• শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সজাগ প্রশাসন

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২  

বাল্যবিয়ে নামটার সঙ্গে শৈশব কৈশোরের একটা সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যাগুলোর মধ্যে বাল্যবিয়ে অন্যতম একটি। একসময় বাল্যবিয়ে বাংলাদেশের মহামারী আকার ধারণ করেছিল। জয়পুরহাট জেলার চিত্রও সারা দেশের মতোই। তবে, প্রশাসনের সচেতনতার কারণে জয়পুরহাট জেলায় এই সমস্যা কিছুটা কমে এসেছে।

জয়পুরহাট জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দেয়া তথ্য অনুযায়ি, ২০১৬ সালের জানুযারি হতে ২০২২ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত জযপুরহাট জেলায় মোট ৮৩টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ১৫টি, পঁঁাঁচবিবিতে ৮টি, আক্কেলপুরে ১৩টি, কালাই উপজেলায় ১১টি, ক্ষেতলালে ৩৬টি। চলতি বছর জেলায় ২১টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে।

করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুলবিমুখ হয়ে পড়ছে। বিশেষত মেয়ে শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার হার বাড়ছে, ফলে বেড়ে যাচ্ছে বাল্যবিয়েও। এমনিতেই বাল্যবিয়ের দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভের (বিডিএইচএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৭-১৮ সালে বাল্যবিয়ের হার ছিল ৫৯ ভাগ। কিশোরী মায়ের গর্ভধারণের হার ছিল ২৮ ভাগ। ২০১৪ সালে ছিল ৩১ ভাগ। কিš‘ করোনাকালে এ সংখ্যা বেড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা যায়, ২০১৯ সালের প্রথম ১০ মাসের তুলনায় ২০২০ সালের প্রথম ১০ মাসে বাল্যবিয়ে বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে ২০১৯ সালের তুলনায় ৭২ ভাগ শতাংশ বেশি বাল্যবিয়ে বন্ধ করাও সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় বাল্যবিয়ের সংখ্যাটা আরও বেড়ে যেত।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিদ্যালয় খুলতে দেরি হওয়ার সঙ্গে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাত, দুর্যোগ কিংবা মহামারির সময় বাল্যবিয়ের সংখ্যা বাড়ে। বাংলাদেশে ২০ শতাংশ মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, করোনার কারণে আরও ২৩ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে গেছে বলে অর্থনীতিবিদরা বলছেন।

তাই বাল্যবিয়ের ঝুঁঁকি এসময়ে অনেক বেশি। বাল্যবিবাহের যে সমস্ত কারণ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দরিদ্রতা, অশিক্ষা, সচেতনতার, প্রচলিত প্রথা ও কুসংস্কার, সামাজিক অস্থিরতা, যৌন নিপীড়ন, মেয়েশিশুর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, নিরাপত্তার অভাব, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, যৌতুক প্রথা এবং বাল্যবিবাহ রোধ-সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া। বাল্যবিয়ে কারণে অপরিণত বয়সে সন্তান ধারণ, মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য হানি, তালাক, পতিতাবৃত্তি, অপরিপক্ব সন্তান প্রসবসহ নানাবিধ জটিলতার শিকার হচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাবিনা সুলতানা বলেন, করোনাকালে স্কুল বন্ধ হওয়ার কারণে বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে সচেতনতা মূল্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় পূর্বের তুলনায় কিছুটা কম।

এছাড়াও তিনি উপজেলা পর্যায়ের উঠান বৈঠক, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমে, বিভিন্ন সভা সেমিনারে বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম করে থাকেন। বাল্যবিয়ে ক্ষতির কারণ। সে কারণে কেউ যেন বাল্যবিয়ের শিকার না হয় সে বিষয়ে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিককে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট