সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪ || ২০ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৩:২৯, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কালাইয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ

কালাইয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ
সংগৃহীত

আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের একটি বিশেষ নাম সমলয়। এ পদ্ধতিতেষের ফলে কৃষিতে যুগান্তকারী উন্নতি সূচিত হয়েছে। নতুন এ চাষাবাদ পদ্ধতি কৃষকের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। 

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের কাথাইল গোপিনাথপুর গ্রামের মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে ৫০ একর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণের উদ্বোধন করা হয়েছে । 

এর আগে কালাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কৃষি অফিসার এনামুল হক। অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কালাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ জুয়েল হোসেন, আহাম্মেদাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলী আকবর মন্ডল, জেলা কৃষি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন কালাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান। 

এ সময় প্রধান এনামুল হক অতিথি বলেন, কৃষিপ্রণোদনার আওতায় সমলয় চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা ও খরছ কমানোই মূল উদ্দেশ্য। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে এক যোগে মাঠভিত্তিক সব কৃষকের ফসল উৎপাদন করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, মানুষ বাড়লেও বাড়ছে না কৃষি জমি। তাই স্বল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন করে মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এমন উদ্যোগে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে।  আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের কৃষকরা ট্রে ও পলিথিনে বীজতলা তৈরি করছিলেন। সেই বীজের চারা দিয়ে রোপণ করা হচ্ছে সমলয়ে চাষাবাদের ১৫০ বিঘা জমিতে।

কালাই কৃষি অফিস সূত্র জানায় , সর্বাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উচ্চ ফলনশীল একই জাত ব্যবহার, ট্রে-তে বীজ বপন, কম বয়সের চারা রোপণ, চারা রোপণে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহার, সুষম সার ব্যবহার, ধান কর্তনে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো, উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করা ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ভরা মৌসুমে ধান কর্তনকালে কৃষি শ্রমিকের সংকটের সমাধানে সমলয় চাষাবাদ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।  

কালাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  কৃষি অফিসার অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, চারার উচ্চতা চার ইঞ্চি হলে বা চারার বয়স ২০-২৫ দিন হলে তা জমিতে রোপণ করার উপযোগী হয়। ট্রে-তে চারা উৎপাদনে জমির অপচয়ও কম। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। ফলে ফলনও বাড়বে। রোপণ করায় ধান একসঙ্গে পাকবে ও কৃষকরা তা ঘরেও তুলতে পারবেন।

কালাই উপজেলা অফিসার নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত কৃষকদের ভুল কীটনাশক স্প্রে করার কারণে অনেক কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এই কাজটি আমরা কখনোই করব না। প্রয়োজনের সরাসরি কৃষি অফিসার কে ফোন দেবেন। কৃষি অফিসার ওই সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি অফিসার কে আপনার কাছে পাঠিয়ে দেবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা দেওয়ার জন্যই আমাদের অফিসাররা আছেন। কৃষকদের এ রকম নানামুখী পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়