• মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে মেলা থেকে ২৫ কেজি ওজনের কাতলা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে জামাই

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২২  

জয়পুরহাটের কালাইয়ে বসেছে এক দিনের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) শহরের পাঁচশিরা বাজারে জমজমাট এ মেলা বসে। প্রতি বছরের অগ্রাহায়নের প্রথম সপ্তাহে এ মেলা বসে। অগ্রাহায়নে কৃষকের ঘরে ওঠে নতুন ধান। পিঠা-পায়েসসহ নানা আয়োজনে জামাই ও স্বজনদের নিয়ে পালিত হয় নবান্ন উৎসব। তাই জামাইদের নিয়ে বসেছে মাছের মেলা।

সীমান্ত ঘেঁষা জেলায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ভোররাত থেকেই মেলাজুড়ে ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। একশত বছর পূর্ব থেকে চলে আসা এ মেলায় নদী, দীঘি ও পুকুরের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা দেশিয় প্রজাতির মাছে ছিল ভরপুর। সকাল থেকেই ক্রেতারা ভিড় জমায় মেলায়।

মেলা থেকে জামাইরা মাছ কিনে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যান। তাইতো মেলার প্রতিটি দোকানে সাজানো হয়েছিল দেশিয় জাতের বোয়াল, রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, পাঙ্গাশ, ব্রিগেড, বাঘাইড়সহ নানা ধরনের মাছ।

মেলায় ২৫ কেজি ওজনের কাতলা মাছ বিক্রি হয়েছে ৩৭ হাজার টাকায়। সে মাছ নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান এক জামাই। এদিন আসলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বসে জেলার বৃহৎ মাছের মেলা। তবে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে মেলার জন্য প্রস্তুতি নেন। আশপাশের এলাকায় তারা মাইকে প্রচারও করেন।

মেলাকে কেন্দ্র করে পাঁচশিরা বাজারের বিভিন্ন আড়তে আশপাশের দীঘি, পুকুর, নদী থেকে নানান জাতের বড় মাছ সংগ্রহ করা হয়। মেলার দিন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উচ্চ মূল্যে এসব মাছগুলো কিনেন। এ বছর বোয়াল, রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, পাঙ্গাশ, ব্রিগেট, বাঘাইড়সহ তিন কেজি থেকে ২৫ কেজি ওজনের মাছ চোখে পড়েছে মেলায়।

মেলায় মাছ বিক্রেতা রেজাউল করিম বলেন, মেলায় পুকুর, দীঘি ও নদী থেকে নানা জাতের বড় মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। কাতলা, রুই, মৃগেল ৭শ থেকে ১৫শ টাকা কেজিতে এবং বাঘাইড়, বোয়াল ও চিতল মাছ ১৩শ থেকে দুই হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আর মাঝারি আকারের মাছ ৩৯০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

মেলায় মাছ কিনতে আসা পোরসা গ্রামের জামাই রুবেল হোসেন বলেন, মেলাকে ঘিরে শ্বশুর প্রতিবছর দাওয়াত করেন। আমি প্রতি বছরই মেলায় আসি। যেহেতু এ মেলা জামাই-মেয়ে নিয়ে আয়োজন করা হয়। সে কারণে মেলা থেকে মাছ কিনতে হয়। এবারও ১০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ কিনেছি। অন্য বছরের চাইতে এবার মাছের দাম একটু বেশি। তারপরও আনন্দ লাগছে।

কালাই বাইগুনি গ্রামের বাসিন্দা মুনীশ চৌধুরী বলেন, পুরোনো এ মেলাটি যেমন মাছের জন্য বিখ্যাত, তেমনি এ ধান-আলুতেও ভরপুর থাকে। ফলে এদিনের অপেক্ষায় মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনি ও আত্মীয়-স্বজনরা চেয়ে থাকেন।

কালাই উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছর এ মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মেলায় ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উঠেছে। বড় মাছ দেখে এলাকার চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। আজকের এ মেলায় কমপক্ষে ১ থেকে সোয়া কোটি টাকার মাছ বিক্রয় হবে। কালাই পৌরসভার মেয়র রাবেয়া সুলতানা বলেন, দেশিয় জাতের মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। মেলা উপলক্ষে এ জাতগুলো আবার ফিরে এসেছে।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট