শুক্রবার   ২৪ মে ২০২৪ || ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

প্রকাশিত: ০৫:৫৯, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ঈমানের দুর্বলতম স্তর কোনটি, মহানবী যা বলেছেন

ঈমানের দুর্বলতম স্তর কোনটি, মহানবী যা বলেছেন

ঈমানের অর্থ হলো, আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকারোক্তি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল। ঈমানের বিষয়টি যেহেতু অন্তরের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত তাই তা বাড়বে ও কমবে এটিই স্বাভাবিক। কারণ অন্তরের বিশ্বাসেরও তারতম্য হয়ে থাকে।

এ জন্যই হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখান আপনি কিভাবে মৃতকে জীবিত করেন। আল্লাহ বললেন, তুমি কি বিশ্বাস করো না? হজরত ইবরাহিম (আ.) বললেন, বিশ্বাস তো অবশ্যই করি; কিন্তু আমার অন্তর যাতে পরিতৃপ্ত হয় এ জন্য আমি স্বচক্ষে দেখতে চাই। ’ -(সূরা বাকারা, আয়াত, ২৬০)

কাজেই অন্তরের বিশ্বাস এবং তার স্থিরতা ও প্রশান্তির দিক থেকে ঈমান বৃদ্ধি পায়। মানুষ তার অন্তরে এটা সহজে অনুভবও করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, মানুষ যখন ইসলামি অনুষ্ঠান বা ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত হয়ে জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা শুনে, তখন তার ঈমান বাড়ে। এসবের আলোচনায় মনে হয়, সে যেন জান্নাত- জাহান্নাম স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছে। পরে সে যখন মজলিস থেকে উঠে যায়, তখন গাফলতি চলে আসে এবং এ বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমতে থাকে।  

ভালো কাজ করলে ঈমান বাড়ে আর গুনাহের কাজ করলে ঈমান কমে। কারণ, গুনাহের মাধ্যমে অন্তরে এবং ঈমানের ওপর বিরাট প্রভাব পড়ে। মানুষকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা ঈমানের অঙ্গ। ভাল কাজের আদেশ করা ও মন্দ কাজের নিষেধ করা ওয়াজিব।

অন্যায়ের প্রতিবাদ করা না করার সঙ্গে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানের স্তর কম বেশির তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ কোনো অন্যায় দেখলে সে যেন তা তার হাত দিয়ে বাধা দেয় আর যদি হাত দিয়ে বাধা না দিতে পারে তবে যেন মুখ দিয়ে বাধা দেয়, আর যদি মুখ দিয়ে বাধা না দিতে পারে তবে যেন অন্তর দিয়ে বাধা দেয়, (ঘৃণা করে) আর এটি হলো দুর্বল ঈমানের পরিচয় (ঈমানের দুর্বলতম স্তর)।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস, ৪৯)

জাগ্রত জয়পুরহাট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ