শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪ || ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রকাশিত: ০৫:০২, ২৯ আগস্ট ২০২৩

জয়পুরহাটে বাড়ছে মাছের উৎপাদন

জয়পুরহাটে বাড়ছে মাছের উৎপাদন

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়ী হাটের বাসিন্দা সুজাউল ইসলাম সুজা মৎস্য চাষে সফলতার মুখ দেখছেন। ২০০০ সালে এসএসসি পাশ করার পর কোন চাকুরীর পেঁছনে না ছুটে নিজ উদ্যেগে একটি মাত্র পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। লাভ হওয়ায় প্রতি বছর পুকুরের সংখ্যা তিনি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তার মোট পুকুরের সংখ্যা ২৫টি। আর এসব মৎস্য খামারে বর্তমানে অর্ধ শতাধিক বেকার যুবক চাকুরি করছেন।

জানা যায়, কালাই উপজেলার মোলামগাড়ী হাটের বাসিন্দা আলহাজ্ব মোজাহার আলী প্রামাণিক ও রওশন আরা বেগম দম্পত্তির ছেলে কঠোর পরিশ্রমি সুজাউল ইসলাম সুজা বেকারত্বের অভিশাপে পুড়ছিলেন। এসএসসি পাশ করে কোন চাকুরীও জুটছিল না তার। এই অবস্থায় নিজে কিছু করে স্বাবলম্বী হওয়ার চিন্তা থেকেই মূলত একটি পুকুর লিজ নেয় তিনি। পরে ৫০ হাজার টাকা পুজি খাটিয়ে তিনি পুকুরের সংখা বাড়াতে থাকে। বর্তমানে তার ২৫টি পুকুরে রুই্, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস, শিং, পাবদা সহ বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এরই সফলতায় ইতো মধ্যেই তিনি কালাই উপজেলা পর্যায়ে ২০০৭, ২০১০ ও ২০১৯ সালে হয়েছেন শ্রেষ্ট মৎস্য চাষী। যে কারনে তিনি পেয়েছেন সম্মাননা ক্রেষ্ট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী।

জানা যায়, সফল মৎস্য চাষী সুজাউল ইসলামের সব খরচ বাদে বৎসরে আয় থাকে ১২/১৫ লাখ টাকা। যা থেকে থেকে তিনি সামাজিক দায়িদ্ববোধ হিসেবে এলাকার গরিব, অসহায় কন্যাদায় গ্রস্থ বাবাদের আর্থিক সহায়তা করে থাকেন। এছাড়াও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়ে তাদের দেখিয়েছেন আলোর পথ। এতে করে তার ব্যায় হয় ৪-৫ লাখ টাকার মতো।

সুজাউল ইসলামের এই সফলতা দেখে আশপাশের গ্রামের বেকার যুবকরা মৎস্য চাষের দিকে আগ্রহী হয়ে পড়েছে। শুধু মৎস্য চাষে নয় সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এলাকার ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। সফল মৎস্য খামারী সুজাবুল ইসলাম সুজা বলেন, ‘পোনা বিক্রি করে অধিক লাভবান হয়েছি। মাছ চাষ করে সংসার চালিয়ে বেশ ভালোই চলছে। বেকার যুবকদের চাকুরীর পেঁছনে না ঘুরে মৎস্য চাষে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষ করে ভাগ্যের চাকা বদলে দেয়া সম্ভব হবে। পুকুর না থাকলেও লিজ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী মাছ, মুরগী ও সবজি চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া অতীব সহজ। অদূর ভবিষ্যতে জয়পুরহাটে ব্যাপক আকারে মৎস্য হ্যাচারী প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

তার বিষয়ে জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, সফল মৎস্য চাষী সুজার দেখাদেখিতে এলাকার অনেক বেকার যুবক মৎস্য চাষে ঝুঁকেছেন। তার মৎস্য চাষে সফলতা দেখে আরো বেকার যুবকরা উদ্বুদ্ধ হবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাকিকুর রহমান দৈনিক তুলশীগঙ্গাকে জানান, সফল মৎস্য খামারী সুজাউল ইসলাম মৎস্য চাষে মৎস্য অফিস থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছেন। মাছ চাষে তিনি উপজেলা পর্যায়ে ৩বার পুরস্কার অর্জন করেছেন।

এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফাজ উদ্দীন দৈনিক তুলশীগঙ্গাকে জানান, এই উপজেলায় মৎস্য চাষ করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন সুজাউল ইসলাম। মৎস্য চাষে সফলতা অর্জনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি। বেকার যুবকরা তার মতো মাছ চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারে নি:সন্দেহে।

জাগ্রত জয়পুরহাট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ