• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৮ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে প্রথমবারের মতো বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষ

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩  

সাদা রঙের ফুলকপি খেতে অভ্যস্ত জয়পুরহাটের মানুষ এখন পাবেন রঙিন ফুলকপি। রঙ দেওয়া নয়, প্রাকৃতিকভাবেই বেগুনি রঙের এই ফুলকপির চাষ হচ্ছে জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। প্রথমবারেই বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক। চাহিদা বেশি হওয়ায় আগামী বছর আরও বড় পরিসরে বেগুনি ফুলকপি চাষ করার আশাবাদ এলাকার কৃষকের।

সাদা ফুলকপির সঙ্গে সচরাচর পরিচিত হলেও জয়পুরহাটে এবারই প্রথম চাষ করা হয়েছে বেগুনি রঙের ফুলকপি। জেলার সদর উপজেলার ভাদসা গুচ্ছগ্রাম এলাকার কৃষক আমেদ আলী ১৫ শতাংশ জমিতে এবার বেগুনি ফুলকপি চাষ করেছেন। বেগুনি রঙের ফুলকপি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও সুস্বাদু। তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর বেগুনি জাতের এই ফুলকপি গুলির দাম সাধারণ জাতের ফুলকপির চেয়ে চার গুণ বেশি। এই ফুলকপিগুলো দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন আমেদ আলীর ক্ষেতে।

কৃষি বিভাগ বলছে, ব্যাপক চাহিদা ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে সারা জেলায় নতুন জাতের এই বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের আব্দুল জলিল নামে এক কৃষক বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষের খবর পেয়ে এসেছিল ফুলকপি দেখতে। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বেগুনি রঙের ফুলকপি আগে নিজ চোখে দেখিনি। যখন জানতে পারলাম পাশের গ্রামে আমেদ আলী বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষ করেছে, তখনই ফুলকপি দেখতে চলে এলাম। চাষি আমেদ আলী থেকে বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষ সম্পর্কে জানলাম। আগামীতে আমিও এই রঙিন ফুলকপি চাষ করব আশা করছি।’

জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন দেখতে আসেন বেগুনি ফুলকপি। তাদেরই দু’জন মাসুদ রানা ও নাসির হোসেন। তারা জানান, এ ধরণের রঙিন ফুলকপি এর আগে কখনো দেখেননি।

কৃষক আমেদ আলী জানান, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশনের সমন্বিত কৃষি ইউনিটের দেওয়া বীজ নিয়ে বেগুনি রঙের নতুন জাতের এই ফুলকপি চাষ করেছেন। সাধারণ জাতের ফুলকপির মত এর ফলনও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ক্ষেত থেকে ২৫ হাজার টাকার বেগুনি ফুলকপি বিক্রি করেছেন। আরও ৬০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

আমেদ আলীর আরও জানান, সাধারণ সাদা জাতের ফুলকপি বাজারে ১০ টাকা পিস দরে বিক্রি হলেও তিনি এই ফুলকপি বেশি দামে অর্থাৎ ৬০ টাকা পিস বিক্রি করছেন। নতুন জাত ও দাম বেশি হওয়ায় আগামী মৌসুমে তিনি আরও বেশি জমিতে এই ফুলকপি চাষ করবেন।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কায়সার ইকবাল বলেন, ‘বেগুনি রঙের নতুন জাতের ফুলকপি চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন সদর উপজেলার ভাদসা গুচ্ছগ্রাম এলাকার কৃষক আমেদ আলী। প্রচলিত জাতের মতো তার ক্ষেতের রঙিন ফুলকপির ফলনও ভাল হয়েছে। বিষমুক্তভাবে এ বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষ করা হচ্ছে। পোকামাকড় দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ফেরোমন ফাঁদ। কৃষি বিভাগ এর চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে।’

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট