• বুধবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৯

  • || ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাগ্রত জয়পুরহাট

ইতিহাসের পাতায় সুউজ্জ্বল পাঁচ কিশোর সাহাবি

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২  

সম্মানিত সাহাবিরা উম্মাহর শ্রেষ্ঠ মানুষ। সত্য ও ন্যায়ের মাপকাঠি। কেয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য তাঁরা অনুসরণীয়। সাহাবায়ে কেরামের অসামান্য মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে কোরআন ও হাদিসে। সাহাবিদের ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা-  ‘আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।’ (সুরা বাইয়িনা: ৮)

ইসলামের পথে মহানবীর (স.) আহবানে সর্বশ্রেণির মানুষ সাড়া দেয়। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু, কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধ সবাই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এমন পাঁচ কিশোরও ছিলেন, যাঁরা ইতিহাসে অনন্য মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন। নিচে তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

জায়েদ বিন সাবিত (রা.)
মাত্র ১১ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন জায়েদ বিন সাবিত (রা.)। তিনি একাধিক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। মহানবী (স.) তাঁকে ওহি লিপিবদ্ধ করার কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চাইলেও নবীজি (স.) বয়স অল্প হওয়ার কারণে তাঁর আবেদন গ্রহণ করেননি। কিন্তু উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন। কোরআন ও কোরআনের পাঠসংক্রান্ত জ্ঞানে তাঁর পাণ্ডিত্যের জন্য তাঁকে কোরআন সংকলন কমিটির প্রধান নিযুক্ত করা হয়। জায়েদ বিন সাবিত (রা.) ছিলেন মদিনার প্রধান কারি ও মুফতি। ৪৫ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। 

তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.)
পৃথিবীতে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের একজন তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.)। তিনি আবু বকর (রা.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। ছিলেন ইসলামগ্রহণে অগ্রগামী সাহাবিদের একজন। ইসলামগ্রহণের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর মৃত্যুর সময় যে ছয়জনকে পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য পরামর্শক নিযুক্ত করেছিলেন, তালহা (রা.) ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তিনি বদর ছাড়া নবীজি (স.)-এর নেতৃত্বে সংঘটিত সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। উহুদ যুদ্ধে নবীজি (স.)-কে রক্ষার জন্য নিজের শরীর দ্বারা আড়াল তৈরি করেন। ৩৬ হিজরিতে তিনি শহীদ হন।

আরকাম ইবনে আবিল আরকাম (রা.)
আরকাম ইবনে আবিল আরকাম (রা.) ছিলেন ইসলামগ্রহণে অগ্রগামী সাহাবিদের একজন। কারো মতে, তিনি ১২তম পুরুষ হিসেবে ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। ১৬ বছর বয়সে তিনিও আবু বকর (রা.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। হিজরতের আগে মহানবী (স.) তাঁর বাড়িতে সাহাবিদের দীন শেখাতেন। হিজরতের পর তিনি মহানবী (স.)-এর সঙ্গে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ৫৫ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং সাআদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) তাঁর জানাজা নামাজের ইমামতি করেন।

জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.)
জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.) ১৫ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনিও পৃথিবীতে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়াদের একজন। জুবায়ের (রা.) ইসলামের জন্য প্রথম তরবারি উন্মুক্ত করেন এবং ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর ও যোদ্ধা ছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সঙ্গে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ওমর (রা.) তাঁকেও পরামর্শক নিযুক্ত করেন। মহানবী (স.) তাঁকে নিজের হাওয়ারি (সহচর) আখ্যা দেন। ৩৬ হিজরিতে তিনি শহীদ হন।

মুয়াজ ইবনে আমর (রা.)
মুয়াজ ইবনে আমর (রা.) মাত্র ১৩ বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। এই সাহাবি তাঁর ভাইয়ের সহযোগিতায় বদর যুদ্ধের সময় আবু জেহেলকে হত্যা করেন এবং উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। (সূত্র: উসদুল গাবাহ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাহবিদের জীবনী থেকে শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট