বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ || ১১ বৈশাখ ১৪৩১

প্রকাশিত: ১৭:২৪, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর রমজানের প্রস্তুতি

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর রমজানের প্রস্তুতি
সংগৃহীত

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদিসে ৩ ধরনের লোকের ভাগ্যকে দুর্ভাগ্য বলেছেন। তাদের মধ্যে আছে তারা, যারা রমজান মাস পেয়েও নিজেদের গুনাহ মাফ করাতে পারল না।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে আছে, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের পথপ্রদর্শক ও সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন। এবং ন্যায় ও অন্যায়ের মীমাংসারূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। অতএব তোমাদের মধ্যে যে-কেউ এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে অবশ্যই রোজা রাখে। আর যে রোগী বা মুসাফির তাকে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না, যাতে তোমরা নির্ধারিত দিন পূর্ণ করতে পার ও তোমাদেরকে সৎ পথ পরিচালিত করার জন্য আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করতে পার, আর তোমরা কৃতজ্ঞ হলেও হতে পার’। (সূরা: আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে বরকত লাভের দোয়া পড়ার পাশাপাশি রমজানের প্রস্তুতি উপলক্ষে বেশি বেশি রোজাও রাখতেন।

শাবান মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বেশি পরিমানে নফল রোজা রাখার বিষয়ে এক হাদিসে উসামা বিন জায়েদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, ‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছি, হে আল্লাহর রাসূল! শাবান মাসে আপনি যেভাবে রোজা রাখেন, সেভাবে অন্য কোনো মাসে রোজা রাখতে আমি আপনাকে দেখিনি।

রাসূলুলুল্লাহ (সা.) বলেন, রমজান ও রজবের মধ্যবর্তী এ মাসের ব্যাপারে মানুষ উদাসীন থাকে। এটা এমন মাস, যে মাসে বান্দার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। আমি চাই, আল্লাহর কাছে আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ করা হোক, যখন আমি রোজাদার’। (নাসাঈ, হাদিস, ২১৭৯)

আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) একাধারে (এত বেশি) সাওম পালন করতেন যে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সাওম পরিত্যাগ করবেন না। (আবার কখনো এত বেশি) সওম পালন না করা অবস্থায় একাধারে কাটাতেন যে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর (নফল) সাওম পালন করবেন না। আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে রমজান ছাড়া কোনো পুরো মাসের সাওম পালন করতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে কোনো মাসে অধিক (নফল) সাওম পালন করতে দেখিনি। (বুখারি, হাদিস: ১৯৬৯)

হাদিসের আলোকে শাবান থেকেই রমজানের বরকত লাভের জন্য আমল শুরু করতেন পূর্ববর্তী বুজুর্গ ব্যক্তি বা সালাফে সালেহীনগণ। শাবান মাস এলে রমজানকে স্বাগত জানানোর তৎপরতা বেড়ে যেতো তাদের। পূর্বসূরী অনুসরণীয় ব্যক্তিরা যে পদ্ধতিতে রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। এখাতে সেই পদ্ধতি ও ধরণ তুলে ধরা হলো-

> গুনাহ পরিহারে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া।
> কোরআনের তেলাওয়াত বৃদ্ধি করা।
> পুষ্টিকর খাবার খেয়ে শরীরে শক্তি যোগানো।
> জাকাত আদায় করা। 
>  বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। 
> রমজান ও রোজা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল ও কোরআন-হাদিসের বিধি-নিষেধ পুনঃপাঠের মাধ্যমে ভালোভাবে আয়ত্ব করে নেওয়া। 
> গুরুত্বসহকারে বেশি বেশি দোয়া করা। 
> নফল ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

উল্লেখ্য, আর মাত্র কিছু দিন পরই পবিত্র মাহে রমজান শুরু হবে। তাই এখন থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। যেভাবে নবী মোহাম্মাদ (সা.) প্রস্তুতি নিয়েছেন।

ইয়া আল্লাহ! সব মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র মাহে রমজান মাসের প্রতিটি ইবাদত বন্দেগীর জন্য যথাযত প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়