• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

আক্কেলপুরে আলু ও সরিষা চাষে ব্যস্ত কৃষক

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২২  

চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় প্রায় ১০হাজার হেক্টর জমিতে রবিশস্য আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগাম জাতের ধান কেটেই আলু-সরিষাসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে পারে।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৫হাজার ৭শত৩৫ হেক্টর আলু এবং ২ হাজার ২শত ৫০ হেক্টর সরিষা,  ১শত ৫ হেক্টর ভুট্টা,  ৯০ হেক্টর পেঁয়াজ, ৩০ হেক্টর মাসকালাই,  ১শত ২০ হেক্টর গম, ১৫ হেক্টর রসুন , ৫০ হেক্টর মরিচ,  ২০হেক্টর মসুর, ১ হেক্টর ধনিয়া, ৩০ হেক্টর মিষ্টু আলু, জমিতে বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ হচ্ছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ইতিমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটার পর কৃষকরা আলু, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, মসুর, গমসহ বিভিন্ন রবিশস্য রোপণ শুরু করেছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, গত মৌসুমে কৃষকরা সরিষা চাষ করে প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমি থেকে প্রায় ২২/২৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন। সেই লক্ষে আগাম জাতের ধান রোপণ করেছিলেন।

আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুল জলিল মন্ডল বলেন, গত মৌসুমে মাত্র এক বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছিলাম। এক বিঘা জমিতে ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। গত বছরের সরিষা আবাদে যে পরিমান লাভ হয়েছে তা দেখে এবার ৫বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। তিনি আরো বলেন, আলুর পাশাপাশি এবার দেড়বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করেছি।

উপজেলার রোয়ার গ্রামের কৃষক মোঃ আবু মুসা বলেন, এবার আড়াই বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি। এতে প্রতিবিঘাতে খরচ হয়েছে ২২থেকে ২৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘায় প্রায় ৬০ মন আলু পাওয়া যাবে।

উপজেলার গোপীনাথপুর ইউপির তেমারিয়া গ্রামের কৃষক রাশেদুল ইসলাম বলেন, গত বছর সরিষা চাষে যে লাভ হয়েছে এর আগে ধান আবাদ করে কোনভাবেই সম্ভব হয়নি । তাই এবার আগাম জাতের ধান রোপণ করেছিলাম। ধান কেটেই ৬ বিঘা জমিতে সরিষা রোপণ করছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন এবং দাম দুটোই ভাল পাওয়া যাবে ।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, এ মৌসুমে উপজেলায় আলু, সরিষা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, এবং মসুরকালাই সহ জমিতে বিভিন্ন রকমের রবিশস্য আবাদ করা হচ্ছে। ধানের ফলন এবং বাজারে সর্বোচ্চ দাম পেয়ে ধানেও প্রায় ১২থেকে ১৪ হাজার টাকা প্রতিবিঘা জমি থেকে লাভ করেছেন। বর্তমান সরকার কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে বিনামূল্যে রাসায়নিক সার, বীজসহ বিভিন্ন উপকরণ এবং আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন। তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা এবার ২০% অধিক অর্জিত হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষা ও আলুতে ভাল ফলন এবং কৃষকরা লাভবান হবেন। এক্ষেত্রে কৃষকদের কে কৃষক সমাবেশের মাধ্যমে পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট