শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ || ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১০:৫৩, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

আপডেট: ১৩:৪৯, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

পাঁচবিবিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

পাঁচবিবিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
সংগৃহীত

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শীতকালীন সবজি হিসেবে ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাম্পার ফলনের আশা করছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কৃষকেরা। কম সময় ও অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে ঝুঁকছেন এ উপজেলার চাষিরা।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পলি এলাকা আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের আয়মা জামালপুর, খাসবাট্টা, আগাইর, মালিদহ, ধরঞ্জী ইউনিয়নের শালুয়া, ধরঞ্জী রতনপুর, বাগজানা ইউনিয়নের খোর্দ্দা গ্রামের কৃষকরা ফুলকপি ও বাঁধাকপি রোপণ, নিড়ানি ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় নিনজা, হোয়াইট মার্বেল, থ্রি স্টার, সিমাকুজি ও স্নো হোয়াইট জাতের ৭০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও নরেশ, সেভেন্টিসহ অন্যান্য জাতের ৬০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ হয়েছে।

চাষিরা জানায়, জমি চাষ, বীজ, সার, সেচ শ্রমিক খরচসহ এবার প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে খরচ হচ্ছে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতি বিঘায় তিন হাজার থেকে তিন হাজার ২০০ পিচ চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের ৭০-৭৫ দিনেই ফুলকপি আর বাঁধাকপি বাজারজাত করা যায়। প্রতি পিস বাঁধাকপি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, আর প্রতি মণ ফুলকপি বিক্রি এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন প্রকার শীতকালীন সবজির দাম বেশি হওয়াই ফুলকপি ও বাঁধাকপির কদর বেড়েছে সবজি বাজারে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় বিক্রি করতেও ঝামেলা নেই চাষিদের। পাইকাররা জমি থেকেই এসব সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই সবজি অল্প সময়ে স্বল্প খরচেই চাষ করা সম্ভব। তাই কৃষকরা ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে ঝুঁকছেন।

উপজেলার খাসবাট্টা গ্রামের সফল সবজি চাষি মুক্তিযোদ্ধা সানোয়ার হোসেন এবার ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের বাঁধাকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আগাম বাঁধাকপি চাষ লাভজনক শীতকালীন সবজি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার একটু দেরিতে চারা রোপণ করায় সময়মতো উত্তোলন করতে পারিনি। তবে অচিরেই বাজারে বাঁধাকপি তুলতে পারব।

একই গ্রামের কৃষক বেলাল হোমেন বলেন, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার প্রতিবিঘা জমিতে চারা রোপণে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একই জমিতে গত বছর খরচ হয়েছিল ৭ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। খরচ বাদে বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ হবে। উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের ফুলকপি চাষি হাজেরা বিবি বলেন, বাজারে এখন ফুলকপি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফর রহমান বলেন, বাঁধাকপি একটি উচ্চফলনশীল জাতের সবজি। কৃষকেরা আগাম চাষাবাদ করে ভালো দাম পাচ্ছে। নিরাপদ স্বাস্থ্য সম্মত শাকসবজি উৎপাদনে পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি বিভাগ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগামীতে এ সবজি উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়