বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৪ || ১০ বৈশাখ ১৪৩১

প্রকাশিত: ০৫:২৮, ২৬ মে ২০২৩

জয়পুরহাটে আলু চাষে ভাগ্য ফিরল কৃষকের

জয়পুরহাটে আলু চাষে ভাগ্য ফিরল কৃষকের

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৪২ হাজার ৪শত ২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৭ হাজার ১ শ ৫০ হেক্টর পাঁচবিবি উপজেলায় ৭ হাজার ৫০ হেক্টর আক্কেলপুর উপজেলায় ৬ হাজার ৩শ হেক্টর ক্ষেতলাল উপজেলা ৮ হাজার ৮০ হেক্টর এবং কালাই উপজেলায় ১৩ হাজার ২ শ ৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

গত বছর আলুর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন। এবার ধরা হয়েছে ১১ লাখ মেট্রিক টন। ভালো ফলন ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকরা এবার উন্নত জাতের-এ্যারিস্ট্রিক, মিউজিকা, রোমানা, কার্ডিনাল, ডায়ামন্ড, লরা, ক্যারেজ,গ্যানোলা, লাল পাকরি এবং দেশি জাতের-পাকরি, পাহারি পাকরি, বট পাকরি, তেল পাকরি, ফাটা পাকরি, জাম আলু ও আগাম জাতের-ফ্রেস আলু সহ অন্যান্য জাতের আলু চাষ করেছে। রোপন মৌসুমে আলু বীজে উচ্চমূল্য হওয়ায় বিঘা প্রতি আলুতে এবার খরচ হয়েছে ১৫-২০হাজার টাকা এবং বিঘা প্রতি এবার উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৮০-৯০ মন। ভালো ফলন এবং বাজার দরে বেশ আনন্দিত আলু চাষীরা। এ অঞ্চলের চাষীরা এখন আলু তোলা উৎসবে মেতে উঠেছে। জমি থেকে আলু সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির করে যার পর নাই খুশি কৃষকের। বর্তমানে জাত ভেদে মন প্রতি আলুর বাজার দর চলছে ৪০০থেকে ৫০০ টাকা।জেলার কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ, মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট ও জিন্দারপুর ইউনিয়নের কৃষকরা এখন আলু তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জয়পুরহাট জেলার শিবসমুদ্র গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রথমে আলু বিক্রি করেছি ৭২০ টাকা মণে। পড়ে ৬৪০ টাকা। আর এখন বিক্রি করলাম জাত ভেদে ৪শ থেকে ৫শ টাকায়। এতেও আমার ভালো লাভ হয়েছে। আটিদাসরা গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, গত বছর ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। এবার করেছি ৫ বিঘাতে। এর মধ্যে ৪ বিঘার আলু তোলা শেষ। প্রতি বিঘায়১৮ হাজার টাকা করে লাভ হয়েছে। জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলালের কুড়লগাড়ি গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, ৬ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৭৫-৯০ মণ আলু উৎপাদন হয়েছে। আলু বিক্রি করেছি ৪৩০ টাকা মণ দরে । এতেই আমি খুব খুশি।

জয়পুরহাট উপজেলার কৃষক মুকুল হোসেন, খোসালপুর নওপাড়ার কৃষক তাজুল ইসলাম, থুপসাড়ার আব্দুল মোমিন, হাজীপাড়ার মোশাররফ, বালাইটের আব্দুল বাসেদসহ অনেকে জানান, ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার আশায় এবার তারা আলু চাষ করেছেন। কৃষকদের দাবি দেশের স্বার্থে সরকার আলুর ভালো দাম নিশ্চিত করবেন এবং বিদেশে আলু রপ্তানির জন্য এখন থেকেই উদ্যোগ নিবেন।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকরা জানান জেলায় আলু তোলা শেষের দিকে, গত বারের মতো এবারও জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা বিঘা-প্রতি লাভ করছেন ২০/২৫ হাজার টাকা। আলুর ফলন ভালো হওয়ায় এবার এ জেলায় উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স. ম. মেফতাহুল বারি জানান, আলুর বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের মাঝে নিয়মিত ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং উঠান বৈঠক করেছে। এছাড়া কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে জেলার পাঁচটি উপজেলায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এবার আবহাওয়া ছিল অনুকূলে, কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছে।

 

জাগ্রত জয়পুরহাট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়