• রোববার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১১ ১৪২৮

  • || ১৮ সফর ১৪৪৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

রাসূল (সা.) যেসব স্থানে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

আল্লাহ তায়ালার অন্যতম ইবাদত নামাজ। ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নামাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে বার বার নামাজের তাগিদ পেয়েছেন। কোরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আল্লাহ তাআলা পুরো জমিনকে নামাজের জন্য পবিত্র করেছেন মর্মে হাদিসে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবী। কিন্তু তারপরও কিছু স্থানে তিনি নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। সেসব স্থান কোনগুলো?

দুনিয়াজুড়ে সব জায়গায় নামাজ পড়া প্রসঙ্গে হাদিসে পাকে প্রিয় নবী ঘোষণা করেন-
হজরত আবু যার (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার জন্য (অর্থাৎ আমার উম্মাতের জন্য) সমগ্র জমিনকে পবিত্র এবং মসজিদ (সাজদার স্থান) বানানো হয়েছে।’ (আবু দাউদ)

তবে যেসব স্থানে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন বিশ্বনবী, একাধিক হাদিসের বর্ণনায় তাও ওঠে এসেছে-

১. হজরত আবু সাঈদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শুধু গোসলখানা ও কবরস্থান ছাড়া সমগ্র জমিনই মসজিদ (তথা নামাজের স্থান হিসেবে গণ্য)।’ (আবু দাউদ)

২. হজরত আল-বারাআ ইবনু আজিব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কে উটের আস্তাবলে নামাজ আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তোমরা উটের আস্তাবলে নামাজ আদায় করবে না। কারণ তা শয়তানের আড্ডাখানা। রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বকরীর খোঁয়াড়ে নামাজ আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘সেখানে নামাজ আদায় করতে পার। কারণ তা বারকাতময় প্রাণী (বা স্থান)।’ (আবু দাউদ)

৩. তবে দুর্বল সনদে আরও কিছু স্থানের বিবরণও ওঠে এসেছে; যেখানে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন বিশ্বনবী। তাহলো-

হজরত আবু সালিহ আল-গিফারি (রাহ.) বর্ণনা করেন, কোনো এক সফরে হজরত আলি (রা.) ‘বাবিল’ নামক শহর অতিক্রমকালে তার কাছে মুয়াজ্জিন এসে আসরের নামাজের আজান দেওয়ার অনুমতি চায়। কিন্তু তিনি মুয়াজ্জিনকে ‘বাবিল’ শহর থেকে বেরিয়ে ইকামাত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। মুয়াজ্জিন ইক্বামত দিলে তিনি নামাজ আদায় করলেন এবং নামাজ শেষে বললেন-

‘আমার প্রিয় বন্ধু নবী (সা.) আমাকে কবরস্থানে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে আমাকে ‘বাবিল’-এর জমিনে নামাজ আদায় করতেও নিষেধ করেছেন। কারণ তা অভিশপ্ত জমিন।’ (আবু দাউদ)

হাদিসের আলোকে উল্লেখিত স্থান ছাড়াও আরও কিছু স্থানে নামাজ পড়া যাবে না। সেগুলো হলো-
১. ময়লা-আবর্জনার স্থান বা অন্ধকার কুপ। যেখানে ঝাড়ু কিংবা পরিষ্কার করার পরও নাপাকি থেকে যাবে। অপবিত্র জায়গায় নামাজের জন্য উপযুক্ত নয়।

২. কসাইখানা। যেখানে পশু জবেহ করা হয়। রক্ত ও ময়লা দ্বারা যে স্থান দুষিত ও অপবিত্র হয়; সে স্থানও নামাজের জন্য উপযুক্ত নয়।

৩. কবরস্থানে নামাজ পড়া যাবে না। তবে জানাজা পড়া যাবে। এ সম্পর্কে হাদিসে পাকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এসেছে।

৪. মানুষের চলাচলের রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে না। যেখানে নামাজ পড়লে মানুষের চলাচলে অসুবিধা হয়। কিংবা মানুষের পথ চলায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। যে কারণে নামাজি ব্যক্তি নামাজে বিভ্রান্তির শিকার হয়। তবে জুমার নামাজের জন্য যদি পথচারী চলাচল বন্ধ থাকে তবে সেখানে জুমা পড়া যেতে পারে।

৫. গোসলখানা বা বাথরুম। এটি গোসল, অজু ও পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্ধারিত স্থান বলে বিবেচিত। এতে নামাজ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো- এখানে শয়তান আশ্রয় নেয়।

৬. উটের (আস্তাবল) আশ্রয়স্থল। যেখানে উট রাখা হয়। এ স্থানে নামাজ পড়ার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে।

৭. কাবা শরিফের উপরে বা ছাদে নামাজ পড়া যাবে না। কারণ এখানে কেবলার দিক নেই। আবার কিছু অংশ থাকলেও কিছু অংশ বাদ পড়ে যায়। এ কারণেই ইসলামিক স্কলাররা কাবা শরিফের উপরে তথা ছাদে নামাজ পড়া যাবে না মর্মে মত দিয়েছেন।

৮. দখলকৃত জমিতে নামাজ পড়া যাবে না। অবৈধভাবে কারো জমি দখল করে সেখানে নামাজ পড়াও নিষিদ্ধ।

৯. ‘বাবিল’ নামক অভিশপ্ত নগরী। কিংবা যেসব স্থানকে অভিশপ্ত বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে; সেসব স্থানেও নামাজ পড়া যাবে না মর্মে হাদিসের দুর্বল বর্ণনায় ওঠে এসেছে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, হাদিসে উল্লেখিত এ স্থানগুলো ছাড়া নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদ না থাকলেও নামাজ আদায় করে নেয়া। নামাজের ওয়াক্তের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে যথাসময়ে নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট