• মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কালাইয়ের কৃষকরা

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২২  

জয়পুরহাট কালাই উপজেলায় আমন ধান কাটা ও ঘরে তোলা নিয়ে চলছে উৎসবের আমেজ। মৃদু মৃদু শীতল বাতাসে পাকা সোনালি আমন ধান দোল খাচ্ছে মাঠে মাঠে। পাকা ধানের গন্ধে কৃষকদের মনে এখন বইছে প্রফুল্লতা। উপজেলায় মাঠের পর মাঠ এখন সোনালী রঙে পাকা ধানে ভরে রয়েছে। পাকা ধান কাটতে হাতে কাচি নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

মাঠ থেকে নতুন ধান বাড়িতে তোলার জন্য খুশিতে আজ্ঞিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন কৃষাণীরা। এরই মধ্যে অনেকেই কাটা ও মাড়াইয়ের ধান বাজারে বিক্রিও শুরু করছেন। এ বছর কৃষকেরা প্রথম দিকে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় অনেক খুশি হলেও ধীরে ধীরে ধানের বাজার কমতে থাকায় উদ্বিগ্ন কৃষক।

কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদিত প্রতিটি ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষকেরা কৃষি চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে । এতে করে ফলে দেশ খাদ্য সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া ভাল থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ।

দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক রিপন বলেন, তিন বিঘা জমিতে স্বর্ণ-৫ ধান রোপন করেছি। রোগ বালাই তেমন না থাকায় ধান অনেক ভাল ফলন হয়েছে। তবে ধানের বাজার দিন দিন যেভাবে কমতে শুরু করেছে তাতে চিন্তা বাড়ছে। বাসিলাপাড়া গ্রামের তাজুল বলেন, ‘তিন একর জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। আশানুরূপ ফলনের চেয়ে এ বছর অনেক ভাল ফলন হয়েছে। এ ফলনে আমি অনেক খুশি।’

কৃষক উপজেলার জমিনপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমন ধান কর্তন করে জমিতে আলু লাগানোর জন্য গোবর নিয়ে যাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ ফলন খুব ভাল হয়েছে। নতুন ধান পেয়ে আমি আনন্দিত।’ তবে ধানের বাজার ঠিক রাখতে সরকারের যথাযথ নজর আশা করেন তিনি।

আলমগীর হোসেন বলেন, এ বছর আশানুরূপ ফলনের আশা করছি। যদি কৃষক তার প্রতিটি ফসলের সঠিক মূল্য না পান তাহলে ফসলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। সরকার অনেক কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারন করলেও কৃষক তার যথাযথ মূল্য পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এজন্য ধানসহ সরকারকে প্রতিটি ফসলের কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

উপজেলার নুনুজ বাজারের ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম ও জাহাঙ্গীর জানান, ধানের বাজার প্রথমে দিকে ভালো ছিল। তখন মিলারদের চাহিদাও ছিল বেশি। ধানের দাম কমে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিমনে ৩০-৪০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই আমন ধান কাটা চলছে। ধান কাটা প্রায় শেষ হয়েছে। অত্র অঞ্চলের কৃষক ধান কেটে আলুর চাষাবাদ করার জন্য দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর কৃষকেরা ধানের ভালো ফলন এবং দাম পাওয়ায় অনেক খুশি।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট