 

জয়পুরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ি, জেলায় ছোট বড় মিলে জেলায় ১২ হাজার ৬৮৪টি পশুর খামার রয়েছে। এ পরিসংখ্যানের মধ্যে মৌসুমি খামারির সংখ্যাই বেশি। যারা কোরবানির কয়েক মাস আগে গরু মোটাতাজাকরণ করে বিক্রি করে থাকে।

খামারগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটাতাজাকরণ কর্মসূচির আওতায় পশু লালন-পালন করা হয়ে থাকে। ছোট বড় মিলে জেলায় ২২টি পশুর হাট রয়েছ যে হাট গুলোতে বেচা কেনা জমে উঠেছে। গ্রামীণ পর্যায়ে গরু-ছাগলের খামার তৈরিতে সরকারের নানামূখী আয়বর্ধন মূলক কর্মসচি বাস্তবায়নের ফলে সাধারণ মানুষ এখন অভাবকে দূরে ঠেলে দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন গরু-ছাগলের খামার করে।

গেলো কোরবানি ঈদে জেলায় এক লাখ ৩০ হাজার ২৫০টি পশু কোরবানীর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে জেলার খামারগুলোতে পশু মজুদ ছিলো ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬০টি। এরমধ্যে রয়েছে  ষাঁড় রয়েছে ৩০ হাজার ৪৭৫টি, বলদ রয়েছে ১৫ হাজার ১৪টি, গাভী রয়েছে ২৫ হাজার ৬৬৩টি,  মহিষ ২০৪টি, ছাগল ৮২ হাজার ৩৪টি ও ভেড়া রয়েছে ২৫ হাজার ২৭০টি।

জেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি গরু ছিলো, ৪৮ হাজার ৪১০টি পশু। করোনার সময় আশেপাশের জেলার খামারিরা অনেকটা সমস্যায় পড়লেও এ জেলায় খামারিরা তুলনামুলক কম সমস্যায় পড়েছিল। চিকিৎসা সহযোগিতা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে সব ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছিল এ জেলার প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তারা।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার পাল পাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম। তার খামারে ১১টি গরু আছে। আগামী কোরবানীর জন্য তৈরি করছেন গরুগুলো। রফিকুল ইসলাম জানান, এখন খামারে গরু পালনে খরচ বেড়েছে বেশ। দিনে দিনে বাড়ছে গো-খাদ্যের দাম। সে কারণে ব্যয় বাড়ছে। ব্যয় যতো বাড়বে লাভ ততো কম হবে।  

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মাহফুজুর রহমান জানান, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রাণি সম্পদটাকে আরো বেশি সামনে এগিয়ে নেয়া। এর মধ্যেমেই একজন বেকার খুব সহজেই স্বাবলম্বি হতে পারে।

প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মাহফুজুর রহমান জানান, করোনাকালিন সময়ে পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্মের ক্ষতির হলেও মাংস উৎপাদনের জন্য যেসব গরুর খামার করা হয়েছিল তারা বড় কোন ক্ষতির মুখে পড়েনি। আমাদের খামারিদের যে কোন ধরনের সহযোগিতার জন্য সব সময় আমরা তৈরি থাকি।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট