• শুক্রবার   ২১ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৮ ১৪২৮

  • || ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

বৃক্ষরোপণে সদকার সওয়াব

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২২  

গাছ লাগানো ও কৃষকের জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক উৎসাহ দেয় ইসলাম। মহানবী (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি গাছ লাগায় বা কোনো ফসল আবাদ করে, এরপর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু কিছু খায়, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (বুখারি: ২৩২০)

আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বর্ণনার ক্ষেত্রে হাদিসটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এ হাদিসে মহানবী (সা.) উম্মতকে গাছ লাগানো ও কৃষিকাজ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। কারণ, মানুষ এ কাজের মাধ্যমে নানাভাবে উপকৃত হয়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের খাদ্য-কাপড়-ঘরের প্রয়োজন হয়। গাছ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেই প্রয়োজন পূরণ করে। গাছ থেকে খাদ্য, ওষুধ, পোশাক, কাঠ, ফল ইত্যাদি উৎপাদিত হয়। এর মাধ্যমে মানুষ আর্থিক সচ্ছলতা লাভ করে। পাশাপাশি পরিবেশের সুরক্ষায় গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি, জলবায়ুর উষ্ণতা রোধ, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি রোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রেও গাছপালার অবদান অনস্বীকার্য।

এসব নেয়ামত ও উপকার লাভে উৎসাহ প্রদান করতেই মহানবী (সা.) গাছ লাগানোর প্রতি জোর দিয়েছেন।হাদিস থেকে এও বোঝা যায় যে, গাছ লাগানোর মাধ্যমে মানুষ পার্থিব লাভের পাশাপাশি পরকালীন কল্যাণও লাভ করে। কেননা, পশুপাখি, জীবজন্তু ও কীটপতঙ্গ নানা ধরনের ফলমূল ও খেতের ফসল খেয়ে জীবনধারণ করে। এতে বৃক্ষরোপণকারী ও সফল আবাদকারী ব্যক্তি সওয়াব লাভ করবে। ওই ফল-ফসল সদকা করে দিলে যে সওয়াব হতো, পশুপাখি বা মানুষের খাওয়ার ফলে আল্লাহ তাআলা তার আমলনামায় সে পরিমাণ সওয়াব লিখে দেবেন। ফলে সে নিজের অজান্তেই অনেক সওয়াবের অধিকারী হয়ে যায়। 

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট